বুধবার ১৫ জুলাই ২০২০
Online Edition

সদ্য বিবাহিত যুবক খুন!

সুনামগঞ্জ সংবাদাতা : সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের বাণিজ্যিক কেন্দ্র বাদাঘাটে চাল পড়া ও নির্যাতন করে  চোর শনাক্ত করতে গিয়ে সদ্য বিবাহিত এক যুবককে খুন করার পর মুখে বিষ ঢেলে ওই যুবক নিজেই আত্মহত্যা করেছে বলে অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে।  তবে নিহতের পিতার দাবি তার ছেলে বিষপান করেনি, তাকে যুবলীগ নেতা ও বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাসুক ও তার লোকজন নির্যাতন করে খুন করার পর বিষপানে আত্মহত্যা করেছে বলে খুনের বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার অপচেষ্টা করছে। বুধবার রাতে সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসার পুর্বেই ওই যুবক মুত্যুবরণ করেছেন বলে কর্তব্যরত মেডিক্যাল অফিসার জানিয়েছেন। নিহত ওই যুবকের নাম মানিক মিয়া (২০)। সে উপজেলার বড়দল উত্তর ইউনিয়নের বারহাল গ্রামের ছাত্তার মিয়ার ছেলে ও স্থানীয় বাজারের পান দোকানদার। মুত্যুর মাত্র দু’মাস পূর্বে মানিক বিয়ে করেন। এদিকে হাতের মেহেদীর রঙ মুছতে না মুছতেই ওই নববধূকে বিধবার কাপড় পরতে হল। এ ঘটনায় গোটা জেলা জুড়ে নিন্দার পাশাপাশি দায়িদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমুলক ব্যবস্থা নেয়ার দাবী উঠেছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বাদাঘাটে মেইনরোডে দিঘিরপাড় গ্রামের মহিউদ্দিনের ছেলে সুতা ও মসলা ব্যবসায়ী শফিকুলের দোকানের ক্যাশ বাক্স ভেঙে একদল চোর মঙ্গলবার রাতে ৭০ হাজার টাকা চুরি করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় শফিকুল তার অপর সহযোগী মোল্লাপাড়া গ্রামের জুবায়েরের সহযোগীতায় বুধবার রাতে চোর শনাক্ত করার জন্য কথিত এক নারী কবিরাজের নিকট থেকে চাল পড়া নিয়ে আসে। এরপর চোর সন্দেহে রাত সাড়ে ৭টা থেকে ৮টার ভেতর শফিকুলের দোকানের সামনে পান দোকান নিয়ে বসা হতদরিদ্র পরিবারের মানিক, গাড়ি চালক, হোটেল কর্মচারী ও তার নিজের দোকানের কর্মচারীকে চাল মুখে দিয়ে ভাঙতে দেয়। তবে মানিক চাল পড়া ভাঙতে না পারায় শফিকুল ও তার সহযোগীরা বাজারের শতাধিক ব্যবসায়ীর উপস্থিতিতে তাকে চোর বলে চিহ্নিত করেন। এরপর সালিশ বৈঠকে বাজারের বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাসুক মিয়া, তার ভাগ্নে মনসুর, মাহবুব আলম, তার শ্যালক আজহারুল ইসলাম সোহাগ সহ তার লোকজন এসে মানিককে চুরির টাকা ফেরত দেয়ার জন্য চাপ দেন। এছাড়া টাকা উদ্ধারের জন্য মাসুক ও তার লোকজন মানিককে বণিক সমিতির কার্যালয়ে নিয়ে যাবার কথা বলে রাতে কাপড় পট্টিতে নিয়ে গিয়ে তাদের নিজস্ব ঘরের ভেতর নিয়ে দরজা বন্ধ করে নির্যাতনও করে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যবসায়ী জানান, বণিক সমিতির অফিসের কথা বলে কাপড় পট্টির দিকে নিয়ে গিয়ে কোন এক দোকানের পেছনের একটি ঘরের ভেতর দরজা বন্ধ করে মানিকের নিকট থেকে টাকা উদ্ধারে মানসিক চাপ সৃষ্টির পাশাপাশি তাকে মারধর করা হয়। পরবর্তীতে চোর অপবাদ দিয়ে মানিকের পান দোকান বন্ধ করে দেয়া হয়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ