বুধবার ২৭ মে ২০২০
Online Edition

কালকিনিতে স্কুল ছাত্রী গণধর্ষণের শিকার হয়ে স্বপরিবারে আত্মহত্যা করার হুমকি

মাদারীপুর সংবাদদাতা : মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার ডাসার থানার গোপালপুর এলাকার পূর্ব পূয়ালী গ্রামে ৮ম শ্রেণীর এক ছাত্রী ৪ বখাটে লালন বেপারী(১৮), ফুরকান ফকির(২১), মনির ফকির(২১) ও আরশাদ ফকির(২০) কর্তৃক গণধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ব্যাপারে ধর্ষিতার পিতা ডাসার থানায় মামলা দিতে গেলে ধর্ষণ মামলা না নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা মামলা নেয়া হয়েছে।
কিন্তু বিষয়টি জানাজানি হলে বর্তমানে মামলাটি ধর্ষণ হিসেবেই তদন্ত করা হচ্ছে বলে ডাসার থানার অফিসার ইনচার্জ এমদাদুল হকের বক্তব্য।
অপরদিকে মামলা তুলে না নিলে অসহায় পরিবারটিকে গ্রামছাড়া করা হবে বলে অভিযুক্ত বখাটেরা ও তাদের পরিবার হুমকি দিচ্ছে বলে ভূক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ।
এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার না হলে স্বপরিবারে আত্মহত্যা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভূক্তভোগী পরিবার। অপরদিকে গণধর্ষণের শিকার হয়ে লোকলজ্জার ভয়ে সেই ছাত্রী বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা চালালে তাকে কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
ভূক্তভোগী পরিবার ও গ্রামবাসী জানায়, গত ৩০অক্টোবর জীবিকার তাগিদে স্কুল ছাত্রীর পিতা কুন্ডুবাড়ির মেলায় চটপটি বিক্রি করতে যায় এবং মা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে চিকিৎসার জন্য বরিশাল নেয়া হয়। এসময় বাড়িতে স্কুল ছাত্রী একা থাকলে রাতে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘর থেকে বের হলে ওঁৎপেতে থাকা বখাটেরা তাকে গামছা দিয়ে মুখ বেঁধে পাশের বাঁশ বাগানে নিয়ে যায় এবং পালাক্রমে ধর্ষণ করে।
এ ঘটনায় তার পিতা থানায় ধর্ষণ মামলা করতে গেলে গ্রামের কিছু মাতুব্বর ধর্ষণ চেষ্টা মামলা সাজিয়ে এনে স্বাক্ষর নেয়। আর ধর্ষণ মামলা হয়ে যায় ধর্ষণ চেষ্টা মামলা।
কিন্তু বিষয়টি জানাজানি হলে এবং ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কা দেখা দিলে সেই স্কুলছাত্রী রাগে অভিমানে এবং লোকলজ্জার ভয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালায়।
এব্যাপারে ধর্ষিতার পিতা, মাতা ও ভূক্তভোগী স্কুল ছাত্রী অভিযোগ করে বলেন ‘ আসামী ও তাদের পরিবারের লোকজন আমাদের গ্রামছাড়া করার জন্য বিভিন্ন ভাবে হুমকী দিচ্ছে। আমরা ন্যায় বিচার না পেলে স্বপরিবারে আত্মহত্যা করব।’ এব্যাপারে ডাসার থানার অফিসার ইনচার্জ এমদাদুল হক বলেন ‘সেই ছাত্রীর পরিবার প্রথমে ঘটনাটি কিছুটা চাপা থাকায় ধর্ষণ চেষ্টা মামলা নেয়া হয়েছে।
কিন্তু তদন্ত করতে গিয়ে দেখা গেছে সেটি গণধর্ষণের বিষয়। আর এব্যাপারে তার ডাক্তারি পরিক্ষাও করানো হয়েছে। তাই এখন মামলাটি ধর্ষণ মামলা হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং আসামীদের গ্রেফতারে জোর চেষ্টা চলছে।’

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ