রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাস আর নেই

 

স্টাফ রিপোর্টার : সাবেক রাষ্ট্রপতি আবদুর রহমান বিশ্বাস ইন্তিকাল করেছেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়াইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

গুলশানস্থ ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল শুক্রবার রাত আটটা ৪০ মিনিটের তিনি ইন্তিকাল করেন।

এর আগে আশংকাজনক অবস্থায় বনানীস্থ গ্রান্ড প্রেসিডেন্ট প্যালেস বাসভবন থেকে সন্ধ্যার পর সাবেক এই রাষ্ট্রপতিকে গুলশানস্থ ইউনাইটেড হাসপাতালে জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়।

উল্লেখ্য, আবদুর রহমান বিশ্বাস বাংলাদেশের ১১ তম রাষ্ট্রপতি ছিলেন। তিনি ১৯২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর বরিশালের শায়েস্তাবাদ গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। আবদুর রহমান বিশ্বাস-এর স্কুল ও কলেজ জীবন বরিশালে কাটে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ (সম্মান) ও ইতিহাস এবং আইনে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।

প্রথমে তিনি স্থানীয় সমবায় ব্যাংকের সভাপতি হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। শিক্ষাবিস্তারেরে উদ্দেশ্যে তিনি কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন। এই কাজের জন্য সরকার ১৯৫৮ সালে তাকে সেচ্ছাসেবী সমাজকর্মী হিসেবে স্বীকৃতি দান করে। ষাটের দশকে কিছু দিন বাবুগঞ্জ পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। পরে বরিশালে আইন পেশায় জড়িয়ে পড়েন।

১৯৬২ ও ১৯৬৫ সালে তিনি পূর্ব পাকিস্তান আইন সভার সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৬৫ থেকে ১৯৬৯ পর্যন্ত তিনি সংসদ সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৭ সালে তিনি জাতিসংঘের ২২তম সাধারণ সভায় অংশ গ্রহণ করেন। ১৯৭৪ ও ১৯৭৬ সালে তিনি বরিশাল বার আসোসিয়েশনের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৭৭ সালে তিনি বরিশাল পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

১৯৭৯ সালের সাধারণ নির্বাচনে আবদুর রহমান বিশ্বাস সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৭৯-৮০ সময়ে তিনি রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভায় পাট মন্ত্রী ছিলেন এবং ১৯৮১-৮২ সালে রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তারের মন্ত্রী সভায় স্বাস্থ্য মন্ত্রী ছিলেন।

বাংলাদেশে সংসদীয় শাসন ব্যবস্থা চালু হবার পর ১৯৯১ এর ৮ অক্টোবর দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন আবদুর রহমান বিশ্বাস। রাষ্ট্রপতি থাকাকালীন তিনি দেশের এক সামরিক ক্যু প্রতিহত করেন। ১৯৯৬ সালের ৮ অক্টোবর তার রাষ্ট্রপতি হিসেবে মেয়াদ শেষ হয়। রাষ্ট্রপতি থাকাকালেই ১৯৯৬ সালের এক সেনা ক্যু ঠেকিয়ে দেশবাসীর কাছে যথেষ্ট প্রশংসা কুড়ান।

রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়ার পর আব্দুর রহমান বিশ্বাস রাজনীতি থেকে অবসর নেন। তিনি রাষ্ট্রপতি পদ ছাড়ার আগেই তার নির্বাচনী আসনে বড় ছেলে এহতেশামুল হক নাসিম ১৯৯৬ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৮ সালের ১২ মার্চ ঢাকায় এক বিয়ের দাওয়াতে খাবারের বিষক্রিয়ায় মারা যান নাসিম। এই ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েন আব্দুর রহমান বিশ্বাস।

মৃত্যুর আগে ঢাকার গুলশান-এর বাসায় কোরআন শরিফ তিলাওয়াত, আল্লাহর জিকির ও মর্নিং ওয়াক করে দিন কেটেছে আবদুর রহমান বিশ্বাসের।

খালেদা জিয়ার শোক

সাবেক প্রসিডেন্ট আবদুর রহমান বিশ্বাসের ইন্তিকালে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া গভীর শোক প্রকাশ করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ