ঢাকা, রোববার 21 October 2012, ৬ কার্তিক ১৪১৯, ৪ জিলহজ্জ ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition

আ'লীগের চক্রান্তে ৫৭ সেনা কর্মকর্তা শহীদ হয়েছেন নতজানু নীতির কারণে সীমান্তে হত্যা বন্ধ হচ্ছে না-- আ স ম হান্নান শাহ

স্টাফ রিপোর্টার : বিএনপি'র স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবঃ) আ স ম হান্নান শাহ বলেছেন, ২০০৯ সালে পিলখানায় বিডিয়ার বিদ্রোহের সময় মেধাবী দেশপ্রেমিক ৫৭ জন সেনা অফিসার আওয়ামী লীগের চক্রান্তের শিকার হয়েই শহীদ হয়েছেন। তিনি বলেন, সরকারের তদন্তেই এখন বেরিয়ে আসছে যে, পিলখানায় বিডিয়ার বিদ্রোহের আগে আওয়ামী লীগ নেতা শেখ সেলিমের সঙ্গে ষড়যন্ত্রকারী কিছু  জওয়ানদের বৈঠক হয়েছে। ঐ সময়ে বিএনপির কোনো নেতাদের সঙ্গে কারো বেঠক হয়নি।

গতকাল শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ‘স্বদেশ মঞ্চ' আয়োজিত বিএসএফ কর্তৃক সীমান্তে বার বার বাংলাদেশী নাগরিক হত্যা এবং সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতি পরিহারের দাবিতে প্রতিবাদী অবস্থান কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

সীমান্ত প্রসঙ্গে হান্নান শাহ্ বলেন, বাংলাদেশের সীমান্তে যে ধরনের হত্যাকান্ড চলছে পৃথিবীর কোনো সীমান্তবর্তী দেশে এ ধরনের ঘটনার নজির নেই। কিন্তু সরকার এ ব্যাপারে নীরব ভূমিকা পালন করছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সীমান্ত  আজ অরক্ষিত। এর কারণ হচ্ছে সীমান্তে এখন আর বিডিআর নেই। ওখানে আছে গার্ড। তাদের হাতে বন্দুক নেই, থাকলেও তারা কিছুই করতে পারে না।

প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে হান্নান শাহ বলেন, তাকে আমি কিছু বলতে চাই না। কারণ ওনার বাবা বলেছিলেন তার ডানে চোর বামে চোর চারিদিকে চোর। উনার সরকারে চোর যে নেই তা বিশ্বাস করবো কি করে। আপনারা দেখেন উনার মন্ত্রী ছিলেন আবুল হোসেন, বাবু সুরঞ্জিত, উপদেষ্টা তৌফিক-ই এলাহী, মসিউর রহমান  তারা সবাই  কোনো না কোনো কেলেঙ্কারির সঙ্গে জড়িত। প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে হান্নান শাহ  আরো বলেন, এক সময় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যার বিষয়ে বলেছিলেন, একটি লাশ পড়লে দশটি লাশ পড়বে। আমরা এখন দেখার অপেক্ষায় আছি, সীমান্তে বাংলাদেশিদের একটি লাশ পড়লে কয়টি লাশ পড়ে।

রামুর ঘটনা সম্পর্কে তিনি বলেন, রাষ্ট্রদূতরা যখন রামুতে যেতে চাইল তখন তাদের যাওয়ার অনুমতি দেয়নি সরকার। কারণ তারা পরিদর্শন করলে আসল ঘটনা বের হয়ে যেত। হান্নান শাহ বলেন, আরেক ঘটনা নাফিস। সরকারি দল বলছে নাফিস জামায়াতের কি না। আমি জানি না সে কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য কি না। তবে এটা ঠিক তার বাড়ি গোপালগঞ্জে। আমেরিকায় বাংলাদেশী  এই যুবক নাফিসের আটকের ঘটনাকে নাটক বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। তিনি বলেন, আমি সেনাবাহিনীতে ছিলাম। অনেক ব্যাংকার ধ্বংসের অভিজ্ঞতা আমার আছে। একটি ভবন উড়িয়ে দেয়া এত সহজ কথা নয়। আমেরিকা মূলতঃ এ ঘটনা নিয়ে নাটক সাজাচ্ছে।

 হান্নান শাহ বলেন, এই সরকার দিয়ে দেশ চলতে পারে না। এই সরকারের আমলে ঘরে বাইরে কোনো নিরাপত্তা নেই। অতএব যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই সরকারকে বিদায় করা উচিত। স্বদেশ মঞ্চের সভাপতি মামুনুর রশিদ খানের সভাপতিত্বে প্রতিবাদী সভায় বক্তব্য রাখেন, বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান খান দুদু, স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাসের মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহ, এলডিপির যুগ্ম-সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন প্রমুখ।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ