ঢাকা, রোববার 21 October 2012, ৬ কার্তিক ১৪১৯, ৪ জিলহজ্জ ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition

চট্টগ্রামে কুরবানীর পশুর হাটে আমদানি প্রচুর দাম বেশি

চট্টগ্রাম অফিস : ঈদুল আযহার মাত্র ৭ দিন বাকি। চট্টগ্রামের  বিভিন্ন স্থানে কুরবানীর পশুর হাট বসেছে। কুরবানীর পশু গরু, ছাগল আমদানি হয়েছে প্রচুর। কিন্তু পশুর হাটগুলো এখনও জমজমাট হয়ে ওঠেনি। গরু বিক্রেতারা আশা করছে কাল থেকে পুরোদমে জমে উঠবে কুরবানীর হাট। বেচাকেনা হবে গরু-ছাগল। নগরীর সবচেয়ে বড় গরুর হাট বসেছে সাগরিকা গরু বাজার ও আশপাশের এলাকায়। ২য় বড় বাজার হচ্ছে বিবিরহাট গরু বাজার। এছাড়া অস্থায়ী বাজারগুলো হচ্ছে, সল্টগোলা, স্টিল মিল, পতেঙ্গা সিটি কর্পোরেশন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ, বাকলিয়ায় সিডিএ'র কল্পলোক আবাসিক এলাকার মাঠ এবং কমল মহাজন হাট।

জানা গেছে, ক্রেতার সুবিধার জন্য গতবারের মতো এবারও সাগরিকা গরুর হাটকে ৩ ভাগে ভাগ করা হয়েছে। একটিতে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহের, অপর বাজারে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও কুমিল্লার এবং আরেকটিতে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা দেশীয় গরু বিক্রি হচ্ছে।

সরেজমিনে ঘুরে জানা  গেছে, সাগরিকা গরু বাজারে কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, সিরাজগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ঝিনাইদহ, ফরিদপুর, কুমিল্লা, টাঙ্গাইল, রাজশাহী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, যশোর, ময়মনসিংহ, ঢাকার দোহারসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিশাল বিশাল গরু, ষাঁড়, মাঝারি ও ছোট সাইজের  গরু এসেছে। এসেছে ভারত ও নেপালি গরুও। তবে হাটে গত কয়েকদিন ক্রেতারা আসেনি। যারা এসেছেন তারা দরদাম জিজ্ঞাসার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। ক্রেতাদের বাজারে আসা শুরু না হলেও ব্যস্ততায় কমতি নেই বিক্রেতাদের। এখন ক্রেতার অপেক্ষায় আছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গরু নিয়ে আসা ব্যাপারিরা। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে চট্টগ্রামের হাটে আসা গরু বিক্রেতারা জানান, দুই দিন আগে থেকেই চট্টগ্রামে গরু নিয়ে পৌঁছেছেন তারা। গতকাল শনিবার পর্যন্ত কোনো গরু বিক্রি হয়নি। তবে মাঝে মাঝে ক্রেতারা এসে গরু দেখে যাচ্ছেন। কুষ্টিয়ার ঝিনাইদহ থেকে মনোয়ার হোসেন বেপারী  ১০টি বড় আকারের গরু নিয়ে এসেছেন । এরমধ্যে একটি গরুর দাম হেঁকেছেন ১০ লাখ টাকা। তার কাছে সর্বনিম্ন দামের গরু আছে ২ লাখ টাকা। কুষ্টিয়ার হাতিয়া গ্রামের মোঃ আলিম একই বাজারে ১০২ টি গরু নিয়ে এসেছেন। তিনি জানালেন এরমধ্যে ২০টি গরু নিজের খামারে পালা। এছাড়া রয়েছে ৪টি নেপালি গরু। নেপালি ৪টি গরুর দামই বেশি বলে জানালেন আলিম। তিনি বলেন, ১০২টা গরুর মধ্যে ৪টি নেপালি ষাঁড় রয়েছে। প্রত্যেকটি নেপালি গরুর দাম হেঁকেছেন তিনি ৫ লাখ টাকা। তার কাছে ১ লাখ টাকার নিচে কোন গরু নেই বলে জানান। ঝিনাইদহ থেকে ১২টি গরু নিয়ে আসা মোঃ শমসের আলী তার দুটি গরুর দাম চেয়েছেন ১২ লাখ টাকা। ঢাকার দোহার থেকে ১৫টি বড় আকারের গরু নিয়ে এসেছেন মোঃ আসলাম। প্রত্যেকটি গরু আড়াই থেকে ৩ লাখ টাকায় বিক্রি করবেন বলে তিনি। কুষ্টিয়া থেকে গিয়াসউদ্দিন এনেছেন বিশাল বিশাল ১৫টি ষাঁড়। তিনি প্রতিটি ষাঁড় ৩ লাখ টাকা করে বিক্রি করবেন বলে জানান। কুষ্টিয়ার নিজাম দুটি বিশাল বলদ গরু এনেছেন। তিনি প্রতিটি গরুর দাম হেঁকেছেন ৬ লাখ টাকা। কালাম বেপারী দুইটি ষাঁড় প্রতিটি দাম হেঁকেছেন ১০ লাখ টাকা। সাগরিকা গরু হাটে গতকাল শনিবার বিকাল পর্যন্ত গরু বেচাকেনা তেমন হয়নি বলে বিক্রেতারা  জানায়।

 সাগরিকায় গরুর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ছোট-বড় গরুর পাশাপাশি সাগরিকা বাজারে এসেছে প্রচুর ছাগল । ১২ থেকে ২০ হাজারের মধ্যে এসব ছাগল বিক্রি করবেন বলে ব্যাপারীরা জানিয়েছেন।

হাটে আসা কয়েকজন ক্রেতা এ প্রতিবেদককে জানায়, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহের, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও কুমিল্লার গরুর দাম বেশি হাঁকছেন বিক্রেতারা । ছোট ছোট গরু ৮০-৯০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা, মাঝারি গরু ৩/৪ লাখ টাকা, বড় গরু ৬/১০ লাখ টাকা হাঁকছেন। বিক্রেতারা এখন দাম ধরে ক্রেতা পরখ করছে। আগামী ২/৩ দিন পর তারা দাম কমাবে বলে ক্রেতারা আশা করছেন। বিবিরহাট গরু বাজারে গরু বেচাকেনা হচ্ছে কম। তবে আগামীকাল থেকে  কুরবানী পশু বিক্রি বাড়বে বলে বিক্রেতারা জানায়।

এদিকে জানা গেছে, চট্টগ্রামের আটটি উপজেলায় স্থায়ী-অস্থায়ী মিলে মোট ৪০টি বাজার বসছে। এর মধ্যে সাতকানিয়ায় বসছে কেরানিহাটে। লোহাগাড়ার তিনটি হলো চুনতি ডেপুটি বাজার, আধুনগর ও পদুয়া তেওয়ারিহাট। চন্দনাইশের পাঁচটি হলো দোহাজারী হাজারিহাট, দেওয়ানহাট, বাগিচার হাট, খানহাট, রওশনহাট। পটিয়ার চারটি হলো মনসারটেক, শান্তিরহাট, কলেজ বাজার, মইজ্জ্যারটেক ও এতিমখানা বাজার। আনোয়ারার চারটি হলো ফাজিলখাঁরহাট, চাতরি চৌমুহনী, সরকারহাট ও মালঘর বাজার। তবে বেশি বাজার আছে হাটহাজারী-অক্সিজেন সড়কে ১৬টি। এগুলো হলো ফতেয়াবাদ, আমানবাজার, বিশ্ববিদ্যালয় এক নং গেট, মদনহাট, ইসলামিয়া হাট, চৌধুরীহাট, বালুখালী বাজার, মুহুরিহাট, সরকারহাট, মইন্যা পুকুর, শাহজাহান শাহ (রহঃ) মাজার গেট, কাটিরহাট, নূরআলী মিয়ারহাট, নাজিরহাট নতুন রাস্তার মোড় ও নাজিরহাট বাজার। ফটিকছড়ির ছয়টি হলো এবিসি স্কুল মাঠ বাজার, বারৈয়ারহাট, রাজঘাট বাজার, পেলা গাজীর দিঘির মাথা, আন্ডা মার্কেট (সদর), নাজিরহাট হাসপাতাল রোড মাথা। সর্বত্র কুরবানীর হাট নিয়ে চলছে উৎসবমুখর অবস্থা।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ