ঢাকা, বুধবার 14 March 2012, ১ চৈত্র ১৪১৮, ২০ রবিউস সানি ১৪৩৩
Online Edition

চা গবেষণা ইনস্টিটিউটের একাল সেকাল

১৯৫৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি দুটি পাতা ও একটি কুঁড়ির রাজধানী শ্রীমঙ্গলে পাকিস্তান ‘চা গবেষণা স্টেশন' নামে স্থায়ী গবেষণা কার্যক্রম স্থাপিত হয়। স্বাধীনতার পর পাকিস্তান চা গবেষণা প্রতিষ্ঠানকে প্রথমে বাংলাদেশ চা গবেষণা স্টেশন ও ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিআরআই)-এ উন্নীত করা হয়। বর্তমানে এ ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল রিসার্স সিস্টেম (নার্স)-এর ১০টি জাতীয় প্রতিষ্ঠানের অন্যতম একটি। বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউট শ্রীমঙ্গল শহর থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে। উচ্চ ফলনশীল ও উন্নত মানের চা বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে উৎপাদন ও গবেষণার জন্য শ্রীমঙ্গল শহরের অদূরেই স্থাপন করা হয় এ প্রতিষ্ঠান। ইউক্যালিপ্টাস, একাশিয়া, পামসহ নানাজাতের সারিবদ্ধ গাছের সুনিবিড় ছায়াঘেরা বাংলাদেশ চা গবেষণা কেন্দ্রের অভ্যন্তরে রয়েছে একটি মনোরম লেক। সারাদেশে এ ইনস্টিটিউট-এর ৪টি উপকেন্দ্র রয়েছে। গবেষণা কার্যক্রম ৮টি বিভাগের মাধ্যমে পারিচালিত হচ্ছে। ইনস্টিটিউটের পাশেই রয়েছে চা বোর্ডের প্রকল্প উন্নয়ন ইউনিট (পিডিইউ)। এর জন্ম ১৯৮০ সালে। এর প্রধান কাজ গবেষণালবদ্ধ ও পরিক্ষিত প্রযুক্তি, মাঠ পর্যায়ে সুষ্ঠু বাস্তবায়ন ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা। এ প্রতিষ্ঠানটিকে ঘিরে চা বিজ্ঞানীদের রয়েছে সাফল্য। চা বিজ্ঞানীদের একের পর এক প্রযুক্তি উদ্ভাবনের ফলে খ্যাতি অর্জন করেছে দেশ-বিদেশের বিশেষজ্ঞদের। চা বিজ্ঞানীদের উদ্ভাবিত প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক জ্ঞান চা শিল্পের অগ্রগতি ও উন্নয়নে অবদান রাখতে সক্ষম হয়েছে। বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে এ পর্যন্ত বিটি-১ থেকে বিটি-১৭ নামে ১৭টি উচ্চ ফলনশীল ও আকর্ষণীয় গুণগতমান সম্পন্ন ক্লোন উদ্ভাবন করেছেন। ইনস্টিটিউট-এর উদ্ভাবিত ক্লোন বিটি-২ এ বিশেষ সুবাদ দেশী ও বিদেশী বিশেষজ্ঞদের প্রশংসা কুঁড়িয়েছে। চা গবেষণা ইনস্টিটিউট-এর সাবেক পরিচালক এএফএম বদরুল আলম এই ক্লোন উদ্ভাবন করেন। চা বিজ্ঞানীরা সর্বশেষ বিটি-১৭ নামে উন্নত জাতের ক্লোন আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত করেন। ইনস্টিটিউট পরিচালক এম শহিদুজ্জামান এ প্রসঙ্গে বলেন, বিটি-১৭ উচ্চ ফলনশীল ও উন্নত জাতের ক্লোন। অন্য ক্লোন স্বাভাবিকভাবে বর্তমানে প্রতি হেক্টরে ১২৭০ কেজি উৎপাদিত হলেও এই ক্লোনটি প্রতি হেক্টরে ৩ হাজার কেজির অধিক উৎপাদন সম্ভব।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ