বুধবার ২৭ মে ২০২০
Online Edition

ভারতের চন্দ্র অভিযানের শুরু সফল হয়েছে

২৩ জুলাই, আনন্দবাজার : ভারত সফল ভাবে চাঁদে যাওয়ার অভিযানের শুরু করেছে। এ নিয়ে দ্বিতীয় দফা মানবহীন অভিযান চালাল ভারত। অবশ্য প্রথম অভিযানের মাধ্যমে ভারত চাঁদে নামে নি। ২০০৮ সালের চন্দ্রযান-১ এর মাধ্যমে চাঁদে পানির অস্তিত্ব খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হয়েছিল। এ কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল রাডার।

চাঁদের মাটিতে অভিযানের লক্ষ্যে আজ ভারতের শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান মহাকাশ কেন্দ্র থেকে যাত্রা শুরু করেছে চন্দ্রযান-২। ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা বা ইসরোর নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে পুরো বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করেন ভারতীয় বিজ্ঞানীরা। অবশ্য এ বারই প্রথম দুই নারী এ অভিযানের নেতৃত্ব দেন। তারা হলেন, প্রকল্প পরিচালক মুথাইয়া ভানিথা এবং মিশন পরিচালক ঋতু কারিধাল।

চন্দ্রযান-২ এরই মধ্যে পৃথিবীর কক্ষপথে সফল ভাবে প্রতিস্থাপিত হয়েছে। এ কক্ষপথে এটি ২৩ দিন অবস্থান করবে। এরপর এটি চাঁদের কক্ষপথে যাবে। সব মিলিয়ে এ অভিযান ৫০ দিন স্থায়ী হবে।

চন্দ্র অভিযানে ভারত ব্যয় করছে ১৪ কোটি ৬০ লাখ ডলার বা এক হাজার মিলিয়ন রুপি। ভারতের তৈরি চন্দ্রযান-২’এর ওজন ৩.৮ টন। আর একে ৬৪০ টন ওজনের রকেট থেকে উৎক্ষেপ করা হয়েছে। ওজনের দিক থেকে এটি পুরোপুরি ভর্তি ৭৪৭ জাম্বো জেট বিমানের থেকে প্রায় দেড়গুণ বেশি। আর এটির উচ্চতায় এটি ৪৪ মিটার বা ১৪ তলা দালানের সমান।

চন্দ্রযান-২ চন্দ্রপৃষ্ঠের এবং  চাঁদের খনিজের ছবি তুলবে। পাশাপাশি এটি চাঁদের মানচিত্রও তৈরি করবে। চন্দ্রযান-২'এর যে অংশ চাঁদে অবতরণ করবে তার ওজন  ১,৪৭১ কিলোগ্রাম। চাঁদের ভূমিকম্প এবং চাঁদের তাপমাত্রা সংক্রান্ত পর্যবেক্ষণ করবে এটি। চন্দ্রযান-২ মোট ৩৮৪০০০ কিলোমিটার বা ২৩৯০০০ মাইল পথ পাড়ি দেবে।

 এ ছাড়া ছয় চাকার ২৭ কিলোগ্রামের ওজনের চাঁদের গাড়ি  ‘প্রজ্ঞান’ দিয়ে চাঁদের মাটির পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবে ভারত। চাঁদের কুমেরু অঞ্চলে চলবে এ অভিযান। এর আগে, আমেরিকা, চীন বা রাশিয়া চাঁদের এ অঞ্চলে অবতরণ করে নি। টানা ১৪ দিন ধরে চাঁদের আধ কিলোমিটার অঞ্চল জুড়ে অভিযান চালাবে প্রজ্ঞান।

 চন্দ্রযান-২ এর সফল উৎক্ষেপণের পর টুইট বার্তায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি  বলেন, ‘বিশেষ এ মুহূর্ত ভারতের ইতিহাসে উজ্জ্বল হয়ে লেখা থাকবে। চন্দ্রযান-২ এর উৎক্ষেপণ ভারতীয় বিজ্ঞানীদের শক্তিমত্তা এবং বিজ্ঞানের নতুন মাত্রা উদ্ভাবনে ১৩০ কোটি ভারতীয়ের সংকল্পের কথাই জানায়।‘

ভারতীয় সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবীদের একাংশ এ অভিযান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বলে জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের বাংলা সংবাদপত্র আনন্দবাজার। তারা প্রশ্ন তুলেছেন এই সব অভিযান মধ্য  দিয়ে সাধারণ মানুষের আশু সমস্যাগুলী মিটবে কি? অ্যাপোলো-১১’র তিন মহাকাশচারী চাঁদে নামার পর সাধারণ মানুষের জীবনে কি প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছিল বলেও প্রশ্ন তুলেছেন তারা। অন্যদিকে ভারতীয় বুদ্ধিজীবীদের আর একটি অংশ অবশ্য সব কিছুকে ‘নেতিবাচক চোখে’ দেখার বিরোধিতাও করেছেন। বিজ্ঞানে ভারতের এক কদম এগিয়ে যাওয়ার ঐতিহাসিক পদক্ষেপকে তারা স্বাগত জানিয়েছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ