ঢাকা, রোববার 21 October 2012, ৬ কার্তিক ১৪১৯, ৪ জিলহজ্জ ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition

আ'লীগ মুখে গণতন্ত্রের কথা বলছে আর বাস্তবে গলাটিপে হত্যা করছে

রাজশাহী অফিস : জামায়াতে ইসলামী রাজশাহী মহানগরীর আমীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আতাউর রহমান বলেছেন, দেশ আজ চরম সঙ্কটের মুখোমুখি। আইন-শৃক্মখলার চরম অবনতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, শেয়ার মার্কেটে লুটপাট, ব্যাংক জালিয়াতি, দলীয়করণ, আত্মীয়করণ, দুর্নীতি, টেন্ডারবাজি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, অর্থনৈতিক অচলাবস্থা, বিনিয়োগের অভাব, গ্যাস-বিদ্যুৎ পানি সঙ্কট ও শিক্ষাঙ্গনে বিশৃক্মখলাসহ হাজারো সমস্যায় জর্জরিত দেশ। কিন্তু এসব সমস্যার সমাধানে আওয়ামী লীগ সরকারের কোনো মাথাব্যথা নেই। অথচ নির্বাচনের প্রাক্কালে আওয়ামী লীগ জনগণের নিকট অনেক ওয়াদা করেছিল। এসব ওয়াদার কথা ভুলে গিয়ে বিরোধী দলের ওপর দমন পীড়ন চালিয়ে দেশকে বাকশালী শাসনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

গতকাল শনিবার বিকেলে মহানগর কার্যালয়ে থানা আমীর ও সেক্রেটারিদের নিয়ে এক গোলটেবিল বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজশাহী মহানগরীর ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি ডা. মুহাম্মদ জাহাঙ্গীরের পরিচালনায় এই অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক আব্দুস সামাদ, অধ্যাপক জালাল উদ্দিন, আব্দুল হাই, সারওয়ার জাহান, আব্দুর রহীম, ডা. রেজাউল করীম প্রমুখ। আতাউর রহমান বলেন, নির্বাচনের প্রাক্কালে আওয়ামী লীগ ওয়াদা করেছিল কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী কোনো আইন পাস করবে না। কিন্তু ক্ষমতায় আসীন হয়েই সংবিধান থেকে ‘আল্লাহর প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস উঠিয়ে দিয়ে ধর্মনিরপেক্ষতা চালু করেছে। এ সরকারের আমলে কুরআনের তাফসির মাহফিল বন্ধ করার জন্য ১৪৪ ধারা পর্যন্ত জারি করা হয়েছে। বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মেয়েদের পর্দা পালনে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। ধর্মহীন শিক্ষানীতি চালুর মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে ইসলাম থেকে দূরে ঠেলে দেয়ার চক্রান্ত করা হচ্ছে। আলেম-ওলামাদের লাঠিপেটাও করছে এ সরকার। আওয়ামী লীগ মুখে গণতন্ত্রের কথা বললেও বাস্তবে গণতন্ত্রকে গলাটিপে হত্যা করছে। বিরোধী দল বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে মিছিল সমাবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। মিছিল বের করলেই লাঠিপেটা করা হচ্ছে। গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে। জামায়াতের কেন্দ্রীয় অফিস ও মহানগরী অফিসে কোনো কার্যক্রম করতে দেয়া হচ্ছে না। মিছিল সমাবেশ করার সাংবিধানিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। বিভিন্ন সময়ে হাজার হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করে জেলে পাঠানো হয়েছে। রিমান্ডে নিয়ে নির্যাতন চালানো হয়েছে। ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল এ টি এম আজহারুল ইসলাম ও কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক অধ্যাপক মোঃ তাসনীম আলমকে ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে সরকার চরম প্রতিহিংসার নমুনা দেখিয়েছে। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশে এখন মানবাধিকার চরমভাবে ভূলুণ্ঠিত হচ্ছে। এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশ পরিচালনার পরিবর্তে বিরোধী দলের ওপর জুলুম অত্যাচার চালিয়ে যাচ্ছে। সরকারের বিরুদ্ধে যাতে কার্যকর কোনো আন্দোলন গড়ে উঠতে না পারে সে জন্য বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ দল জামায়াতে ইসলামীর আমীর সাবেক মন্ত্রী মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী, সাবেক আমীর অধ্যাপক গোলাম আযম, নায়েবে আমীর ও জাতীয় সংসদের সাবেক সদস্য মাওলানা আবদুস সুবহান, বিশ্বনন্দিত মুফাসসিরে কুরআন সাবেক জাতীয় সংসদ সদস্য মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, সেক্রেটারি জেনারেল সাবেক মন্ত্রী আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল কামারুজ্জামান, আব্দুল কাদের মোল্লা, এ টি এম আজহারুল ইসলাম, নির্বাহী পরিষদ সদস্য মীর কাসেম আলীকে গ্রেফতার করে কারাগারে আটকিয়ে রাখা হয়েছে। তথাকথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের নামে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে বিচারের নামে প্রহসন চলছে। যে আইনে তাদের বিচার হচ্ছে দেশী ও বিদেশী আইনজ্ঞদের মতে তা হচ্ছে মানবতাবিরোধী আইন। এ আইনে মানবাধিকার উপেক্ষিত। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নেতৃত্বশূন্য করার হীন রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই এই বিচারের নামে প্রহসন চলছে। তিনি অবিলম্বে শীর্ষ নেতৃবৃন্দের মুক্তি দাবি করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ