ঢাকা, বুধবার 15 February 2012, ৩ ফাল্গুন ১৪১৮, ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৩
Online Edition

তদন্তে চারদিন পার হলেও কোন সুখবর নেই মেঘ'র নিরাপত্তায় পুলিশ

স্টাফ রিপোর্টার : রাজধানীতে সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যাকান্ডের চারদিন পার হলেও গতকাল মঙ্গলবার রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোন সুখবর নেই। বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে তদন্ত কাজ চললেও তদন্তে আশানুরূপ অগ্রগতি নেই। উন্মোচিত হয়নি খুনের রহস্য।

এদিকে সাগর-রুনি হত্যাকান্ডের ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পৌঁছেছে পুলিশের হাতে। এতে বহুবার ধারালো অস্ত্রের আঘাতেই সাগর-রুনিকে হত্যা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের একমাত্র সন্তান মেঘের নিরাপত্তার জন্য পোশাকধারী পুলিশ নিয়োজিত করা হয়েছ। সাগর-রুনির পরিবারের পক্ষ হতে মিডিয়াতে অতিরঞ্জিত খবর পরিবেশন থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। ওই দুই পরিবারকে তদন্তের ব্যাপারে পুলিশের পক্ষ হতে ধৈর্য ধরার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

গত শুক্রবার গভীর রাতে রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের বাসায় খুন হন সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি। মাছরাঙ্গা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক ছিলেন সাগর সরওয়ার আর তার স্ত্রী মেহেরুন নাহার রুনি ছিলেন এটিএন বাংলার সিনিয়র রিপোর্টার। পরদিন শনিবার সকালে এই খুনের খবর জানাজানির পর ঘটনাস্থলে ছুটে যান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এডভোকেট সাহারা খাতুনসহ পুলিশ, র‌্যাব, ডিবি ও সিআইডির ঊর্ধ্বতন কর্তা ব্যক্তিরা। তাদের উপস্থিতিতেই ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খুনীদের গ্রেফতারের নির্দেশ প্রদান করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সেই ৪৮ ঘণ্টার পর আরও ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে এখন চারদিন শেষ হয়েছে গতকাল মঙ্গলবার। গতকাল রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত তদন্তে সংশ্লিষ্ট একাধিক টিমগুলোর পক্ষ হতে কোন অগ্রগতিমূলক সুখবর পাওয়া যায়নি। চারদিন ধরে তদন্ত কাজ চললেও আশানুরূপ কোন অগ্রগপতি নেই তদন্তে। তদন্তকালীন সময়ে উন্মোচিত হয়নি খুনের রহস্য। কতজন এই খুনের সাথে জড়িত ছিলেন সে সম্পর্কেও কোন স্বচ্ছ ধারণা পায়নি তদন্তকারী দলগুলো।

শের-ই-বাংলানগর থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাগর-রুনি হত্যাকান্ডের ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তাদেরকে কঠোর গোপনীয়তার মধ্যে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

ময়নাতদন্তে যা বলা হয়েছে : সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনির ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন হাতে পেয়েছে পুলিশ। সোমবার রাতে সংশ্লিষ্ট শেরে বাংলানগর থানা পুলিশের কাছে এ প্রতিবেদন হস্তান্তর করা হয়।

রিপোর্ট সম্পর্কে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক ও মেডিসিন বিভাগের প্রভাষক সোহেল মাহমুদ সাংবাদিকদের জানান, সাংবাদিক দম্পতিকে অসংখ্য ছুরিকাঘাতের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছে। শ্বাসরোধ করে হত্যা করার কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।

তিনি জানান, সাগরের শরীরে ২০টিরও বেশি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এর মধ্যে পিঠে ১১টি, গলায় ৫টি, বুকে ৫/৬টি ও মাথায় একটি। এছাড়া বুকের ডান পাশে বাটবিহীন একটি ছুরি বিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে রুনির পেটে ছুরিকাঘাতের ২টি চিহ্ন পাওয়া গেছে। তার মূল রক্তনালী কাটা ছিল। চোখের পাতার ওপর দুটি আঁচড়ের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এছাড়া আর কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। এছাড়া নারী মরদেহের ময়নাতদন্তে ধর্ষণের বিষয়টি গুরুত্ব দেয়া হয়। ধর্ষণের কোন আলামতও পাওয়া যায়নি।

মিডিয়া কর্মী আটক হয়নি : সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যার ঘটনায় এ পর্যন্ত কোনো মিডিয়া কর্মীকে আটক বা জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়নি। এ কথা জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও অঞ্চলের উপ-কমিশনার ইমাম হাসান। গত দুই দিন ধরে বিভিন্ন ধরনের গুজব ছড়িয়ে পড়ার পরিপ্রেক্ষিতে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক অনানুষ্ঠানিক আলোচনাকালে একথা জানান তিনি। সাগর-রুনি হত্যাকান্ডে অন্যতম একজন তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা ইমাম হাসান।

তিনি জানান, এ পর্যন্ত ওই হত্যাকান্ডের সম্পৃক্ততায় তিনজনকেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গোয়েন্দা দফতরে নেয়া হয়েছে। এরা হচ্ছেন সাগর ও রুনির পশ্চিম রাজাবাজারের বাসভবনের দুই নিরাপত্তারক্ষী ও ম্যানেজার।

মেঘের নিরাপত্তায় পোশাকধারী পুলিশ
এদিকে সাগর ও রুনির একমাত্র সন্তান মেঘের নিরাপত্তায় পোশাকধারী পুলিশকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। ডিএমপি উপ-কমিশনার জানান, এর আগে সাদা পোশাকে মেঘের নিরাপত্তা দেয়া হলেও এখন তার নিরাপত্তায় পোশাকধারীরা কাজ করছে।

সাগরের কম্পিউটারের তথ্য যাচাই
এদিকে সোমবার রাত ১০টায় পুলিশের তদন্ত দল মাছরাঙ্গা টেলিভিশনে সাগর সরওয়ারের ব্যবহার করা কম্পিউটারটির তথ্য সংগ্রহে যায়। সেখানে তারা কম্পিউটারের বিভিন্ন তথ্য ঘেটে দেখে। পুলিশ উপ-কমিশনার জানান, কম্পিউটারে পাওয়া তথ্য উপাত্ত যাচাই করছে। কম্পিউটার জব্দ করা হবে কি না এমন এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, পুলিশ এ কাজে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।

দুই এক দিনের মধ্যে এটিএন বাংলায়ও মেহেরুন রুনির ব্যবহার করা কম্পিউটারটি দেখতে তদন্ত দল সেখানে যাবে বলে জানান তিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ