ঢাকা, রোববার 21 October 2012, ৬ কার্তিক ১৪১৯, ৪ জিলহজ্জ ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition

কুরবানীর হাটে পশু সমাগম নিশ্চিত করুন

আগামী ২৭ অক্টোবর পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপিত হবে বলে সরকার ঘোষণা করেছেন। এই ঈদ কুরবানীর এবং স্বাভাবিকভাবেই দিন যতই যাচ্ছে মানুষের মধ্যে কুরবানীর পশু ক্রয়ের ব্যাপারে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাদের এই উৎকণ্ঠার প্রধান কারণ হচ্ছে তাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে সময়মত কুরবানীর গরু-ছাগল ও ভেড়া পাবে কিনা তা নিয়ে। এই সরকারের আমলে গত কয়েক বছরের অভিজ্ঞতাকে সামনে রেখে আমরা সাধারণ মানুষের এই উদ্বেগ-উৎকণ্ঠাকে অমূলক বলে মনে করি না। ইতোমধ্যে দেশের সর্বত্র কুরবানীর পশুর হাটসমূহের ইজারা সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে। হাট-বাজার যারা ইজারা পেয়েছেন তাদের সিংহভাগই ক্ষমতাসীন দলের সাথে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সংশ্লিষ্ট হওয়া সত্ত্বেও পত্র-পত্রিকার রিপোর্ট অনুযায়ী এর মধ্যেই ইজারাদারদের কাছ থেকে ঘুষ ও চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। আবার এই অভিযোগও উঠেছে যে, যারা চাঁদা দাবি করছে তাদের বেশিরভাগই ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠনগুলোর নেতাকর্মী। এর মধ্যে আবার পৌরসভা ও পৌর কর্পোরেশনসমূহের কর্মকর্তারাও ভাগ বসাতে শুরু করেছে বলে জানা যায়। তাদের দাবি অনুযায়ী ঘুষ ও চাঁদা না দিলে ইজারা বাতিল কিংবা সংশ্লিষ্ট বাজারে গরু সরবরাহ বন্ধ করে দেয়ার হুমকিও দেয়া হচ্ছে। ইজারাদারদের অভিযোগ অনুযায়ী পৌর প্রশাসক ও নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে এ ব্যাপারে লিখিত অভিযোগ দেয়ার পরও কোনও কাজ হচ্ছে না। তাদের দাবি অনুযায়ী ঘুষ না পাওয়ায় আরমানিটোলা ও পোস্তগোলাসহ একাধিক হাটের ইজারা বাতিলের চেষ্টাও হচ্ছে।

পত্রিকান্তরে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী সাধারণত কুরবানীর এক মাস আগে পশুর হাট ইজারার জন্য দরপত্র আবেদন করা হয়ে থাকে। কিন্তু এবার সম্পূর্ণ অনিয়মতান্ত্রিকভাবে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের (দক্ষিণ) তরফ থেকে আড়াই মাস আগে অর্থাৎ ১৬ আগস্ট শবে কদরের ছুটির দিন সংবাদপত্রে দরপত্রের বিজ্ঞাপন দেয়া হয় এবং দরপত্র জমা দেয়ার শেষ তারিখ ছিল ২৮ আগস্ট। ঈদুল ফিতরের ছুটির সময় পশুর হাটের দরপত্র আহবানের এই ঘটনা ছিল অভূতপূর্ব এবং ডিসিসির ইতিহাসে প্রথম। কারণ ১৬-২১ আগস্ট ঈদের ছুটি ছিল এবং ছুটির পর আবার দু'দিন সাপ্তাহিক ছুটি ছিল। এতে ইজারা নিতে ইচ্ছুক অনেকের পক্ষেই টেন্ডারে অংশগ্রহণ করা সম্ভবপর হয়নি। মোটা অঙ্কের ঘুষ নিয়ে পছন্দের ও দলীয় ব্যক্তিদের হাট ইজারা দেয়ার জন্যই এই কৌশলের আশ্রয় নেয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। এরপর আবার যারা ইজারা পেয়েছেন তাদের কাছ থেকে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজরা মোটা অঙ্কের অর্থ দাবি করার প্রেক্ষাপটে কুরবানীর পশুর হাট ব্যবস্থাপনায় নৈরাজ্যের সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে বলে আমরা আশঙ্কা করছি। গত বছরের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে যে, দেশে পর্যাপ্ত পশু থাকা সত্ত্বেও পশুর হাটে ব্যাপক পশু সংকট দেখা দিয়েছিল এবং পশুর মূল্যেও কোন রকমের সামঞ্জস্য ছিল না। আতঙ্কিত লোকেরা একই সাইজের গরু কেউ ২০ হাজার টাকায় কেউ ৩০ হাজার টাকায় আবার কেউ কেউ ৫০ হাজার টাকায়ও কিনতে বাধ্য হয়েছিলেন। খাসির মূল্যেও অনুরূপ উত্থান পতন পরিলক্ষিত হয়েছে। এর প্রধান কারণ ছিল গরু আমদানি এবং বাজারে সরবরাহে বাঁধার সৃষ্টি। সড়ক মহাসড়ক ও নদীপথে মফস্বল এলাকা থেকে গরু আনার পথে সন্ত্রাসী চাঁদাবাজরা বহু স্থানে গরুবাহী ট্রাক এবং এমনকি নৌযানও হাইজ্যাক করেছিল। রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কুরবানীর পশু সমাগমে তারা প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে। ফলে শুধু সাধারণ মানুষই নয় দরিদ্র কৃষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সকলেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মাঝপথে বাধা পেয়ে তারা বাজারে গরু তুলতে পারেনি এবং অনেকেই গরু ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন কিংবা পানির দরে বিক্রি করে গেছেন। আবার বাজারে পর্যাপ্ত গরু না আসায় নিম্ন ও মধ্য আয়ের সাধারণ মানুষ অত্যন্ত বেশি মূল্যে সামনে যা পেয়েছেন তা কিনতে বাধ্য হয়েছেন। অনেকে কুরবানী দিতেও পারেননি। সরকারের তরফ থেকে পর্যাপ্ত পুলিশ-র‌্যাব মোতায়েন ও মহাসড়কে তাদের টহল বৃদ্ধির আশ্বাস দেয়া হলেও গরু-ছাগলের মালিক ব্যবসায়ী ক্রেতা কেউই এক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা পাননি।

উপরোক্ত অবস্থায় চলতি বছরও যাতে বিগত বছরসমূহের অবস্থার পুনরাবৃত্তি না ঘটে এবং পশুর হাটে পশু আনার পথে বাধা সৃষ্টি করে কেউ কৃত্রিম সংকটের সৃষ্টি করতে না পারে তার নিশ্চয়তা বিধানের জন্য আমরা সরকারের প্রতি আহবান জানাচ্ছি। পাশাপাশি সড়ক মহাসড়কে পশুবাহী যানবাহনে চাঁদাবাজি বন্ধের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ