ঢাকা, বুধবার 15 February 2012, ৩ ফাল্গুন ১৪১৮, ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৩
Online Edition

সাগর-রুনির খুনীদের গ্রেফতারে আরো ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম || স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও তথ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি

স্টাফ রিপোর্টার : সাংবাদিকদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এডভোকেট সাহারা খাতুন ও তথ্য মন্ত্রী আবুল কালাম আজাদের পদত্যাগ দাবি করেছে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ। তারা বলেন, সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির হত্যাকারীদের ধরতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বেঁধে দেয়া ৪৮ ঘণ্টা পার হলেও কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। তাই এ ব্যর্থতার দায় মাথায় নিয়ে অবিলম্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পদত্যাগ করার জন্য তারা দাবি জানান। নেতৃবৃন্দ এ হত্যার খুনীদের গ্রেফতার করতে সরকারকে আরো ২৪ ঘণ্টা সময় দেন।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল পূর্ব মানববন্ধনে নেতৃবৃন্দ এ দাবি জানান। মানববন্ধনে সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদ ও সাংবাদিক সমিতিও অংশগ্রহণ করে।

বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি রুহুল আমিন গাজীর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমান, বিএফইউজে মহাসচিব ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শওকত মাহমুদ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুস শহীদ, সাধারণ সম্পাদক বাকের হোসাইন, বিএফইউজের সাবেক মহাসচিব এম এ আজিজ, সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের মহাসচিব ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বিএনপি নেতা রুহুল কুদ্দুস দুলু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. সদরুল আমিন, সাবেক সচিব আ ন হ আক্তার হোসেন, সাংবাদিক নুরুল আমিন রোকন, আবু সালেহ, আব্দুল আউয়াল ঠাকুর প্রমুখ।

রুহুল আমিন গাজী বলেন, খুনী গ্রেফতার হলো না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এখনো পদত্যাগ করেনি কেন জানতে চাই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কিভাবে পদত্যাগ করাতে হয়, তা আমরা জানি। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে খুনীদের গ্রেফতার করে সাংবাদিক হত্যার বিচার না হলে সকল সংবাদপত্র বন্ধ করে দিয়ে সরকারের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন শুরু করা হবে বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, সাংবাদিক নির্যাতনকারী কামাল মজুমদারের বিচার করেন। এভাবে একের পর এক সাংবাদিক নির্যাতন চলতে দেয়া যায় না। যে কোন মূল্যে সাংবাদিকদের ওপর হামলা মামলা বন্ধ করা হবে বলে তিনি ঘোষণা দেন।

মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘‘সাংবাদিকদের আজ বাকরুদ্ধ করে রাখার অপচেষ্টা চালাচ্ছে সরকার। সরকার তিন বছরে ১৪ জন সাংবাদিক হত্যা করলেও কারো বিচার করতে পারেনি। বরং সাংবাদিক হত্যার মাধ্যমে এ পেশার ব্যক্তিদের আতঙ্কিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে সরকার। আজকে যারা এ সব হত্যার বিচার চাওয়া থেকে নীরব, তাদের ভূমিকা  নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। যারা সত্য সংবাদ পরিবেশন করতে চান না, তারা হয়তো সরকারকে ভয় পান, না হয় সরকারের দালালি করছে।’’

শওকত মাহমুদ বলেন, এ সরকারের আমলে ১৪ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। ২ হাজারের বেশি সাংবাদিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এসবের কোন বিচার হয়নি। সাংবাদিক নির্যাতনের বিচার না হওয়ায় সাংবাদিক হত্যা উস্কে দিচ্ছে সরকার। ‘সুষ্ঠু বিচারের স্বার্থে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে আরো ২৪ ঘণ্টা সময় দেয়া হলো। এ সময়ের মধ্যে প্রকৃত খুনীদের গ্রেফতার করতে না পারলে স্বরাষ্ট্র ও তথ্যমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে একদফা কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

সৈয়দ আবদাল আহমেদ বলেন, ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দেয়ার পর ৭২ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও কোন কুল কিনারা করতে পারেনি পুলিশ। সকল অন্যায়ের বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য তিনি আহবান জানান।

আব্দুস শহীদ বলেন, সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে একের পর এক সাংবাদিক নিহত ও আহত হচ্ছে। সাংবাদিকরা নিরপরাধ না থাকলে মানুষের কথা বলবে কিভাবে। সত্য প্রকাশ করবে কিভাবে। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন।

ডিআরইউ
আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকারীদের চিহ্নিত করতে না পারলে চূড়ান্ত কর্মসূচি দেয়া হবে বলে সরকারের প্রতি হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করেছেন সাংবাদিক নেতারা। এমন কর্মসূচি দেয়া হবে যাতে দাবি আদায় না আসা পর্যন্ত সাংবাদিক সমাজ ঘরে ফিরে যাবে না।

ডিআরইউ সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা বলেন, আমরা আন্দোলন থেকে পিছু হটিনি, সরকারকে সময় দিয়েছি মাত্র। সরকার ও আইনশৃক্মখলাবাহিনী কি করবেন তা তারাই সিদ্ধান্ত নেবেন। তারা বিষয়টি বুঝতে ব্যর্থ হলে আমরা সময় বেঁধে দিতে বাধ্য হবো। তিনি সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের আরও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেয়ারও আহবান জানান। 

গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) উদ্যাগে নিজস্ব মিলনায়তনে সাগর-রুনি হত্যার প্রতিবাদে আয়োজিত আলোচনা সভায় নেতৃবৃন্দ এসব কথা বলেন। ‘‘সাগর-রুনি হত্যাকারীদের বিচার চাই’’ শীর্ষক এ সভায় ডিআরইউ সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আলম খান তপুর পরিচালনায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের একাংশের (বিএফইউজে) সাবেক মহাসচিব আলতাফ মাহমুদ, ডিআরইউ-এর সাবেক সভাপতি মাহফুজুর রহমান ও মোস্তাক হোসেন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন একাংশের (ডিইউজে) সাবেক সভাপতি শাহ আলমগীর, ডিইউজের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক শাবান মাহমুদ, সকালের খবরের নির্বাহী সম্পাদক শাহনেওয়াজ দুলাল, দৈনিক ইনকিলাবের সাংবাদিক জাকারিয়া কাজল, ডেইলি স্টারের সাংবাদিক রাকিব হাসনাত সুমন, সাংবাদিক মোজাম্মেল হক চঞ্চল, জ্বালানি বিষয়ক সাংবাদিক নেতা মোল্লা আমজাদ হোসেন, ডিআরইউ-এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক মহিদুল ইসলাম রাজু, জামাল উদ্দিন প্রমুখ।

সাখাওয়াত হোসেন বাদশা আরও বলেন, সাংবাদিকদের ওপর একের পর এক ঘটনা ঘটছে। কেউ সড়ক দুর্ঘটনায় পঙ্গু হচ্ছে, কেউ মারা যাচ্ছে। সাংবাদিক নিখিল ভদ্র আহত হওয়ার ঘটনায় সরকারের কাছে ৯ দফা সুপারিশ করা হলেও তার একটিরও বাস্তবায়ন হয়নি। এর মধ্যে সাগর-রুনি নির্মম হত্যাকান্ডের শিকার হয়েছে। একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটেই চলেছে। এজন্য সাংবাদিকদের বুকে আগুন জ্বলছে।

আলতাফ মাহমুদ বলেন, তাদের হত্যাকান্ডের পর আমরা আতংকিত, আমাদের পরিবার আতংকিত। খুনী যেই হোক তাকে গ্রেফতারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতো যেন আমার দলের লোক হলেও ছাড়া হবে না জাতীয় কথা বলা না হয়।

শাহ আলমগীর বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে পুলিশের সময় বেঁধে দেয়ার নামে আবার যেন কোন জজ মিয়া কাহিনী সাজানো না হয়। তাহলে মেনে নেয়া হবে না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ