ঢাকা, বুধবার 15 February 2012, ৩ ফাল্গুন ১৪১৮, ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৩
Online Edition

মতিউর রহমান ভিক্ষাবৃত্তি নয় নিজ উপার্জনের টাকায় বাঁচতে চান

শেরপুর সংবাদদাতা : মানুষের কাছে হাত পেতে ভিক্ষাবৃত্তি নয়, নিজ উপার্জনের টাকায় জীবিকা নির্বাহ করে বাঁচতে চান অন্ধ হাফেজ শেখ মতিউর রহমান (৪৫)। কিন্তু তার উপার্জনের একমাত্র অবলম্বন ব্রেইল পারকিনস্ রাইটার মেশিনটি ৬ মাস যাবত নষ্ট হয়ে পড়ে আছে। এতে তিনি বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

 শেরপুর জেলার সীমান্তবর্তী ঝিনাইগাতী উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের কুশাইকুড়া গ্রামে অন্ধ হাফেজ শেখ মতিউর রহমানের বাড়ি। ১৯৭১ সালে পাক সেনাদের হাতে তার বাবা নিহত হন। ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষে তিনি তার মাকে হারান। শিশু মতিউর বেঁচে গেলেও ৪ বছর বয়সে গুটি বসন্ত রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি তাঁর চোখের দৃষ্টি শক্তি হারিয়ে ফেলেন। পরে তিনি এক ইংরেজ মহিলার সহযোগিতায় অন্ধ স্কুলে দশম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। ওই মহিলা চলে যাবার পর তার পড়াশুনা কিছুদিনের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। 

কিন্তু মতিউর চোখের আলো হারালেও তিনি মনের আলো হারাননি। তাই তেজগাঁয়ে অবস্থিত ইসলামী মিশন এতিমখানা থেকে ব্রেইল পদ্ধতিতে পবিত্র কোরআন হেফ্জ ও আরবী হরফে লিখা রপ্ত করে ফেলেন। পরে কয়েকজন সহৃদয়বান ধনাঢ্য ব্যক্তির সহযোগিতায় মতিউর একটি কোরআন শরীফ ও ব্রেইল পারকিনস্ রাইটার মেশিন ক্রয় করেন। ওই মেশিন দ্বারা অন্ধ শিক্ষার্থীদের জন্য হাফেজ মতিউর রহমান বাংলায় পাঠ্য পুস্তক, আরবীতে কায়দা, আমপাড়া ও কুরআন শরীফ লিখে দিতেন। বর্তমানে অন্ধ শিক্ষার্থীদের পাঠ দানের ওই মেশিন দু'টি নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তার উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে।

স্ত্রী ও এক শিশু সন্তানকে নিয়ে বেকার মতিউর এখন অসহায় মানবেতর জীবন যাপন করছেন। ব্রেইল মেশিনটি মেরামতের জন্য কমপক্ষে ৩০ হাজার টাকা প্রয়োজন। কিন্তু এ টাকা তার পক্ষে জোগাড় করা অসম্ভব। তাই তিনি পূর্বের মতো সহৃদয় বিত্তবান ব্যক্তিদের কাছে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন। তার বিশ্বাস, কেউ না কেউ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে তার পাশে এসে দাঁড়াবেন।

সাহায্য পাঠাবার ঠিকানা: হাফেজ শেখ মতিউর রহমান, সঞ্চয়ী হিসাব নং- ৩৯৬৩, সোনালী ব্যাংক লিমিটেড, ঝিনাইগাতী শাখা, জেলা: শেরপুর। মোবাইল: ০১৭৪০৯৯৭৩৯৭।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ