শনিবার ০৪ জুলাই ২০২০
Online Edition

ঘর বাংলাদেশে আর উঠান ভারতে

স্টাফ রিপোর্টার : সীমান্ত পিলার থাকলেও তা বাংলাদেশের সাতক্ষীরার হড়দহ ও ভারতের চব্বিশ পরগনার পানিতরের সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের কার্যত আলাদা করতে পারেনি। কারো ঘর বাংলাদেশে হলেও উঠান পড়েছে ভারতে, আবার কারো গোয়াল ঘর বাংলাদেশে শোবার ঘর পড়েছে ভারতের মধ্যে। কাজকর্মেও নেই তাদের দেশভাগের ভেদরেখা। বাংলাদেশী চাষী আবাদ করছেন ভারতীয় মালিকের জমি। গতকাল শুক্রবার ঢাকার একটি ব্যাপক পরিচিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল এ খবরটি দেয়। 

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কলকাতা থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরের এই এলাকার অধিবাসীদের কাছে দুই দেশের অস্তিত্ব যেন ওই সীমানা পিলার আর চেকপোস্টের মধ্যে সীমাবদ্ধ। তবে তা শুধু নিজেদের এলাকার মধ্যে, ভারতের বিভিন্ন শহরে বসবাসরত স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে চাইলেই বিপত্তি। এজন্য স্বল্পকালীন ভিসা দেয়ার দাবি জানান তারা।

হড়দহের বাসিন্দা ৭৫ বছর বয়সী জাম্মাদ আলী গাজী জানান, দশ বছর বয়সে প্রথম বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে পিলার দেখলেও ‘বর্ডার লাইন’, ‘সীমান্ত পিলার’ এসবের তাৎপর্য তার কাছে খুব একটা নেই। বাড়ির ডান অংশ বাংলাদেশে। জাম্মাদ গাজীর বাড়িটি বাংলাদেশে হলেও নামায পড়ার জন্য তাকে যেতে হয় ভারতে। কারণ বাংলাদেশের সীমানার ভেতরের মসজিদটি কিছুটা দূরে।

এভাবে এপার-ওপার যাওয়া আসা থাকলেও দুই দেশ হওয়ার কারণে নিজের ইচ্ছামতো স্বজনদের দেখতে যেতে না পারার কথা জানালেন তিনি। সাতক্ষীরার আঞ্চলিক ভাষায় তিনি বলেন, “আমার পাঁচ ছেলের পাঁচজনই ইন্ডিয়ায় থাকে। কাজের সুবিধের জন্য তারা ওকিনি থাকে। ৪০ বছর তাদের সঙ্গে দিখা হয় না। আমার বউও চলি গেছে ২০ বছর।”

পাসপোর্ট নিয়ে ভিসা লাগিয়ে ভারত যাওয়ার চেষ্টা করেন না কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি একা থাকি। কে করি দ্যাবে? যদি পারমিট (স্বল্পকালীন ভিসা) থাইকতো তবে ঘুরি আসতাম।”

সীমান্তে বাংলাদেশ অংশের নিবাসী নাসিমা মন্ডল (৩৪) জানান, শ্বশুরবাড়ি সাতক্ষীরা সদর থেকে হড়দহে বাবার বাড়িতে এসেছেন তিনি। বাড়ির ঘরগুলো বাংলাদেশে পড়লেও উঠানের একটা অংশ পড়েছে ভারতে। তিনি বলেন, “ ছোট বেলা থেকেই এমন দেখি আসতিছি। আমরা বাংলাদেশের লোক। ওপারে (ভারতে) আত্মীয় আছে। বেশি দূর যেতি পারিনে। তবে দুই দেশ মনে হয় না। সবাইতো অনেকদিনির পরিচিত।”

বাড়ির বাঁ অংশ ভারতে- সেখানে দুই দেশের সীমান্তরক্ষা বাহিনী বিজিবি-বিএসএফ সদস্যরা স্থানীয় অধিবাসীদের সঙ্গে ‘বন্ধুত্বপূর্ণ’ আচরণ করেন বলে জানান বাসিন্দারা।

ভারতের নাগরিক আমারুল্লাহ গাজী বলেন, “আমার প্রায় সব বন্ধু ওই এলাকার। মাঠে কাজ করতি করতি কথা হয়। আড্ডা মারি। বর্ডারের লাইন দেখি মনে হয় দুটো দেশ। কিন্তু সবতো একই।”একই কথা বলছিলেন রজব আলী মোল্লা (৬০)। ভারতের এই নাগরিক বলেন, “একসময় বিয়েসাদী হতো দুইপারের মানুষের মধ্যে। এখন আর হয় না। কিন্তু এলাকায় ঘুরলেতো আর সমস্যা নেই। বেশি দূর যাইনে। এলাকার লোকজন চলি গিলি বিডিআর ফেরত পাঠায় দেয়। বিএসএফও বাংলাদেশের লোকদের সাহাইয্য করে। পারমিট থাকলি ভালো হত।”

একই এলাকার জাকির আলী গাজীর (৫০) গোয়াল ঘরের একটা অংশ পড়েছে বাংলাদেশে, আর থাকার ঘর ভারতে।

পানিতর বিএসএফ বর্ডার আউট পোস্টের (বিওপি) কোম্পানি কমান্ডার অশোক হালদার বলেন, “এই এলাকার বর্ডার লাইন যেহেতু জিগজ্যাগ (আঁকাবাঁকা) সেজন্য বিজিবি-বিএসএফ দুই বাহিনীই এখানে মানবিকতাকে প্রাধান্য দেয়।

সীমান্তের বাসিন্দাদের স্বল্প সময়ের ভিসা প্রত্যাশার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে ব্যাটালিয়ন কমান্ডার বিক্রম শর্মা বলেন, দুই দেশের সরকারি পর্যায়ে সিদ্ধান্ত হলে এটার ব্যবস্থাপনা তারা করতে পারবেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ