ঢাকা, রোববার 27 November 2011, ১৩ অগ্রহাহণ ১৪১৮, ০১ মুহাররম ১৪৩৩
Online Edition

কিষেণজি হত্যার প্রতিবাদে পশ্চিমবঙ্গে ২ দিনের হরতাল সুচিত্রাকে খুঁজছে পুলিশ

রেডিও তেহরান : ভারতের পশ্চিমবঙ্গের শীর্ষ মাওবাদী নেতা কিষেণজি হত্যার প্রতিবাদে দু'দিনের হরতাল ডেকেছে মাওবাদীরা। শুক্রবার সংগঠনটির রাজ্য সম্পাদক আকাশ স্থানীয় মিডিয়ায় এ হত্যার প্রতিবাদে একটি বিবৃতি পাঠান। ওই বিবৃতিতে শনিবার ও রোববার হরতালের কথা বলা হয়েছে। এতে আরো বলা হয়েছে, কিষেণজি হত্যার প্রতিবাদে এক সপ্তাহজুড়ে রাজ্যের সবজায়গায় বিক্ষোভও দেখাবে মাওবাদীরা।

পশ্চিমবঙ্গে রাজ্যের বুড়িশাল গ্রামে এক বন্দুকযুদ্ধে চার সঙ্গীসহ নিহত হন মাওবাদী নেতা কিষেণজি। তার লাশ বর্তমানে ঝাড়গ্রামের একটি হাসপাতালে রাখা হয়েছে। কিষেণজির মৃত্যুর সংবাদ শুনে ক্যান্সারে আক্রান্ত তার মা মারাত্মকভাবে ভেঙে পড়েছেন। অন্ধ্র প্রদেশের করিমনগর জেলায় তিনি বসবাস করেন। ১৯৭৪ সালে কিষেণজি আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে যাওয়ায় পর থেকে তিনি তার ছেলেকে আর দেখননি। এদিকে, ভূয়া এনকাউন্টারে কিষেণজিকে হত্যার অভিযোগ করেছে তার পরিবার। এ হত্যার বিরুদ্ধে মামলার হুমকি দিয়েছেন ভারতের প্রখ্যাত লেখক ভারভারা রাও। তিনি কিষেণজির লাশ কোলকাতায় আনারও দাবি জানিয়েছেন। তিনি অন্ধ্র প্রদেশ থেকে কিষেণজির ভাইঝি দিপার সঙ্গে কোলকাতায় আসছেন। তারা দু'জন কিষেণজির লাশ আনুষ্ঠানিকভাবে শনাক্ত করবেন। তারা কটেশ্বর রাও ওরফে কিষেণজি হত্যাকান্ডে আদালতে মামলা করতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে। দীপার দাবি, তার কাকাকে (কিষাণজি) ভুয়া এনকাউন্টারে হত্যা করা হয়েছে। যৌথবাহিনীর এ হামলার ঘটনায় দেশে মানবাধিকার চরমভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন দীপা। এ ঘটনায় দীপা ও ভারভারা রাও জনমত তৈরির উদ্যোগ নেবেন বলে ঘোষণা করেছেন।

অন্যদিকে, জঙ্গলমহল থেকে যৌথবাহিনী প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা সমিতি বা এপিডিআর নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। হত্যাকান্ডের পর কলকাতায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন। এ ছাড়া, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যজুড়ে সতর্কাবস্থা জারি করা হয়েছে। কিষেণজিকে হত্যার পর এখন মাওবাদী গেরিলা দলের নারী নেত্রী সুচিত্রা মাহাতোকে ধরার জন্য যৌথ নিরাপত্তা বাহিনী হন্যে হয়ে খুঁজছে। এ জন্য পশ্চিম মেদিনিপুরের বুড়িসোল জঙ্গলে যৌথবাহিনী ব্যাপক অভিযান চালিয়েছে। এনকাউন্টারে কিষেণজি হত্যার ঘটনায় সুচিত্রা পালিয়ে জীবন বাঁচাতে সক্ষম হয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে- ওই ঘটনায় তিনি এবং আরো কয়েকজন মাওবাদী গেরিলা আহত হয়েছেন। জঙ্গল এলাকা এখন যৌথ বাহিনী ঘেরাও করে রেখেছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ