ঢাকা, বুধবার 15 February 2012, ৩ ফাল্গুন ১৪১৮, ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৩
Online Edition

সিলেটে এমপি সামাদের হাতে শিক্ষক লাঞ্ছিত দক্ষিণ সুরমায় ছাত্র-শিক্ষক ও এলাকাবাসীর বিক্ষোভ

সিলেট ব্যুরো : সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদ-উস-সামাদ কয়েস চৌধুরীর হাতে একটি বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক লাঞ্ছিত হওয়ায় অশান্ত হয়ে উঠেছে শান্ত জনপদ ঐতিহ্যবাহী দক্ষিণ সুরমা। তাদের প্রিয় শিক্ষক এমপি'র হাতে শারীরিকভাবে নির্যাতিত হওয়ার ঘটনা যেমন মেনে নিতে পারছে না বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা তেমনিভাবে ভালভাবে বিষয়টি দেখছেন না বিদ্যালয়ের অভিভাবকমন্ডলী এবং সিলেটের বিশিষ্টজনেরা। দক্ষিণ সুরমার সিলামের কলারতল নবারুণ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় সংসদ সদস্য কয়েস চৌধুরীর বিরুদ্ধে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে এলাকাবাসী। এদিকে নবারুণ উচ্চ বিদ্যালয়ের দেয়াল, মূল ফটক ও বাজারের বিভিন্ন দেয়ালে বিচারের দাবিতে বিভিন্ন রকমের পোস্টার লাগানো হয়েছে।

শনিবার সিলাম ইউনিয়নের নবারুণ উচ্চ বিদ্যালয়ের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কারবিতরণী অনুষ্ঠানে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদ-উস-সামাদ কয়েস চৌধুরী স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক ফখরুল ইসলামকে লাঞ্ছিত করেন। পরে উপস্থাপনা চলাকালে প্রধান অতিথি মাহমুদ-উস-সামাদ এমপি'র স্থলে সাবেক এমপি শফি আহমদ চৌধুরী বলায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন এমপি সামাদ চৌধুরী। তাকে ধাক্কা দিয়ে মঞ্চ থেকে নামিয়ে দেয়ার চেষ্টা চালান তিনি। দুঃখ প্রকাশ করেও রক্ষা পাননি মানুষ গড়ার কারিগর ঐ  শিক্ষক। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক ও এলাকাবাসী ক্ষোভে সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে জুতা মিছিল বের করেন। তারা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়ার আল্টিমেটাম দেন। কিন্তু স্কুল শিক্ষকসহ এলাকাবাসীর কাছে ক্ষমা না চাওয়ায় রোববার সকালে স্কুলের ছাত্র-শিক্ষক ও এলাকাবাসী বিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছেন। সমাবেশে বক্তারা বলেন সংসদ সদস্য কয়েস চৌধুরী স্কুল শিক্ষককে লাঞ্ছিত করে গোটা শিক্ষক সমাজ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে কলুষিত করেছেন। তার আচরণ এলাকা তথা সিলেটবাসীকে মর্মাহত করেছে। বক্তারা বলেন, এলাকার ছাত্র-শিক্ষক ও যুবসমাজ জীবন দিয়ে তার এ অপকর্মের জবাব দিতে প্রস্তুত রয়েছে।

সিলাম ইউনিয়নের বিশিষ্ট মুরববী আব্দুল মালিকের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন রাজনীতিবীদ আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, মোল্লারগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শেখ মকন মিয়া, তাজরুল ইসলাম তাজুল, কোহিনূর আহমদ, শাহ আহমদ আলী, আলফু মিয়া মেম্বার, ইউপি সদস্য ময়নুল ইসলাম, সফিকুল ইসলাম মেম্বার, আমিনুল ইসলাম চৌধুরী সুয়েব প্রমুখ।

এদিকে সংসদ সদস্য কয়েস চৌধুরীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ সমাবেশের সংবাদ শুনে বিক্ষোভ করে দক্ষিণ সুরমা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা। তারা তাৎক্ষণিক জড়ো হয়ে কলারতলে গিয়ে অবস্থান নিয়ে এমপি'র পক্ষে মিছিল-সমাবেশ করে। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। যে কোন মুহূর্তে বড় ধরনের সংঘর্ষের আশংকা করা হচ্ছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ