শনিবার ১১ জুলাই ২০২০
Online Edition

কন্যাকে হত্যা করে মাটি চাপা ॥ পরে লাশ উদ্ধার পিতা ও ভাই আটক

নরসিংদী সংবাদদাতা : হত্যাকাণ্ডের এক সপ্তাহ পর মনিরা সরকার চুষনী (১৮) নামে এক কলেজছাত্রীর লাশ মাটির নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। গত রোববার রাতে শিবপুর থানা পুলিশ উপজেলার শেরপুর গ্রাম থেকে এ লাশ উদ্ধার করেছে। রুবেল নামে এক ছেলের সাথে মনিরার প্রেমঘটিত কারণে তার আত্মীয়-স্বজন তাকে হত্যা করে মাটির নিচে পুঁতে রাখে বলে অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানিয়েছে, একই গ্রামের মো: খোরশেদ আলমের কন্যা নরসিংদীর ইম্পেরিয়াল কলেজের একাদশ শ্রেণীর ছাত্রী মনিরা সরকার ওরফে চুষনীর সাথে একই গ্রামের মৃত আব্দুর রশিদ মিয়ার পুত্র পাওয়ারলুম শ্রমিক নোবেল মিয়ার বিবাহপূর্ব অসম প্রেম ছিল। এই ঘটনা জানাজানি হয়ে গেলে মনিরা সরকারের পিতা-মাতা ও আত্মীয়-স্বজন নোবেলের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য তাকে চাপ দিতে থাকে। মনিরার পিতা-মাতা মনিরাকে এই বলে চাপ দেয় যে, নোবেল একটি সাধারণ ঘরের ছেলে এবং পাওয়ারলুম শ্রমিক। পক্ষান্তরে মনিরা বিখ্যাত সরকার বংশের কন্যা এবং সে কলেজছাত্রী। এই অসম প্রেম কোন ক্রমেই তারা মেনে নিবে না। কিন্তু মনিরা তাদের চাপের কাছে নতি স্বীকার করেনি। সে পিতা-মাতা আত্মীয় স্বজনকে উপেক্ষা করে নোবেলের সাথে তার প্রেমের সম্পর্ক অটুট রাখে। মনিরা তার পিতামাতাকে জানিয়ে দেয় নোবেলকে ছাড়া সে বাঁচতে পারবে না। নোবেলকেই সে বিয়ে করবে। মনিরার মুখ থেকে এ কথা শোনার পর তার পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন মনিরার প্রতি দারুণভাবে ক্ষিপ্ত হয়।
গত ২৪ অক্টোবর রাতে এই অসম প্রেমের ঘটনা নিয়ে মনিরা সরকারের অভিভাবকরা তাকে মারধর করে। এক পর্যায়ে তাদের শারীরিক নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে গেলে মনিরা সেদিন রাতেই মারা যায়। এই অবস্থায় মনিরার অভিভাবকরা তার লাশ নিয়ে বেকায়দায় পরে। ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার জন্য মনিরার লাশ সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার অপচেষ্টা চালায়। কিন্তু পরের দিন মঙ্গলবার আবার তার লাশ বাড়ি থেকে ১০০ গজ দূরে শেরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে একটি জমিতে গর্ত করে পুঁতে রাখে।
এদিকে আশপাশের লোকজন বেশকিছু দিন যাবৎ মনিরাকে দেখতে না পেয়ে তার আত্মীয়-স্বজনদের কাছে মনিরা কোথায় আছে জানতে চাইলে তারা জানায়, মানিরা ঘোড়াদিয়া তার বড়বোনের বাড়িতে বেড়াতে গেছে। বিষয়টি নিয়ে জনমনে সন্দেহের সৃষ্টি হলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেত্রী খাদিজা আক্তার মনিরার বড় বোন স্থানীয় পুটিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা খাদিজা আক্তার ময়নাকে মনিরা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। এক পর্যায়ে মনিরার বড় বোন খাদিজা আক্তার স্বীকার করেন যে, মনিরার লাশ মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয়েছে। বিষয়টি শিবপুর থানা পুলিশকে অবহিত করার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহত মনিরার লাশ মাটি খুড়ে উদ্ধার করে। পরে পুলিশ মনিরার লাশ ময়না তদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। ঘটনার সাথে জড়িত থাকা সন্দেহে পুলিশ মনিরার পিতা খোরশেদ আলম ও তার বড় ভাই সোহেলকে গ্রেফতার করেছে। এ ব্যাপারে পুলিশ বাদী হয়ে শিবপুর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেছে।
নরসিংদী পুলিশ সুপার আমেনা বেগম (বিপিএম) সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, ময়না তদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শিবপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দুজ্জামান জানান, ঘটনার সাথে জড়িত থাকা সন্দেহে নিহতের পিতা ও ভাইকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদের পর প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ