ঢাকা,বৃহস্পতিবার 7 June 2012, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯, ১৬ রজব ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition

বিএনপি থেকে ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার পদত্যাগ

 স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপি থেকে পদত্যাগ করেছেন ব্যারিস্টার নাজমুল হুদা। গতকাল বুধবার দুপুরে তোপখানা রোডে নিজের চেম্বারে ডাকা এক সাংবাদিক সম্মেলন করে তিনি পদত্যাগের এই ঘোষণা দেন। হুদা বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ছিলেন।

পদত্যাগপত্রে সাবেক মন্ত্রী ব্যারিস্টার হুদা বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার উদ্দেশে বলেন, ‘‘ভেবেছিলাম বিএনপি ছাড়তে আপনি আমাকে বাধ্য করবেন না। আমার ধারণা ভুল প্রমাণিত হলো।... আর এই ব্যর্থতার দায় নিয়েই ম্যাডাম আমি বিএনপি থেকে পদত্যাগ করছি।’’ এর আগে গত ২৩ মে সাংবাদিক সম্মেলন করে ৫ জুনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীকে সংলাপের আমন্ত্রণ জানানোর জন্য খালেদা জিয়ার কাছে অনুরোধ জানান হুদা।

সাংবাদিকদের পদত্যাগপত্র পড়ে শুনিয়ে সাবেক মন্ত্রী নাজমুল হুদা বলেন, তিনি এটি খালেদা জিয়ার কাছে পৌঁছে দেবেন।

দুর্নীতির অভিযোগে বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে গ্রেফতার হওয়া হুদাকে ২০১০ সালে সংগঠনবিরোধী বক্তব্য দেয়ার অভিযোগে বিএনপি থেকে বহিষ্কার করেছিলেন খালেদা জিয়া।

চেয়ারপার্সনের কাছে ‘দুঃখ প্রকাশ' করে দলে ফেরার এক বছরের মাথায় নাজমুল হুদা এবার নিজেই দল ছাড়ার ঘোষণা দিলেন।

বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর প্রথম স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন নাজমুল হুদা। খালেদা জিয়া স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠন করলে তিনি বাদ পড়েন। তবে ২০০৯ সালের সর্বশেষ কাউন্সিলে হুদাকে বিএনপির সহ-সভাপতি করা হয়।

দুই পৃষ্ঠার পদত্যাগপত্রে নাজমুল হুদা দলের প্রতি তার ‘আনুগত্য' এবং ১৯৭৮ সালে দলের প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে নিজের কর্মকান্ডের কথা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ‘‘বিএনপির জন্ম দেয়া সেই ৯ জন প্রতিষ্ঠাতা সদস্যের আমি একজন। বেশির ভাগ সদস্যই জীবিত আছেন। ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী, হাবিবুল্লাহ খান, জামালউদ্দিন আহমেদ, মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার আবুল হাসনাত সবাই আছেন। নাই শুধু আমার মরহুম প্রিয় স্যার জিয়াউর রহমান, বিচারপতি আবদুস সাত্তার আর আব্দুল মোমেন খান। দলের ওয়েবসাইটে এসব তথ্য খুঁজে পাওয়া যাবে না।’’

চার দলীয় জোট সরকারের আমলে যোগাযোগ মন্ত্রী হিসেবে নিজেকে ‘সফল' দাবি করে তখনকার প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বের প্রশাংসাও করেন হুদা। পদত্যাগপত্রে তিনি ১৯৮৬ সাল থেকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে ‘খালেদা জিয়ার সঙ্গে থেকে' কর্মকান্ড পরিচালনার বিষয়গুলোও তুলে ধরেন।

বিএনপি ১৯৯১ সালে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর ওই সরকারের তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পান নাজমুল হুদা। কিন্তু গণমাধ্যমে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের ‘রূপরেখা' দিয়ে তিনি মন্ত্রীত্ব হারান।

দলীয় অবস্থানের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেয়ায় ২০১০ সালের ২১ নভেম্বর খালেদা জিয়া দল থেকে বহিষ্কার করেন নাজমুল হুদাকে। পরে তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১১ সালের ৫ এপ্রিল প্রাথমিক সদস্য পদ ফিরিয়ে দেয়া হয়।

দলে স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদের সঙ্গে বিরোধের বিষয়টি তুলে ধরে পদত্যাগপত্রে নাজমুল হুদা বলেন, ‘‘মওদুদ সাহেবের সমালোচনা করার কারণে আমি বহিষ্কৃত হয়েছি। জাতীয় পার্টির একজনের নেতৃত্বাধীন বিএনপিতে রাজনীতি করার ইচ্ছা বা আগ্রহ আমার আর নেই। ম্যাডাম, আপনাকেও সর্তক থাকতে হবে। এমপি, মন্ত্রী, রাষ্ট্রপতির অধীনে প্রধানমন্ত্রী ও উপরাষ্ট্রপতি সবই হয়েছেন তিনি (মওদুদ)। বাকি শুধু সংসদীয় পদ্ধতিতে প্রধানমন্ত্রী হওয়া।’’

খালেদা জিয়াকে সতর্ক করতে মওদুদ আহমদের বিভিন্ন কর্মকান্ডের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

‘‘আপনাকে অস্তিত্বহীন করার কৌশল ও তার (মওদুদ) সুদীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতার কথা আপনার জানা আছে। তারুণ্যের প্রতীক তারেক রহমানকে নিরাপদ দূরত্বে রাখার কৌশল তার শিষ্যদের মাধ্যমেই তিনি (মওদুদ) গ্রহণ করবেন। আপনার প্রিয় সেনাবাহিনীর সান্নিধ্য থেকে আপনাকে বিচ্ছিন্ন করার কৌশলে তো আপনি নিজেই প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী ম্যাডাম। আমি এই কৌশলের সমালোচনা করেছিলাম বলে ওই কৌশলের শিকার মাত্র।’’

‘‘নিবেদিত থাকার চরম বেদনা আজ আপনি আমাকে দিলেন ম্যাডাম’’, বলেন হুদা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ