ঢাকা, রোববার 21 October 2012, ৬ কার্তিক ১৪১৯, ৪ জিলহজ্জ ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition

ভাষামতিনের মতিভ্রম

ভাষাসৈনিক আব্দুল মতিন। দেশের একজন প্রবীণ ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব। দেশের যখন দুঃসময় ও দুর্বিপাক অব্যাহত থাকে, তখন সচেতন রাজনীতিক কিংবা দেশবাসীর জন্য ভাষাসৈনিক বা ভাষামতিনের মতো গুণীজনের যেমন পরামর্শের প্রয়োজন হয়, তেমনি তাদের দিকনির্দেশনামূলক কথাবার্তায় দেশ ও জাতির ভবিষ্যৎ তরুণসমাজ ভীষণভাবে অনুপ্রাণিত হয়। কিন্তু যখন তারা বিভ্রান্তিকর বক্তৃতা-বিবৃতি দিয়ে জাতিকে বিভক্ত করবার প্রয়াস চালান তখন জাতি হতাশ হয়। বিব্রতবোধ করে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

‘ভাষাসৈনিক' অভিধা সবাই পায় না। এমনি এমনি কাউকে দেয়াও হয় না। পৃথিবীর খুব অল্পসংখ্যক মানুষকে এ অভিধা দেয়া হয়েছে। বিশেষত আমাদের দেশে বাংলাভাষাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেবার জন্য যারা জীবনবাজি রেখে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন, তৎকালীন পাকিস্তানি পুলিশের গুলি উপেক্ষা করে সান্ধ্যআইন ভঙ্গের মধ্য দিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে পড়েন, তাদের মধ্যে ভাষামতিনের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। আর এ অমূল্য অবদানের জন্য তাকে দেশবাসী যেমন ভালোবাসে, তেমনি আমাদের তরুণসমাজও ভক্তিশ্রদ্ধা করে। সমীহ করে। সম্মান দেয়।

দেশের মানুষ ভাষামতিনকে গভীরভাবে ভালোবাসে, তরুণরা গভীর শ্রদ্ধা করে, রাজনীতিক, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষাবিদ, সকলের দৃষ্টিতে তিনি সম্মানিত এবং বিশেষ মর্যাদার অধিকারী। কিন্তু তাই বলে তিনি যখন-তখন জাতিকে বিভক্ত করবার কিংবা দেশপ্রেমিক রাজনীতিকদের সম্পর্কে বিভ্রান্তি ছড়াবার মতো অনাকাঙ্ক্ষিত বক্তৃতা-বিবৃতি দিলে সকলে তা মাথা পেতে মেনে নেবেন বা কোনও জবাব দেবেন না এমনটি ভেবে নেয়া বোধ করি ভাষামতিনের মতো ব্যক্তিত্বের একেবারেই অনুচিত কাজ।

ঢাকার বারিধারা থেকে প্রকাশিত একটি দৈনিকের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে ভাষাসৈনিক আব্দুল মতিন বলেছেন :

দিন দিন দুই নেত্রীর জনপ্রিয়তা কমছে। বিএনপি ডুবেছে জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে। আর এরশাদকে সঙ্গে নিয়ে ডুবেছে আওয়ামী লীগ। আগামীতে এ দুই দল ক্ষমতায় নাও আসতে পারে। মহাজোটের মহাপতন শুরু হয়ে গেছে। অবশ্য এর মানে এই নয় যে, আগামীতে ফের বিএনপি ক্ষমতায় আসবে। সত্যি কথা বলতে কী, দেশের মানুষ এখন আর দুই নেত্রীকে আগের মতো পছন্দ করছে না। পছন্দ করছে না আওয়ামী লীগ ও বিএনপিকে। সচেতন মানুষ মনে করে এরশাদ আওয়ামী লীগের ঘণ্টা বাজিয়ে ছেড়ে দেবেন। আর বিএনপির দুর্বলতার সুযোগে তাদের ওপর  জামায়াতের ছড়ি ঘোরানো আরও বাড়বে। ধর্ম নিয়ে রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ-বিএনপি-জাতীয় পার্টি ও জামায়াতের মধ্যে কোনও পার্থক্য নেই। এরা সবাই টাকা চায়। রাজনীতি নয়, তাদের লক্ষ্য শুধুই টাকা। আওয়ামী লীগ-বিএনপি দুই দল মিলে লুটপাট করছে। জাতীয় পার্টি, জামায়াত তাদের সহযোগী। ৫-৬ বছর আগে শেখ হাসিনার যে জনপ্রিয়তা ছিল, এখন আর তা নেই। অনেক বিষয়ে মানুষ এখন তাকে বিশ্বাস করতে পারছে না। মানুষ এখন আগের চেয়ে অনেক সচেতন। খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রেও একথা বলা যায়। তাদের ব্যাপারে মানুষের মোহ ভেঙেছে। এ সময়ে সরকার চাইলেও ভালো চালাতে পারবে না। অপ্রিয় হলেও সত্য যে, মহাজোট আগামীতে আর ক্ষমতায় আসতে পারবে না। তাদের জনপ্রিয়তায় ধস শুরু হয়েছে। তাদের দিয়ে দেশ ও সমাজের কোনও পরিবর্তন সম্ভব নয়। বিএনপির সঙ্গী হলো জামায়াত। যে জামায়াত কখনোই মন থেকে চায় না বিএনপি সংসদে গিয়ে সংসদীয় রাজনীতিতে ভূমিকা রাখুক। এমনিতেই বিএনপির রাজনৈতিক আদর্শ নেই। তারা জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে নিজেদের অস্তিত্বকে হুমকির মুখে নিয়ে গেছে। দোটানা মনোভাবের জন্য বিএনপি কার্যকর কোনও সরকারবিরোধী আন্দোলন করতে পারেনি। এখন সবাই তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা নিয়ে তর্ক-বিতর্ক করছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা হলেই সব সমস্যার সমাধান হবে না। দেশের সংকট উত্তরণে তৃতীয় শক্তি লাগবে। সেই শক্তি হলো দেশপ্রেমে নিবেদিত জনগণ। এ ক্ষেত্রে বামপন্থীরাও এগিয়ে আসতে পারে। নিজ দায়িত্বে মানুষকে জেগে উঠতে হবে। সবাই সচেতন হলে তখন অসত্য ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপনাতে প্রতিবাদ-প্রতিরোধ গড়ে উঠবে। -বাংলাদেশ প্রতিদিন : ১৮-১০-১২

সাক্ষাৎকারে দেয়া বক্তব্যে সম্মানিত ভাষাসৈনিক বলেছেন, ‘দিন দিন দুই নেত্রীর জনপ্রিয়তা কমছে। বিএনপি ডুবেছে জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে।' বলতে দ্বিধা নেই, ভাষাসৈনিক এখন আর আগের মতো চলাফেরা করতে পারেন না। প্রায়শ ঘরে শুয়েবসে থাকতে হয় তাকে। কী করে বুঝলেন, নেত্রীদের জনপ্রিয়তা কমছে? বর্তমান সরকারের যে বেহাল অবস্থা তাতে ভাষাসৈনিকের বক্তব্যের কিছুটা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেলায় খাটলেও খাটতে পারে। শেখ হাসিনা নিজে এবং তার মন্ত্রী সাহেবরা যতই সাফাই গান না কেন, পরিস্থিতি কিন্তু ত্রাহি মধুসূদন অবস্থা। দুর্নীতি যেভাবে দেশকে গ্রাস করেছে, তাতে ক্ষমতাসীনদের বুক ফুলিয়ে কথা বলবার আর কোনও জো নেই। শেয়ারবাজার, হলমার্ক, ডেসটিনি, জালিয়াতের মাধ্যমে ব্যাংকের টাকা লুট, পদ্মাসেতু শুরু হবার আগেই যেভাবে কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটেছে, ইমেজ রক্ষার যতো চেষ্টাই চলুক না কেন, পরিস্থিতি সম্ভবত ভিন্নরূপ। আশা করি, ক্ষমতাসীনরাও ঘটনা অাঁচ করতে পেরেছেন। কাজেই জনপ্রিয়তা যদি হারায় তাহলে সেটা আওয়ামী লীগের বেলায় খাটে। এদিক থেকে ভাষামতিন হয়তো আংশিক সত্য বলেছেন। কিন্তু বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম জিয়ার কিংবা বিএনপির জনপ্রিয়তা কমছে, এমন কথা বলা হয়তো আওয়ামী স্পোকম্যানদের মুখে মানায়। কিন্তু ভাষাসৈনিক আব্দুল মতিনের মুখে এমন কথা মানায় না। শোভা পায় না। আর তিনি ক্ষমতাসীনদের স্পোকম্যান হিসেবে কথাইবা বলতে যাবেন কেন?

সাবেক প্রেসিডেন্ট এরশাদ সাহেব সম্পর্কে কোনও কথা আমি বলতে চাই না। আর আমার মতো কোনও ক্ষুদ্র মানুষের কথায় এরশাদ সাহেব কিংবা জাতীয় পার্টির মতো একটি বড় রাজনৈতিক দলের কিছু যায়ও না। আসেও না। কিন্তু এরশাদ সাহেব এবং তার প্রতিষ্ঠিত দলকে সঙ্গে নিয়ে আওয়ামী লীগ কিংবা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার খুব একটা যে লাভ হয়নি তা অন্যদের মতো আমারও বুঝতে অসুবিধে হয়নি। তাই এরশাদ সাহেব ও তার দলকে সঙ্গে নিয়ে আওয়ামী লীগের ডোবাডুবির ব্যাপারে ভাষামতিনের বক্তব্যের বিরোধিতা করবার ধৃষ্টতা দেখাতে আমি চাই না। বরং এ ব্যাপারে ভাষাসৈনিককে সামান্য হলেও ধন্যবাদই জানাতে চাই। তবে ‘জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি কিংবা বেগম জিয়া ডুবেছেন' এমন কথা ভাষাসৈনিক সাহেব কেন বলতে গেলেন তা আমার বোধে আসছে না। অবশ্য আওয়ামী লীগ সবসময় চেষ্টা করেছে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি করতে। বিশেষত বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বে ১৮ দলীয় জোট গঠনের পর ক্ষমতাসীনদের মাথা চক্কর দিয়ে ওঠে। বিএনপি ও জামায়াত ছাড়া এ জোটের অন্য শরীক দলগুলো আকার-আয়তনে ছোট হলেও এ দুটি বড়দলের সঙ্গে গণতান্ত্রিক ও সরকারবিরোধী আন্দোলনকে বেগবান করতে তারাও যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, এ ভেবে ক্ষমতাসীদের অনেকেই চোখে সরষেফুল দেখছেন। তাই জামায়াত সম্পর্কে ইনিয়ে বিনিয়ে অনেক কিছুই বিএনপিকে গেলাতে চেষ্টা করছেন। কিন্তু তারা সফল হতে পারছেন না। দুর্ভাগ্যের বিষয় যে, শ্রদ্ধেয় এবং সম্মানিত ভাষাসৈনিকও আওয়ামী ঘরানার হয়ে কথা বলতে চাচ্ছেন। অবশ্য এতে বিস্মিত হবার মতো তেমন কিছু দেখছি না। কেননা ভাষাসৈনিক মতিন সাহেব বামধারার রাজনীতিতে বিশ্বাসী। তিনি বাম ও রামদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখলেও ডানপন্থী ও ইসলামপন্থীদের তেমন ভালো চোখে দেখেছেন এমন নজির নেই। ইসলাম যে শুধু নিছক কোনও ধর্মবিশ্বাস নয় এবং এটি একটি পূর্ণাঙ্গ দীন বা জীবনব্যবস্থা এমন ধারণাও হয়তো ভাষাসৈনিকের নেই। বিশেষত যারা বাম রাজনীতির সঙ্গে জড়িত তারাতো ধর্ম স্বীকারই করেন না। কাজেই ইসলামের মতো একটি পরিপূর্ণ আদর্শকে তারা গ্রহণযোগ্য মনে করবেন কোন দুঃখে? তাই তারা এখনও কমিউনিজমের মতো একটি চিরপ্রত্যাখ্যাত মতাদর্শকে মনে মনে লালন করে আসছেন এবং বাংলাদেশেও এর বাস্তবায়নের দুঃস্বপ্ন দেখছেন।

ভাষাসৈনিক বলেছেন, এরশাদ সাহেব আওয়ামী লীগের ঘণ্টা বাজিয়ে ছেড়ে দেবেন। ঘণ্টা কে বাজাচ্ছেন, এরশাদ? না আওয়ামী লীগ নিজে? আওয়ামী লীগ নিজে ঠিক থাকলে অন্যে কীভাবে কারুর ঘণ্টা বাজায়? তবে এরশাদ সাহেব মাঝে মধ্যে ‘ছাড়বো ছাড়বো' করেন। কিন্তু ছাড়েন না। ভাষাসৈনিকের ভাষণমতে আওয়ামী লীগের ঘণ্টা বাজিয়েই এরশাদ চলে যাবার অপেক্ষা করছেন কিনা কে জানে। তবে নিজের ঘণ্টা বাজবে অথচ আওয়ামী লীগের মতো একটি বড়দল তা বুঝে উঠতে পারবে না বা এরশাদ সাহেবকে চিনতে পারবে না, এমনটি বোধহয় বিশ্বাসযোগ্য নয়। তিনি আরও একটি কথা বলেছেন, বিএনপির দুর্বলতার সুযোগে নাকি তাদের ওপর ছড়ি ঘোরানো জামায়াতের বেড়ে যাবে। কিন্তু কীভাবে? বিএনপি কি এতই দুর্বল? যে দলটি তিন তিনবার নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠন করেছে, তাদের ওপর ছড়ি ঘোরানোর প্রশ্নতো উঠতেই পারে না। আসলে অনেকের মতো ভাষামতিনও জামায়াত সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর কথা বলে বিএনপির মতো একটি শক্তিশালী দলকে ভয় দেখাবার প্রয়াস পেয়েছেন। বিশেষ করে শহীদ জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলকে ভয় দেখিয়ে লাভ নেই। দলীয় কোনও দুর্বলতা থাকতেই পারে। বিশেষত ক্ষমতাসীন দলটি ক্ষমতার অপব্যবহার করে শুধু বিএনপি নয়, ১৮ দলের নেতাকর্মীদের নানাভাবে হয়রানি করে চলেছে। মিথ্যে মামলা ও হামলা দিয়ে তাদের দুর্বল করা হচ্ছে। কাউকে কাউকে বিভিন্নভাবে লোভনীয় প্রস্তাবও দেয়া হচ্ছে ক্ষমতাসীনদের তরফ থেকে।

ভাষাসৈনিক আরও বলেছেন, বিএনপি-আওয়ামী লীগ আর জামায়াত-জাতীয় পার্টি সবদলই নাকি ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করে। তার একথাও ঠিক নয়। জামায়াত ব্যতীত অন্য দলগুলো ধর্মভিত্তিক রাজনীতি করে না। তবে তারা মাঝে মাঝে ধর্মের কথা বলতে বাধ্য হন। বিশেষ করে নির্বাচন ঘনিয়ে এলে আওয়ামী নেতানেত্রীরা ধর্মের লেবাস পরতে শুরু করেন। প্রয়োজন হলে মক্কা-মদীনাও ঘুরে আসেন। বিএনপি ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করে না ঠিক। তবে এ দলটি ধর্মবিরোধীও নয়। জামায়াত ইসলামভিত্তিক দল। তবে ধর্মীয় গোঁড়ামি জামায়াত অনুসরণ করে না। জামায়াত যেমন ইসলামভিত্তিক দল, তেমনি গণতান্ত্রিকও। ইসলাম ও গণতন্ত্রের সহাবস্থান জামায়াতের গঠনতন্ত্রে স্বীকৃত। এ দলের গঠনতন্ত্রে কুরআন-সুন্নাহর প্রাধান্য থাকলেও অন্য ধর্মের অনুসারীদের জানমালের নিরাপত্তা যেমন নিশ্চিত করা হয়েছে, তেমনি তাদের ধর্মপালনের অধিকারও দেয়া হয়েছে। প্রকৃত অর্থে ইসলাম কোনও মানুষের ধর্মীয় অধিকার ক্ষুণ্ণ করে না। ইসলাম হচ্ছে সর্বাধুনিক শ্রেষ্ঠতম জীবনাদর্শ। কুরআন-সুন্নাহর আলোকে যারা রাজনীতি করেন, তাদের দ্বারা মানুষের যেমন কোনও ক্ষতি হতে পারে না, তেমনি তাদের দ্বারা মানবসভ্যতাও ক্ষতিগ্রস্ত হয় না। তাইতো পৃথিবীর অনেক দেশে আজও অনেক মানুষ ইসলামের আলোকে নিজেদের জীবন আলোকিত করে তুলছে। অথচ আমাদের দেশে বামপন্থীরা নিজেদের ভুলে এখনও ইসলামকে সুদৃষ্টিতে দেখতে পারছে না। ইসলামভিত্তিক রাজনীতিকদেরও নানাভাবে ঈর্ষাকাতর নজরে দেখছে। এমন দৃষ্টিভঙ্গি শ্রদ্ধেয় ভাষাসৈনিক আবদুল মতিনের মধ্যেও বিরাজমান। দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, এমন মানসিকতা পোষণ করেন বলেই জামায়াত ও এর রাজনৈতিক কর্মকান্ড সম্পর্কে আলোচ্য গুণীব্যক্তিও বিরূপ চিন্তা-চেতনা ধারণ করে চলেছেন জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে এসেও। এজন্যই তিনি জামায়াতের রাজনীতি কিংবা বিএনপি, আওয়ামী লীগ আর জাতীয় পার্টির রাজনীতির মধ্যে তফাৎ খুঁজে পান না।

ভাষামতিন বলেছেন, ‘দেশের সংকট উত্তরণে তৃতীয় শক্তি লাগবে। সেই শক্তি হলো দেশপ্রেমে নিবেদিত জনগণ। এক্ষেত্রে বামপন্থীরাও এগিয়ে আসতে পারে।' তিনি জনগণকে তৃতীয় শক্তি বলেছেন। খুব ভালো কথা। কিন্তু বামপন্থীরা এগিয়ে এসে কী করবেন? এদেশের জনগণের মধ্যে তাদের কী কোনও অস্তিত্ব আছে? এটাই ভাষামতিনের মতিভ্রম। যা তিনি জীবনের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত লালন করে চলেছেন।

সর্বজন শ্রদ্ধেয় ভাষাসৈনিক আবদুল মতিন এ বয়সেও যদি দেশের কোনও রাজনৈতিক সংগঠন সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণার অভাবে ভাসাভাসা বক্তৃতা-বিবৃতি দিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করবার প্রয়াস পান কিংবা বার্ধক্যের চাপে তার মতিভ্রমবশত দেশ ও জাতিকে অনাকাঙ্ক্ষিত বিভক্তির দিকে ঠেলে দেন, তাহলে সেটা হবে আমাদের জন্য খুবই দুর্ভাগ্যের এবং বেদনার। আল্লাহ তাকে মতিভ্রম থেকে রক্ষা এবং সুমতি দান করুন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ