সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

খুলনার প্রাইভেট হাসপাতাল-ক্লিনিকে ৪৮ ঘণ্টার ধর্মঘট

খুলনা অফিস : খুলনার প্রাইভেট হাসপাতাল-ক্লিনিক ও ব্যক্তিগত চেম্বার বন্ধ রেখে ধর্মঘট পালন করছেন চিকিৎসকরা। গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টায় শুরু হওয়া ৪৮ ঘণ্টার এ ধর্মঘট আগামীকাল রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত চলবে। সরকারি ছুটির দিনে প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডাক্তারদের চেম্বার বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী ও তার স্বজনরা। নগরীর গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বেসরকারি ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং ওষুধের দোকানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার নামে হয়রানি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে এ ধর্মঘট পালন করছেন চিকিৎসকরা। 

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ), বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল প্রাকটিশনার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএমপিএ) এবং বাংলাদেশ প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিসিডিওএ) ডাকে এ ধর্মঘট পালিত হচ্ছে। অবশ্য শুক্রবার ডাক্তাররা তাদের প্রাইভেট চেম্বরার বন্ধ রাখেন।

বিএমএ’র কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ও খুলনা জেলা সভাপতি ডা. শেখ বাহারুল আলম বলেন, র‌্যাবের অভিযানের বিরুদ্ধে নই আমরা। কিন্তু অভিযানের নামে অযৌক্তিক হয়রানি ও দণ্ড আমাদের প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। সিভিল সার্জনের অনুমতি ছাড়া এ ধরনের অভিযানের নিয়ম নেই। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১১টায় বৈঠকে প্রশ্নবিদ্ধ এ অভিযানের প্রতিবাদে শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে ৪৮ ঘণ্টা প্রাইভেট হাসপাতাল-ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার-চেম্বার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তিনি জানান, অভিযানের বিষয়ে বিস্তারিত ও পরবর্তী কর্মসূচি শনিবার দুপুর ১২টায় সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে জানানো হবে। 

ডা. শেখ বাহারুল আলম প্রশ্ন তুলে বলেন, এক দেশে দুই ধরনের আইন হয় না। বেসরকারি ক্লিনিকে অনিয়ম পেলে অভিযান আর সরকারি হাসপাতালে পাহাড় সমান অনিয়ম সেখানে কেন অভিযান চলছে না। করা হচ্ছে না জরিমানা। 

উল্লেখ্য, বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত বুধবার র‌্যাব-১ এবং র‌্যাব-৬ যৌথভাবে গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অভিযান চালায়। অভিযানকালে হাসপাতালের ছয়তলার প্যাথলজি থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ ২৩ ব্যাগ রক্ত, বিপুল পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ রি-এজেন্টসহ (প্যাথলজি পরীক্ষার কেমিকেল) অন্যান্য ওষুধ এবং বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরিবর্তে টেকনিশিয়ান স্বাক্ষর করা প্যাথলজি রিপোর্ট উদ্ধার করা হয়। এসব অপরাধে হাসপাতলের মালিক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. গাজী মিজানুর রহমানসহ পাঁচজনকে র‌্যাবের কাস্টডিতে নেওয়া হয় এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতে ১০ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। 

এছাড়া ওই দিন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে খুলনা হেলথ গার্ডেন নামের একটি ক্লিনিকে র‌্যাব একই সিরিঞ্জ একাধিকবার ব্যবহার ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখাসহ বিভিন্ন অনিয়ম পায়। এ অভিযোগে প্রতিষ্ঠানের মালিক খন্দকার এহসান উল্লাহকে এক লাখ এবং প্যাথলজি টেকনোলজিস্ট মো. হাফিজুর রহমানকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

এছাড়া গত বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর নিরালা এলাকায় অনুমোদনবিহীন ওষুধ তৈরির অপরাধে ইউনিটি ফার্মাসিউটিকেলসকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানকালে প্রতিষ্ঠানটি থেকে বিপুল পরিমাণ অনুমোদবিহীন ওষুধ উদ্ধার করে ধ্বংস করা হয়। নগরীর দৌলতপুরের বলাকা ফার্মেসীতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখার দায়ে র‌্যাবের অভিযানে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ