ঢাকা, বুধবার 15 February 2012, ৩ ফাল্গুন ১৪১৮, ২২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৩
Online Edition

জাতীয় পার্টির আবুল কাশেমের সংসদ সদস্য পদ বাতিল

স্টাফ রিপোর্টার : জাতীয় পার্টি (এরশাদ) দলীয় টাঙ্গাইল-৫ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কাশেমের পদ অবৈধ ও বাতিল  ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেয়া রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে তার করা আপিল আবেদন খারিজ করে দেন আদালত। গতকাল মঙ্গলবার প্রধান বিচারপতি মো. মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের তিন বিচারপতির বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

তবে এই রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন (রিভিউ পিটিশন) করবেন বলে জানিয়েছে আবুল কাশেম। তার দল জাতীয় পার্টি রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করার কথা ভাবছে বলে জানিয়েছেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের রাজনৈতিক প্রেসসচিব সুনীল শুভ রায়। তিনি জানান, জাতীয় পার্টি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। রায়ের বিষয়ে আমাদের কোনও বক্তব্য নেই।

এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেছেন, হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আবুল কাশেম আপিল বিভাগে যে আবেদন করেছেন সেটা খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ।

বিএনপি দলীয় প্রার্থী মেজর জেনারেল (অব.) মাহমুদুল হাসানের কৌঁসুলি সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার এম আমীরউল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেছেন আদালত আবুল কাশেমের আপিল আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন। ফলে মাহামুদুল হাসানকে সংসদ সদস্য ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায় বহাল থাকল।

আপিল বিভাগে আবুল কাশেমের পক্ষে মামলা পরিচালনা করেন সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ ও এডভোকেট শাহ মঞ্জুরুল হক

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবুল কাশেম জাতীয় পার্টির মনোনয়নে টাঙ্গাইল-৫ আসন থেকে নির্বাচিত হন। মহাজোটের প্রার্থী আবুল কাশেম লাঙ্গল প্রতীকে ১ লাখ ৪৭ হাজার ১৫২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। ৭২ হাজার ৮০৫ ভোট পেয়ে দ্বিতীয় হয়েছিলেন মেজর জেনালে (অব.) মাহমুদুল হাসান। ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি আবুল কাশেমের সংসদ সদস্যের গেজেট প্রকাশিত হয়। এছরের ফেব্রুয়ারি মাসে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আবুল কাশেম ঋণ ও বিল খেলাপি দাবি করে মাহমুদুল হাসান হাইকোর্টে (নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল) আবেদন করেন। আবেদনে বলা হয়,  ২০০৮ সালের ৪ ডিসেম্বর জেলা রিটার্নিং অফিসার আবুল কাশেমের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছিল। কিন্তু সোনালী ব্যাংকে তার ১৫ কোটি ৪৪ লাখ ২৫ হাজার ৪৩৭ টাকা ঋণ রয়েছে। ময়মনসিংহ টেলিফোন এক্সচেঞ্চে আবুল কাশেমের নামে ৩২ হাজার ১১০ টাকা ফোন বিল বকেয়া রয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

একই বছরের ১৫ ডিসেম্বর শুনানির পর হাইকোর্ট রায় দেন। রায়ে তাকে সংসদ সদস্য ঘোষণার গেজেট অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করা হয়। রায়ে এক সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট প্রাপ্ত মাহমুদুল হাসানকে বিজয়ী ঘোষণা করতে নির্বাচন কমিশনের প্রতি নির্দেশ দেয় আদালত।

হাইকোর্টের ওই রায়ের বিরুদ্ধে আবুল কাশেম আপিল বিভাগে আবেদন করেন। আপিলের ওপর শুনানি শেষে গতকাল মঙ্গলবার আপিল খারিজ করে দেয়া হলো।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ