ঢাকা, রোববার 21 October 2012, ৬ কার্তিক ১৪১৯, ৪ জিলহজ্জ ১৪৩৩ হিজরী
Online Edition

সরকারের নতজানু পরাষ্ট্রনীতির কারণে সীমান্তে হত্যাকান্ড বন্ধ হচ্ছে না

স্টাফ রিপোর্টার : ভারতীয় সীমান্ত রক্ষীবাহিনী বিএসএফ কর্তৃক নিরীহ বাংলাদেশী নাগরিকদের হত্যার জন্য সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতিকে দায়ী করেছে গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা। দলটির নেতারা বলেছেন সরকার এই হত্যাকান্ডের কোন প্রতিবাদ করছে না। সরকারের নতজানু পরাষ্ট্রনীতির কারণে সীমান্তে বিএসএফ হত্যাকান্ড বন্ধ করছে না। পাখিরমতো গুলী করে প্রতিনিয়ত বাংলাদেশের নাগরিকদের হত্যা করছে।

গতকাল শনিনবার বিকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ‘সীমান্তে হত্যাকান্ডকে মৃত্যু বলে জায়েজ করার ষড়যন্ত্র রুখে দাঁড়ান' শিরোনামে এক প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা এ কথা বলেন। সমাবেশের আগে বক্তারা একটি বিক্ষোভ মিছিল করেন যা প্রেস ক্লাব থেকে কদম ফোয়ারা পল্টন হয়ে আবার প্রেস ক্লাবে শেষ হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বাম মোর্চার সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকী। বক্তব্য রাখেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, ওয়ার্কার্স পার্টি পুনর্গঠিত-এর সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আবদুস সাত্তার, প্রকৌশলী ম এনামুল হক, মোশরেফার মিশু, নজরুল ইসলাম প্রমুখ।

গাইফুল হক বলেন, সীমান্তে ভারত যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি করেছে। প্রতিনিয়ত হত্যা করছে নিরীহ বাংলাদেশী নাগরিকদের। আর হত্যা হবে না বলে একের পর এক চুক্তি করলেও চুক্তির তোয়াক্কা করছে না। বরং বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে প্রতিদিনই বিএসএফ নাগরিকদের গুলী করছে, মানুষ হত্যা করছে। বিএসএফ'র তান্ডবে প্রমাণ হয়েছে মহাজোট সরকারের আমলে সীমান্তের মানুষ নিরাপদ নয়। সীমান্তের অধিবাসী বাংলাদেশের মানুষ ভয়, শঙ্কা আর উদ্বেগের সঙ্গে দিন-রাত পার করছেন।

আজকে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা বিপন্ন। স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বও হুমকির মুখে। তাই সরকার যদি বাংলাদেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা দিতে না পারে তাহলে জনগণের উচিত হবে এই সরকারকে বিদায় করা। ক্ষমতা থেকে উচ্ছেদ করা ছাড়া জনগণের সামনে আর কোন বিকল্প নেই।

মোশরেফা মিশু বলেন, সীমান্তে হত্যা বন্ধ হবে এই ঘোষণা আর কতদিন চলতে থাকবে। গত ১০ দিনে সীমান্তে বিএসএফ বাহিনী ১০জন বাংলাদেশীকে হত্যা করেছে। মহাজোট সরকারের আমলে এ পর্যন্ত হত্যা করেছে ৩৫ জনকে। জাতীয় নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলে এভাবে আর কতদিন চলবে। তিনি বলেন, সরকার সীমান্ত হত্যা বন্ধে কার্যকর কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তাই দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে রয়েছে। এই অবস্থায় মানুষকে সংঘবদ্ধ করা না হলে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা যাবে না।

অধ্যাপক আবদুস সাত্তার বলেন, ভারত আধিপত্যবাদ লালন করে। তারা আমাদের নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। আমাদের দেশে প্রভাব বিস্তার করতে চায়। এজন্য তারা সীমান্তে হত্যা চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমান সরকার ভারতকে ট্রানজিট দিয়েছে কিন্তু বাংলাদেশের কোন লাভ আমরা দেখতে পাচ্ছি না। ট্রানজিট দেয়ার পর আমরা সীমান্তে ফেলানীর লাশ পেয়েছি। দেশে বিদেশে কাঁটাতারে ফেলানীর লাশ ঝুলতে দেখে নিন্দার ঝড় বয়ে গেছে। আমরা ভারতের এই হত্যাকান্ডের তীব্র নিন্দা জানাই। ভারতীয় শাসকদের প্রতিও তীব্র নিন্দা জানাই যারা সীমান্তে হত্যা বন্ধে কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তিনি বলেন, সীমান্তে হত্যা বন্ধ না করে ভারত আমাদের বুঝিয়ে দিয়েছে তারা আমাদের শত্রু নয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ