ঢাকা, বুধবার 15 February 2012, ৩ ফাল্গুন ১৪১৮, ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৩
Online Edition

ইবির দু'শিবির নেতার সন্ধান চেয়ে হাইকোর্টে রিট || আজ আদেশ

স্টাফ রিপোর্টার : ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দু' ইসলামী ছাত্রশিবির নেতা আল মুকাদ্দাস ও মো. ওয়ালীউল্লাহ র‌্যাবের হাতে আটক হওয়ার পর নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করা হয়েছে। শুনানি শেষে আজ বুধবার আদেশের দিন ধার্য করেছেন আদালত। পৃথক দু'টি হেবিয়াস কর্পাস রিট আবেদনে তাদের সন্ধান চাওয়া হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি আবদুল আউয়াল ও বিচারপতি আকরাম হোসেন চৌধুরী সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চে ওই আবেদনের ওপর শুনানি হয়। আজ আদেশের দিন ধার্য করেছেন। শুনানিতে আদালত (নিখোঁজ হওয়া বিষয়ে) সরকারের সহকারী এটর্নি জেনারেলের উদ্দেশ্যে মন্তব্য করেন, আপনারা এসব কি শুরু করেছেন। এদেশ থাকবে, সংবিধান থাকবে। এ সরকার হয়ত আগামীকাল থাকবে না। তিনি শুনানিতে বলেন, রাজনৈতিক কারণে এ রিট আবেদন করা হয়েছে।

রিট আবেদনে মো. ওয়ালীউল্লাহ ও আল মুকাদ্দাস কি অবস্থায় আছে তা জানানো, তাদের আটক অবৈধ ও আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত ঘোষণা করা এবং তাদের মুক্তি দেয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। এছাড়া তাদের আদালতে হাজির করে অবস্থান জানানোর নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

রিট আবেদনে বলা হয়, গত চার ফেব্রুয়ারি রাত সোয়া ১২টায় মো. ওয়ালীউল্লাহ ও আল মুকাদ্দাসকে আশুলিয়ার নবীনগর থেকে হানিফ পরিবহনের একটি বাস থেকে র‌্যাব সদস্যরা গ্রেফতার করে। ওই বাসের চালক ও হেলপারও জানিয়েছে ওয়ালীউল্লাহ ও আল মুকাদ্দাসকে র‌্যাব সদস্যরা গ্রেফতার করেছে। কিন্তু র‌্যাব দাবি করছে তারা ওই দু' ছাত্রকে গ্রেফতার করেনি।

এ বিষয়ে গত ৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর দারুসালাম থানায় এবং ৮ ফেব্রুয়ারি আশুলিয়া থানায় পৃথক দু'টি জিডি করা হয়। বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, ওয়ালীউল্লাহ ও আল মুকাদ্দাস র‌্যাবের কাছে আটক আছে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে তাদের অবস্থান জানানো হচ্ছে না। আল মুকাদ্দাসের চাচা আবদুল হাই এবং মো. ওয়ালীউল্লাহর ভাই মো. খালেদ সাইফুল্লাহ এই রিট আবেদন দু'টি দায়ের করেন। রিট আবেদনের পক্ষে মামলা পরিচালনা করছেন এডভোকেট তাজুল ইসলাম। সরকার পক্ষে ছিলেন সহকারী এটর্নি জেনারেল রাশেদ জাহাঙ্গীর।

এডভোকেট তাজুল ইসলাম শুনানিতে বলেন, সুপ্রিম কোর্ট সংবিধানের রক্ষক। সংবিধান অনুসারে কোন ব্যক্তি আটক বা গ্রেফতারের পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আদালতে হাজির করার বিধান রয়েছে। কিন্তু এ ক্ষেত্রে ১০ দিন হয়ে গেলেও হাজির করা হয়নি। এভাবে একের পর এক মানুষ আটক করার পর নিখোঁজ হলে দেশে সাংবিধানিক ও আইনের শাসন ভেঙ্গে পড়বে। মানুষ সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে। দেশে মানবাধিকার বলতে কিছু থাকবে না। তিনি পকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই কর্তৃক আটকের পর নিখোঁজ হওয়া ব্যক্তিদের বের করে আনার পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের আদেশ তুলে আদালতে উপস্থাপন করেন।

প্রসঙ্গত, আল-মুকাদ্দাস ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক এবং মো. ওয়ালীউল্লাহ একই বিশ্ববিদ্যালয়ের দাওয়া ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র। তারা গত ৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকা থেকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে র‌্যাবের হাতে আটক হন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ