সোমবার ০১ জুন ২০২০
Online Edition

সফল উদ্যোক্তা মাহির কথা

লেখাপড়া শেষ করে সবাইকে চাকরির পেছনে ছুটতে হবে কেন? আমাদের তরুণদের চাকর হবার মানসিকতাকে দুর্ভাগ্য ছাড়া আর কী বলা যায়! চাকরি যিনি করেন তিনি অবশ্যই চাকর। এর অন্য অর্থ সেবকও হতে পারে। কিন্তু আমাদের চাকুরেদের এমন মানসিকতা কমই। বিশেষত সরকারি চাকরি যারা করেন, তারাতো নিজেদের চাকর বা সেবক ভাবেনই না। বরং দেশের মানুষকেই তাঁরা উল্টো সেবক ভেবে বসেন। অথচ সরকারি চাকর মানে পুরোদস্তুর জনগণের সেবক। আজকাল যারা সরকারি চাকরি করেন তাঁদের যথেষ্ট বেতন এবং সুযোগসুবিধে দেয়া হয়। তবে চাকরির একটা সীমাবদ্ধতা থাকে। নিয়মনীতি থাকে। এর বাইরে যাবার তেমন সুযোগই থাকে না সরকারি চাকুরেদের। যারা এনজিও বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন তাঁদেরও কঠোর নিয়মকানুনে বাঁধা থাকতে হয়। কিন্তু লেখাপড়া শিখে সরকারি বা এনজিওতে চাকরি না করেও প্রতিষ্ঠিত হওয়া যায়। খেদমত করা যায় দেশ ও জাতির। এর প্রমাণ দিয়েছেন মৌলভীবাজারের মাহি।
কৃষি ও মাছচাষেই অপার সম্ভাবনার স্বপ্ন দেখেন মাহি। পুরোনাম জিল্লুর রহমান মাহি। উচ্চশিক্ষিত। বাড়ি মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার হাজিপুর ইউনিয়নের পাবই গ্রামে। মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর পাস করে অন্যদের ন্যায় চাকরির পেছনে না ঘুরে নিজেই দুগ্ধখামার, মাছচাষ ও পোল্ট্রিখাতে আত্মনিয়োগ এবং ক্ষুদ্রবিনিয়োগ করে দারুণ সফলতা অর্জন করেছেন। নিজের ভাগ্য বদলে অন্যদেরও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছেন এই তরুণ। অন্যের চাকর হবার অনিচ্ছা এবং উদ্যোক্তা হবার আগ্রহই তাঁকে সাফল্য এনে দিয়েছে বলে তিনি মনে করেন। বেশিদিন হয়নি। এইতো জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ২০০৭-০৮ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক ও ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষে স্নাতকোত্তর উত্তীর্ণ হন মাহি। এরপর মাত্র ৪ থেকে ৫ বছরে তিনি এখন একজন সফল উদ্যোক্তা। অন্যদের চাকরিদাতা। অর্থাৎ ভালো স্বপ্ন থাকলে তা বাস্তবায়নে তেমন বাধা থাকে না। থাকলেও তা কেটে যেতে বাধ্য হয়।
তরুণ উদ্যোক্তা মাহি বিনিয়োগ করেছেন মাছ, দুগ্ধ, ট্যুরিজম ও পোল্ট্রিখামারে। এছাড়া প্রিন্টিং প্রেস ও আন্তর্জাতিক মানের কুরিয়ার সার্ভিসের ব্যবসাও রয়েছে তাঁর। এবিএম কর্পোরেশন নামে ব্যবসায়িক গ্রুপ গড়ে তুলেছেন তিনি। গ্রুপটি ইকো রিসোর্ট ও পর্যটনসহ নানা খাতে বিনিয়োগ করছে। মাহির বিভিন্ন প্রকল্পে এখন ৩৫ থেকে ৪০ জন বেকারের কর্মসংস্থান হয়েছে। এসব তথ্য গতকাল ঢাকার একটি দৈনিকে ছাপা হয়। মাহি পত্রিকাটিকে জানান, তাঁর সঙ্গে যেসব তরুণ কাজ করছেন তাঁরা সবাই জীবনের লক্ষ্য স্থির করে নিয়েছেন। তাঁদের সরকারি চাকরির দরকার নেই। মাহির প্রকল্পসমূহে কাজ করলে তাঁরা অনেক দূর এগিয়ে যাবেন।
আসলে উচ্চশিক্ষা লাভের পর তরুণরা উদ্যোক্তা হতে ভরসা পান না। চাকরি খুঁজে ফেরেন। অন্যের চাকর হতে চান। এটাই বড় উদ্যোক্তা হবার পথে বাধা। এই হীন মানসিকতা ত্যাগ করে শিক্ষিত তরুণদের মাহির পথে অগ্রসর হতে হবে। অন্যের চাকর না হয়ে আলোকিত মানুষ হবার জন্য উদ্যোগ নিতে হবে। তবে এজন্য দেশের ব্যাংকগুলো ও সরকারকেও এগিয়ে আসতে হবে। তরুণদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণসহ আর্থিক সহায়তা দিতে হবে। তাহলে এই তরুণরাই দেশের অর্থনৈতিক কাঠামোকে দৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে সক্ষম হবেন। আমরা তরুণ উদ্যোক্তা মাহি ও তাঁর সহযাত্রীদের সাফল্য কামনা করছি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ