ঢাকা, বুধবার 15 February 2012, ৩ ফাল্গুন ১৪১৮, ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৩
Online Edition

দিনাজপুরে ফসলি জমিতে ইটভাটায় অবাধে কাঠ পোড়ানো হচ্ছে

নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) সংবাদদাতা : ইট পোড়ার মওসুমে পরিবেশ অধিদফতরের কতিপয় কর্মকর্তা ও ভাটা মালিকদের যোগসাজশে হাতিয়ে নিচ্ছে উপরি অর্থ। দিনাজপুরের ৩ ফসলি উর্বর জমির মাটি জ্বলছে ইট ভাটায়। পরিবেশ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে মান্ধাতা আমলের ড্রাম চিমনি ও ফিক্সট চিমনি ইটভাটায় প্রযুক্তির যুগে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পরিবেশ অধিদফতরের নিষেধাজ্ঞাকে উপেক্ষা করে দিনাজপুর জেলার ১৩টি উপজেলায় গ্রাম-গঞ্জ উপজেলা সদরে ব্যাঙ-এর ছাতার মতো গড়ে উঠেছে শত শত ইটভাটা। জানা গেছে, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি হাওয়া ইটভাটা স্থাপনের সিদ্ধান্ত হলে এ আইনকে উপেক্ষা করে জেলায় এখনও চলছে অবৈধ ড্রাম চিমনি ও ফিক্সট চিমনির ইটভাটা। এতে যেমন একদিকে বছরে হাজার হাজার হেক্টর ৩ ফসলি জমির উর্বর মাটি ইটভাটায় জ্বলছে এবং অপরদিকে উৎপাদন ক্রমশ কমে যাচ্ছে। ড্রাম চিমনি ভাটাগুলো অবাধে পুড়ছে কাঠ। ভাবে ফলে জেলার হাজার হাজার টন বিভিন্ন প্রজাতির গাছ খড়ি হিসাবে ব্যবহার করে পুড়ছে ইটভাটায়। এর ফলে পরিবেশ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সরেজমিনে গেলে উৎপাদনমুখী কৃষকরা জানায়, ভাটা মালিকরা বিঘা প্রতি ২/৩ হাজার টাকা চুক্তিতে কৃষি ধানি জমির মাটি ক্রয় করে ইটভাটায় নিয়ে যাচ্ছে। এদিকে বিরামপুর, নবাবগঞ্জ, হকিমপুর, ঘোড়াঘাট, ফুলবাড়ী, পার্বতীপুর, চিরির বন্দর, কাহারোল, বীরগঞ্জ, বিরল এলাকায় শতাধিক অবৈধ ইটভাটা। কাগজপত্র ছাড়াই ও জেলা প্রশাসনের অনুমতি ছাড়াই স্থা্নীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে প্রকাশ্যে দিনের বেলায় ইটভাটা গড়ে উঠছে। এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. মো. আবুল কালাম আজাদ-এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমি এ বছর প্রযুক্তি হাওয়া ভাটার জন্য জমির শ্রেণীভেদে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছি। তিনি আরও জানান, যেখানে সেখানে কৃষি প্রধান দেশে অবৈধ ইটভাটা স্থাপন কৃষি ফসল উৎপাদনে বাধা সৃষ্টি করবে। এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আব্দুল মোতালেব সরকারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এ বছর পরিবেশ অধিদফতরের নিয়ম অনুয়ায়ী নবাবগঞ্জ উপজেলায় পরিবেশবান্ধব ৫টি হাওয়া ইটভাটা স্থাপন করা হয়েছে। হাওয়া ইটভাটা মালিক দারিয়া গ্রামের আঃ রউফ মন্ডল বলেন, আমরা লাখ লাখ টাকা ব্যয় করে পরিবেশবান্ধব ভাটা করেছি। কিভাবে ড্রাম চিমনি ব্যবহার করে ভুয়াভাবে ভাটা পরিচালনা করে লাখ লাখ টাকা উপার্জন করছে অবৈধ ইটভাটার মালিকরা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ