ঢাকা, বুধবার 15 February 2012, ৩ ফাল্গুন ১৪১৮, ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৩
Online Edition

উখিয়ার ইনানী সৈকতে শামুক-ঝিনুক আহরণের মহোৎসব

কমরুদ্দিন মুকুল, উখিয়া : উখিয়ার বিস্তীর্ণ সমুদ্র উপকূলীয় এলাকা জুড়ে চলছে শামুক-ঝিনুক আহরণের মহোৎসব। একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট নিষিদ্ধ শামুক-ঝিনুক আহরণ করে সমুদ্রপথে ট্রলারযোগে পাচার করছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। প্রতিদিন অসংখ্য শিশু-কিশোর, যুবক-যুবতী বস্তাভর্তি শামুক-ঝিনুক উত্তোলনের ফলে মারাত্মকভাবে পরিবেশ বিপর্যয়ের আশংকা দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি উখিয়া থানা পুলিশ ইনানী চ্যানেলের মো. শফির বিল উপকূলে আটকেপড়া ৫০ বস্তা ঝিনুক শামুকসহ একটি ট্রলার আটক করেছে।

সূত্রে জানা যায়, পরিবেশ অধিদফতর দেশের উপকূলীয় ও জলাভূমির জীব-বৈচিত্র্য রক্ষার্থে উখিয়ার সোনারপাড়া, নিদানিয়া, ইনানী, রূপপতি, বাইলাখালী, চেংছড়ি, মাদারবনিয়া, মোহাম্মদ শফির বিল, ছেপখালী ও মনখালীসহ দীর্ঘ ৩২ কিলোমিটার উপকুলীয় এলাকাকে পরিবেশ সংকটাপন্ন এলাকা হিসাবে চিহ্নিত করে ঝিনুক-শামুক আহরণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। এলাকার একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট সরকারি বিধিনিষেধের তোয়াক্কা না করে শামুক-ঝিনুক আহরণ অব্যাহত রাখায় পরিবেশের দিন দিন অবনতি ঘটছে। পরিবেশবিদের মতে, উপকুলীয় এলাকা থেকে শামুক-ঝিনুক উত্তোলন করা হলে যে কোন সময় জলোচ্ছবাস ও সিডরের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের আঘাতে উপকূলীয় জনপদ তলিয়ে যাওয়ার আশংকা রয়েছে। তাই পরিবেশ বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য বন ও পরিবেশ অধিদফতর নতুন আইন প্রণয়নসহ কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করলেও তা বাস্তবায়নের কোন ভূমিকা পালন করতে দেখা যায়নি।

জালিয়াপালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোছাইন চৌধুরী জানান, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট কয়েকশত শ্রমিক দিয়ে ইনানী, মোহাম্মদ শফির বিল, রূপপতি, বাইলাখালী, ছেপখালী ও মনখালীসহ বিস্তীর্ণ সমুদ্র উপকূল অঞ্চল থেকে শামুক-ঝিনুক উত্তোলন করে বস্তাভর্তি করে মজুত করে রাখে। পরে কার্গো বোট ও বিভিন্ন মাছ ধরার বোটযোগে সমুদ্র পথে দেশের বিভিন্নস্থানে পাচার করে। অভিযোগ রয়েছে, উক্ত এলাকার একাধিক সিন্ডিকেট শামুক-ঝিনুক পাচারের সাথে জড়িত রয়েছে। ৬ ফেব্রুয়ারি বঙ্গোপসাগারের জলদস্যুদের ধাওয়া খেয়ে মো. শফির বিল এলাকায় আটকে পড়া ৫০ বস্তা ঝিনুকভর্তি একটি ট্রলার পরিবেশ অধিদপ্তর কর্মকর্তা, বন কর্মী, পুলিশ ও বিজিবি'র সদস্যরা উদ্ধার করে। উক্ত সিন্ডিকেট সদস্যরা নির্বিচারে উপকূলীয় অঞ্চল থেকে শামুক-ঝিনুক উত্তোলনের ফলে পরিবেশ বিপর্যয়ের মারাত্মক আশংকা দেখা দিয়েছে। জরুরী ব্যবস্থা না নিলে যে কোন মুহূর্তে জলোচ্ছাস ও প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড়ে উপকুলীয় গ্রামগুলো সমুদ্রে তলিয়ে যেতে পারে বলে পরিবেশবাদীদের অভিমত। এ বিষয়ে উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ গিয়াস উদ্দিন মিয়া বলেন, শামুক ঝিনুক উত্তোলনের ব্যাপারে প্রশাসন তৎপর রয়েছে। ইনানীতের পুলিশ ফাঁড়ির নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে পুলিশ আরো তৎপর হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ