ঢাকা, রোববার 21 October 2012, ৬ কার্তিক ১৪১৯, ৪ জিলহজ্জ ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition

সরকারের জুলুম-নির্যাতন সকল সীমা অতিক্রম করেছে - নূরুল ইসলাম বুলবুল

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরীর সেক্রেটারি নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেছেন, সরকারের জুলুম-নির্যাতন সকল সীমা অতিক্রম করেছে। তারা নিজেদের ক্ষমতাকে কুক্ষিগত করার জন্যই বিরোধী দলের ওপর জুলুম-নির্যাতনের তীব্রতা বাড়িয়ে দিয়েছে। আর সে ধারাবাহিকতায় মিরপুরে ইনডোরে কর্মী সমাবেশ চলাকালে পুলিশ অতর্কিতভাবে প্রবেশ করে অতর্কিত হামলা, বেধড়ক লাঠিপেটা, নির্মম ও নিষ্ঠুর নির্যাতন, টিয়ারশেল ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে জামায়াতের ঢাকা মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য ও মিরপুর পূর্ব থানার আমীর আব্দুর রহমান মুসাসহ ১২ জন নেতা-কর্মীকে পুলিশ অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করে এক বিভীষিকাময় পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। পরে তাদেরকে  মিথ্যা মামলা দিয়ে রিমান্ডে নেয়া হয়। তিনি বলেন, এ ঘটনার মাধ্যমে প্রমাণ হয়েছে আওয়ামী লীগ গণতন্ত্র ও আইনের শাসনে বিশ্বাস করে না বরং ফ্যাসিবাদী ও বাকশালী কায়দায় ভিন্ন মতকে দমন করতে চায়। কিন্তু সরকারের সে স্বপ্ন জনগণ কখনোই বাস্তবায়িত হতে দেবে না। তিনি জুলুম-নির্যাতনের পথ পরিহার করে অবিলম্বে মিরপুর পূর্ব থানার আমীর আব্দুর রহমান মুসাসহ গ্রেফতারকৃত জামায়াত নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে অবিলম্বে তাদেরকে এবং আমীরে জামায়াতসহ জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের নিঃশর্ত মুক্তি দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান। অন্যথায় সচেতন জনতা এই ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র গণপ্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

গতকাল শনিবার রাজধানীতে জামায়াতে ইসালামী ঢাকা মহানগরী আয়োজিত ঢাকা মহানগরীর কর্মপরিষদ সদস্য ও  মিরপূর পূর্ব থানার আমীর আব্দুর রহমান মুসাসহ ১২ জামায়াত নেতা-কর্মীকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতারের প্রতিবাদে এবং তাদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে এক বিক্ষোভ মিছিল পরবর্তী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগরী সহকারী সেক্রেটারি মুহাম্মদ সেলিম উদ্দীন, শেরে বাংলানগর থানার আমীর অধ্যাপক আ জ ম কামাল উদ্দীন, তেজগাঁও থানা আমীর সালাহউদ্দীন ও সেক্রেটারি শেখ নিয়ামুল করিম, বাড্ডা সেক্রেটারি ফখরুদ্দীন মোঃ কেফায়াতুল্লাহ ও বনানী সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।

নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, সরকার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে এবং দেশকে করদ রাজ্য বানানোর জন্য ৪০ বছর আগে মীমাংসিত কথিত যুদ্ধাপরাধের বিচারকে ইস্যু বানিয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের নামে নিজেরাই মানবতাবিরোধী অপরাধ ও মানবাধিকারের চরম লংঘন করছে। তারা কথিত বিচারে কোন বিধি-বিধান অনুসরণ না করে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য বিচারের নামে প্রহসনের আয়োজন করেছে। কিন্তু এই প্রহসনের বিচার জনগণ কখনোই মেনে নেবে না বরং যেকোন মুল্যে ফ্যাসিবাদী সরকারের সকল ষড়যন্ত্র রুখে দেবে। তিনি কথিত বিচারের নামে প্রহসন বন্ধ, অবৈধ ট্রাইব্যুনাল বাতিল করে আমীরে জামায়াত মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীসহ জামায়াতের শীর্ষ নেতাদের অবিলম্বে মুক্তি দেয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহবান জানান। অন্যথায় জনগণ রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমেই জাতীয় নেতৃবৃন্দকে মুক্ত করে আনবে। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ