মঙ্গলবার ১৪ জুলাই ২০২০
Online Edition

দাঁড়ানোর শেষ উপকূল

খুরশীদ আলম বাবু

ফররুখ আহমদ-এর ‘সাত সাগরের মাঝি’ পড়ে

এ এক অচেনা নদী। মৃতের  আত্মার মতন পল্কা হাওয়ায়
ভাসতে ভাসতে আজ আমরা এখানেই এসেছি।
এসেই দেখি নদীটাই সমুদ্র হয়ে গেছে।
আমরা কেউ অবাক হলাম না।
অথচ তাঁর সমুদ্র হওয়াটায় ছিলো যেন  বড় অন্যায়।
নদীটা জানতো না এখানে কাঁটালতা পানি পেয়ে
তরতর গতিতে বেড়ে যায়।
অন্যায় আক্রোশে দীপ্র নব্য নদীটাকে অসংখ্য মৌমাছি
মুহূর্তের মধ্যে বানিয়ে
ফেলতে চায় মরা খাল।

আজকে সেই নদীটার সামনে এসে দাঁড়াতেই
অকস্মাৎ লজ্জা নামক পাখিটা
আমাদের মাথার উপরে তার কলঙ্কের পালক ফেলে
উড়াল দিলো। নূরের দিগন্তে।
একবার মনে হলো আমরা সেই পালক ছুঁড়ে দিয়ে
আচ্ছাদিত নদীটার সামনেই
নিজেদের আড়াল করি।
কারণ নদীটাকেই তখন আমাদের সমুদ্রই মনে হচ্ছিলো।
আরো মনে হচ্ছিলো সাত সমুদ্রের মত সমান
উত্তাল ঢেউ হয়ে ভাসিয়ে নিতে চাইছে
আমাদের দাঁড়ানোর শেষ উপকূল।
অথচ আমরা কেউ কখনো সমুদ্রের বাসিন্দা ছিলাম না।
ছিলেন একজনই।
অপরাজেয় ফররুখ আহমদ।
যার হৃদয়ে ছিলো পুরোদুস্তুর সামুদ্রিক সিন্দাবাদী জোস্।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ