রবিবার ১৪ জুলাই ২০২৪
Online Edition

মুজাহিদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিলেন ভারতীয় নাগরিক শক্তি সাহা

শাহেদ মতিউর রহমান : জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক মন্ত্রী আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের বিরুদ্ধে কথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গতকাল মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন ভারতের নাগরিক শক্তি সাহা। যদিও এই সাক্ষী নিজেকে ভারতের নাগরিক বলে অস্বীকার করেছেন। তবে ডিফেন্স পক্ষের আইনজীবীর জেরার জবাবে সাক্ষী একথা স্বীকার করেছেন  যে, তিনি থাকেন ভারতে এবং কোন প্রকার পাসপোর্ট বা ভিসা ছাড়াই ভারত থেকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে এসেছেন। বিভিন্ন সময়ে তিনি পাসপোর্ট ও ভিসা ছাড়া বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে ভারতে গেছেন বলেও সাক্ষী স্বীকার করেছেন।

আইনজীবী সাক্ষীকে প্রশ্ন করেন ‘আপনি ভারতের নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও মুজাহিদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে এসে সাক্ষ্য দিচ্ছেন এবং মুজাহিদের পক্ষে যাতে অন্য কোন বিদেশী নাগরিক এসে সাক্ষ্য দিতে না পারে তাই নিজেকে ভারতীয় নাগরিক বলে অস্বীকার করছেন'? জবাবে সাক্ষী বলেন এটা সত্য নয়।

গতকাল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে অপর দুই সদস্য মুজিবুর রহমান মিয়া ও শাহিনুর ইসলাম সাক্ষীর দেয়া জেরা রেকর্ড করেন। ট্রাইব্যুনালে ডিফেন্স পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট সৈয়দ মিজানুর রহমান  সাক্ষীকে জেরা করেন। আগামী ৫ মার্চ এই মামলার পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

ডিফেন্স আইনজীবীর এক প্রশ্নের জবাবে সাক্ষী বলেন, বাংলাদেশের কোন পাসপোর্ট তার নেই। এছাড়া তিনি তার স্ত্রীসহ অনেক দিন যাবত ভারতে থেকেছেন। এমনকি তার স্ত্রীর মৃত্যুর পরে তার সৎকারও ভারতেই সম্পন্ন করা হয়েছে। এই সাক্ষী জেরাতে আরো বলেন, তিনি ভারতের কলকাতাতে জনৈক বাপ্পা নামের এক ব্যক্তির দোকানে চাকরিও করেছেন। এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নূর হোসেন ভারতে গিয়েই তার জবানবন্দি রেকর্ড করেছেন বলেও তিনি স্বীকার করেছেন। জেরার এক প্রশ্নের জবাবে সাক্ষী বলেন, আমি ১৯৭০ সালের নির্বাচনে ভোটার হয়েছি। অবশ্য পরের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনিই আবার বলেছেন ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের পরে তিনি প্রাথমিক স্কুল পাস করে হাইস্কুলে ভর্তি হয়েছিলেন। অর্থাৎ সেই হিসেবে সাক্ষী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াকালীন সময়েই ভোটার হয়েছেন। আর  যা নাকি বাস্তবতার সাথে কোনভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।

গতকালের জেরার

উল্লেখযোগ্য অংশ :

জেরা

প্রশ্ন : ভোটার আইডি কার্ড কবে পেয়েছেন?

উত্তর : কোন সালে মনে নেই। আনুমানিকভাবেও কত বছর আগে তাও মনে নেই।

প্রশ্ন : আপনি বরাবরই আপনার এলাকার গোয়ালচামটে স্থায়ী ভোটার।

উত্তর : হ্যাঁ, সঠিক।

প্রশ্ন : আপনি কবে প্রথম ভোটার হয়েছেন?

উত্তর : ১৯৭০ সালের নির্বাচনে।

প্রশ্ন : আপনি কখনোই গোয়াল চামট এলাকার ভোটার ছিলেন না।

উত্তর : সত্য নয়।

প্রশ্ন : ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে কোন স্কুলে ভর্তি হয়েছিলেন?

উত্তর : হিতৈষী হাইস্কুলে তবে সাল মনে নেই।

প্রশ্ন : সহপাঠীর কয়েকজনের নাম বলতে পারেন।

উত্তর : সুধীর সাহা, শ্যামল রায়, রতন সাহা। স্বাধীনতার পরে আমি সেভেন পর্যন্ত পড়েছি।

প্রশ্ন : ঐ স্কুলের প্রধান শিক্ষক কে ছিলেন?

উত্তর : নলিনী বাবু।

প্রশ্ন : এই নামে কেউ শিক্ষক ছিলেন না।

উত্তর : সত্য নয়।

প্রশ্ন : আপনার কোন পাসপোর্ট আছে কী?

উত্তর : না কোন পাসপোর্ট নেই।

প্রশ্ন : আপনার স্ত্রী কোথায় মারা গেছেন?

উত্তর : চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভারতে জেঠোসের বাড়িতে মারা গেছেন, তারও কোন পাসপোর্ট ছিল না।

প্রশ্ন : আপনি ভারতে কতবার গিয়েছেন?

উত্তর : ৩ বার গিয়েছি।

প্রশ্ন : সর্বশেষ কবে ভারতে গিয়েছেন?

উত্তর : বছর দুই আগে।

প্রশ্ন : ভারতে গিয়ে কোথায় ছিলেন?

উত্তর : চবিবশ পরগোনা কাঁচড়া পাড়া লিচু বাগান এলাকায় আমার বোনের বাড়িতে ছিলাম।

প্রশ্ন : স্ত্রী'র মৃত্যুর তারিখ মনে আছে কি?

উত্তর : না, মনে নেই।

প্রশ্ন : আপনার কয় সন্তান।

উত্তর : তিন ছেলে এক মেয়ে।

প্রশ্ন : বড় ছেলের বয়স কত?

উত্তর : ৩১/৩২ বছর হবে। সে তখন হাতিরপুলে থাকে এবং মুরগীর ব্যবসা করে।

প্রশ্ন : আপনি তখন কি করেন?

উত্তর : ব্যবসা করি। আগে চাকরি করতাম। ফরিদপুরে চকবাজারে ইউনুছ শিকদারের দোকানে চাকরি করতাম।

প্রশ্ন : আপনি ভারতেও চাকরি করতেন কি?

উত্তর : না।

প্রশ্ন : আপনার ভাই কোথায় থাকেন?

উত্তর : ভারতে থাকেন নিজ বাড়িতে।

প্রশ্ন : এই ভাই আপনার থেকে কত বছরের বড়?

উত্তর : ২০/২৫ বছরের বড়।

প্রশ্ন : এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কে ছিলেন?

উত্তর : নূর হোসেন।

প্রশ্ন : তদন্ত কর্মকর্তা ফরিদপুরে গিয়ে কী আপনার জবানবন্দী নিয়েছিল।

উত্তর : ফরিদপুরে তদন্ত কর্মকর্তা যাননি। তবে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। ভিডিও রেকর্ডও করেছে। আমার কর্মস্থল কলকাতার হলদী রামে রাজলক্ষ্মী বেডিং স্টোরেও ভিডিও রেকর্ড করেছে।

প্রশ্ন : তদন্ত কর্মকর্তা আপনাকে খবর দিয়েছিল কী?

উত্তর : না। আমি নিজে দেখা করেছি।

প্রশ্ন : আপনার বাবার মৃত্যুর জন্য বাংলাদেশের কোথাও কোন অভিযোগ দায়ের করেছেন?

উত্তর : না। করি নাই।

প্রশ্ন : আপনার ভাই গোপীনাথ সাহা কোথায় থাকেন?

উত্তর : ফরিদপুরে থাকেন।

প্রশ্ন : আপনার এই ভাই আপনার বাবার মৃত্যুর বিষয়ে মামলা করেছিল আপনি জানেন।

উত্তর : না। জানি না। কোন দিন শুনিনাই। আগ্রহ ছিল না।

প্রশ্ন : মুজাহিদ সাহেবের ভাইদের নাম বলতে পারেন।

উত্তর : না।

প্রশ্ন : ১৯৭১ সালের ২১ এপ্রিল বাংলা তারিখ কত ছিল?

উত্তর : বলতে পারবো না।

প্রশ্ন : বাগচরে আপনার বোনের বিয়ের সময়ে আপনার বয়স কত ছিল?

উত্তর : ৫/৬ বছর।

প্রশ্ন : বোনের বিয়ের কত বছর পরে দেশ স্বাধীন হয়।

উত্তর : বলতে পারবো না।

প্রশ্ন : ফরিদপুর শহরে রাজাকার দেখেছেন?

উত্তর : ফরিদপুরে দেখি নাই। বাগচরে বসে রাজাকারের কথা শুনেছি ও দেখেছি।

প্রশ্ন : রাজাকারের নাম বলতে পারেন?

উত্তর : ওয়াহাব মিয়া।

প্রশ্ন : জবানবন্দীতে দেয়া তথ্য মতে কোথায় গুলী করে আপনার বাবাকে হত্যা করা হয়েছিল?

উত্তর : শ্রী অঙ্গনের পাশে বেড়িবাঁধের পাশে গুলী করে হত্যা করে। সেখানে পঞ্চবটি গাছ ছিল। আমি দূরে গাব গাছে বসে এসব ঘটনা ও কথোপকথন শুনতে পাই।

প্রশ্ন : বিনয় সরকারের বাড়ি থেকে শ্রী অঙ্গন কত দূরে ছিল?

উত্তর : ৫০/৬০ গজ দূরে।

প্রশ্ন : ঐ গাব গাছটি কাদের ছিল?

উত্তর : রমন সাহার গাছ ছিল এটি।

প্রশ্ন : আপনি ভারতে বসে ভিডিও সাক্ষাৎকারে মুজাহিদকে চেনার কথা বা তাকে জড়িয়ে কোন বক্তব্য দেননি।

উত্তর : বলেছিলাম।

প্রশ্ন : আপনি অবৈধভাবে বাংলাদেশে এসে সাক্ষ্য দিয়েছেন।

উত্তর : অনেকেই অবৈধভাবে দেশে আসে। আমি একা নই।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ