ঢাকা, রোববার 10 June 2012, ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪১৯, ১৯ রজব ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition

ঈশা খাঁর দ্বিতীয় রাজধানী

মোহাম্মদ আবদুল সেলিম : দেশের ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলো ক্রমেই হারিয়ে যেতে বসেছে। অযত্ন-অবহেলার কারণে বিলীন হতে চলেছে জঙ্গলবাড়ি দুর্গও। এটি কিশোরগঞ্জ জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার জঙ্গলবাড়ি গ্রামের অতি পরিচিত একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন। দূর থেকে দেখলে মনে হবে, এটি ধ্বংস হয়ে গেছে। জানা যায়, ১১ সিন্ধু যুদ্ধে মানসিংহের কাছে পরাজয়ের পর লক্ষণ সিং হাজরার কাছ থেকে দুর্গটি দখল করেন ঈশা খাঁন। অনেকে বলেন, তাদের কেউই দুর্গটি নির্মাণ করেননি। অসংখ্য ইটের টুকরা, মৃৎপাত্রের ভগ্নাংশ ইত্যাদি চোখে পড়ে দুর্গ এলাকার বাইরে, বিশেষ করে দুর্গের দক্ষিণ-পশ্চিম, উত্তর-পশ্চিম অংশে। অনেকে বলেন, এটি হাজার হাজার বছর আগের নিদর্শন

অনেক সূত্রে জানা গেছে, ওই এলাকাটি ছিল একটি অতি সমৃদ্ধশালী জনবসতি কেন্দ্র। এখানে দুর্লভ অনেক কিছুর সন্ধানও মিলতো। তবে দুর্গের ভেতরে বেশকিছু স্থাপনা ঈশা খাঁর বলে জানা যায়। এতে অনেকে ধারণা করেন, দুর্গটি ঈশা খাঁই নির্মাণ করেছিলেন। মুসা খান মোঘল আধিপত্য স্বীকার করলে ঈশা খাঁর বংশধরেরা জঙ্গলবাড়ি দুর্গে তাদের পরিবার-পরিজনকে স্থানান্তর করেন সোনারগাঁও থেকে। তারা আস্তে আস্তে এ অঞ্চলে পরিণত হন জমিদারে।

‘হযরতনগর' নামে একটি শহর প্রতিষ্ঠা করেন মুসা খানের দৌহিত্র হয়রত খান। এখান থেকেই তিনি শাসন করতেন বেশ কয়েকটি পরগনা। এখনো জঙ্গলবাড়ি গ্রামে বসবাস করছেন ঈশা ‘খাঁর বংশধরেরা। দুর্গের চারিদিকে চোখ গেলে সহজেই বুঝা যাওয়ার কথা যে, এর আকৃতি ছিল বৃত্তাকার। গভীর পরিখা খনন করা হয়েছে দক্ষিণ, পশ্চিম ও উত্তর দিকে। এর সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে পূর্বদিকে নরসুন্ধা নদীর সঙ্গে৯। দুর্গস্থলটিকে এখনো যে কেউ দেখলে তা দ্বীপ বলে মনে করেন। এর এখন শেষ সম্বল হলো মৃৎপাত্রের ভগ্নাংশ, ইটের টুকরা, কয়েকটি ‘নিচু ঢিবি।'

ঈশা খাঁর দ্বিতীয় রাজধানী ছিল করিমগঞ্জ উপজেলার নরসুন্দা নদীর তীরে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরা জঙ্গলবাড়ি। অযত্ন-অবহেলার কারণে ধসে পড়েছে দুর্গের ছাদ। দেয়ালেও ফাটল ধরেছে। আস্তর খসে পড়ছে। এখন কোনো রকমে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে জঙ্গলবাড়ি দুর্গ। যা এখন ইতিহাসের সাক্ষীও। তবে এখন পর্যন্ত টিকে আছে দরবার কক্ষের কিছু অংশ। খুব শিগগির অবশিষ্টটুকুও ধ্বংস হয়ে যাবে বলে ধারণা করছেন অনেকেই। এখন পর্যন্ত বেশ কয়েকটি কক্ষের অস্তিত্ব আছে দরবারের কাছের পান্থশালায়। বর্তমানে ঈশা খাঁর বংশধররা সেখানে বসবাস করছেন অন্দরমহলের একটি অংশ সংস্কারের মাধ্যমে। দুর্গটির চারিদিকে পানির গভীরতা অনেক বেশি হওয়ায় শুকনো মওসুমেও যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম নৌকা। ঈশা খাঁর আত্মীয়-স্বজনসহ অনেকেই চাইছেন দুর্গটির যথাযথ সংস্কার হোক। এটি মনোরম পরিবেশের অন্যতম একটি প্রাচীন নিদর্শন বলে তা পর্যটনের ক্ষেত্রেও রাখতে পারে ব্যাপক ভূমিকা। এ জন্য সরকারকেই আগে এগিয়ে আসতে হবে। তাছাড়া জঙ্গলবাড়ি দুর্গটি নির্মাণ করা হয়েছে বিশাল জায়গাজুড়ে। এত বিশাল জায়গার ঐতিহাসিক নিদর্শন একটু কমই চোখে পড়ে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ