সোমবার ২৫ মে ২০২০
Online Edition

কাশ্মীর সীমান্তে গোলাগুলীতে ৫ ভারতীয় সেনা নিহতের দাবি পাকিস্তানের

২৭ অক্টোবর, এক্সপ্রেস ট্রিবিউন, ডন : কাশ্মীর সীমান্তে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে গোলাগুলী চলছে গত তিনদিন ধরে। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউন জানিয়েছে, পাকিস্তানের আক্রমণে অন্তত পাঁচ ভারতীয় সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। তবে ভারতের পক্ষ থেকে ওই তথ্য নিশ্চিত করা হয়নি।

পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সূত্রের বরাত দিয়ে এক্সপ্রেস ট্রিবিউন জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভীমবার সেক্টরের চারটি ভারতীয় পোস্ট ধ্বংস করেছে পাকিস্তানী বাহিনী। এতে অন্তত পাঁচ ভারতীয় সীমান্তরক্ষী নিহত হয়েছেন বলেও ওই সূত্রের দাবি। 

এদিকে কাশ্মীর সীমান্তের নিয়ন্ত্রণ রেখায় ভারত ও পাকিস্তান সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর মধ্যে অব্যাহত গোলাগুলীর ঘটনায় পাকিস্তানের পাঁচজন এবং ভারতের ছয়জন বেসামরিক লোক আহত হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার আন্তঃবাহিনীর জনসংযোগ(আইএসপিআর) অধিদপ্তরের বরাত দিয়ে পাকিস্তানের ডন নিউজ জানায়, বুধবার দিবাগত রাতে হারপাল এবং ছাপরার সেক্টরে এগারো ঘণ্টা ধরে দু’পক্ষের তীব্র গুলী বিনিময়ের ঘটনা ঘটে। এতে সীমান্তবর্তী গ্রামের পাঁচজন আহত হয়।

এর আগে পাকিস্তান সেনাবাহিনী জানায়, সোমবার ভারতীয় পক্ষ থেকে ‘বিনা উসকানিতে’ হামলা চালানো হয়। এরপরই পাকিস্তানের পক্ষ থেকে তার জবাব দেয়া হয়। তখন থেকেই তিনদিন ধরে সেখানে গোলাগুলী চলছে। ভারতীয় বাহিনী গ্রামের বেসামরিক লোকজনকে আক্রমণ করছে বলেও পাকিস্তান অভিযোগ করেছে। পাকিস্তান আইএসপিআর-এর এক বিবৃতিতে বলা হয়, বুধবার ছাপরার সেক্টরে ভারতীয় পক্ষের গোলার আঘাতে দুই বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং আরও আট বেসামরিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। গত এক সপ্তাহে অন্তত ছয় বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়।

এদিকে, ভারতীয় বার্তাসংস্থা এএনআই-এর খবর অনুযায়ী, পাকিস্তানী সেনারা ভারি শেল ও স্নাইপার দিয়ে গুলী ছুঁড়ে হামলা চালায়। এতে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের রণবীর সিং পুরা (আরএস পুরা)-র আবদুল্লিয়ান এলাকায় আহত ওই বিএসএফ সদস্য চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার সকালে মারা গেছেন। তবে তার নাম প্রকাশ করা হয়নি।

বুধবার রাতে আরএস পুরা ও আর্নিয়া এলাকায় ১৫টি ভারতীয় পোস্ট এলাকায় গোলাগুলী হয়। এতে ছয় গ্রামবাসী আহত হন বলেও নিরাপত্তারক্ষীরা জানিয়েছেন।

বিএসএফ-এর ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল ধর্মেন্দ্র পারিখ দাবি করেন, ‘দুটি পাকিস্তানী পোস্ট থেকে বুধবার রাত ৮টা ৩৫ মিনিটে ভারি গুলী চালানো শুরু হয়। ৯টা নাগাদ তারা মর্টার হামলা শুরু করে।’ তবে তিনি জানিয়েছেন, গোলাগুলীতে আর কোনও সদস্য নিহত হননি।

আরএস পুরার গোপার বস্তি গ্রামে পাঁচ আহত ব্যক্তির নাম প্রকাশ করেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। তারা হলেন জ্যোতি শর্মা (৩৯), রাজ রাণী (৪০), লাকি শর্মা (২০), অভী শর্মা (১৮) এবং শানু দেব (৫৫)। তাদের জম্মুর সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। জম্মু পুলিশের ডেপুটি কমিশনার সিমরানদীপ সিং তাদের পরিচয় নিশ্চিত করেছেন।

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের একজন মুখপাত্র জানান, পাকিস্তানী সেনারা রবিবার দুই দফা অস্ত্রবিরতি লঙ্ঘন করেছে। তখনই আহত হন ওই বিএসএফ সদস্য।

গত সোমবার থেকে এখন পর্যন্ত ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী (বিএসএফ) বাহিনীর গুলীতে পাকিস্তানের চারজন বেসামরিক লোক নিহত এবং ২৬ জন গ্রামবাসী আহত হয়েছে।

ভারতের এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, আরএস পুরা এবং আর্নিয়া সেক্টরে ২০টি গ্রাম এবং ১৫টি সীমান্ত পোস্ট লক্ষ্য করে পাকিস্তানী সেনাবাহিনী রাতভর ব্যাপক গুলীবর্ষণ এবং মর্টার শেল নিক্ষেপ করে। এতে আরএস পুরার গোপার বস্তি গ্রামের ছয়জন আহত হয়।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর উরি সেনাঘাঁটিতে জঙ্গি হামলায় ১৮ সেনা সদস্য নিহত হওয়ার পর থেকে দুই প্রতিবেশী দেশের সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ