বুধবার ০৫ আগস্ট ২০২০
Online Edition

৫৯ কারখানা বন্ধ ॥ মামলা ২ হাজার জনের বিরুদ্ধে

স্টাফ রিপোর্টার: শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ায় শ্রমিক অসন্তোষের জেরে পোশাক কারখানাগুলোতে প্রতিদিনই শ্রমিকছাঁটাই অব্যাহত রয়েছে। এর পাশাপাশি সাধারণ শ্রমিক, শ্রমিক নেতা, ও সাংবাদিক সহ প্রায় ২ হাজার জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এরমধ্যে আটক ৩০ জনকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করেছে পুলিশ। বিজিএমএ’র ঘোষণায় ৫ম দিনের মতো গতকাল রোরবারও বন্ধ থাকে আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের ৫৯টি পোশাক কারখানা।

পোশাক কারখানা কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে প্রায় ৫ শতাধিক শ্রমিককে ২৩(৪) ধারায় সাময়িক বরখাস্তের নোটিশ কারখানাগুলোর প্রধান ফটকে সাঁটিয়ে দিয়েছে। ফলে কর্মচঞ্চল শিল্পাঞ্চল আশুলিয়া নিস্তব্দ হয়ে পড়েছে।

গতকাল সকালে বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি এ কে আজাদের মালিকানাধীন হামিম গ্রুপের দ্যা স্পোর্টস ওয়্যার লি., প্রিন্টিং এমব্রয়ডারি এ্যাপারেলস লি. রিফাত গার্মেন্টস লি.. এক্সপ্রেস ওয়াশিং এন্ড ডায়িং লিমিটেড নামক পোশাক কারখানার ৯৬ শ্রমিককে সাময়িক বরখাস্তের নোটিশ প্রধান ফটকে সাঁটিয়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া বেরন এলাকার সেড ফ্যাশন ও দি রোজ ড্রেসেস লি. কারখানায় সাময়িক বরখাস্তের নোটিশ সাঁটিয়েছে বলেও শ্রমিকরা জানায়।

এদিকে শ্রমিক অসন্তোষের জেরে বিজিএমইএ’র নির্দেশে আশুলিয়ার ৫৯ পোশাক কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রয়েছে। এ মাসের ১২ ডিসেম্বর থেকে আশুলিয়ার বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বেতন বৃদ্ধিসহ কয়েক দফা দাবিতে কারখানার উৎপাদন বন্ধ রেখে কর্মবিরতি, অভ্যন্তরে বিক্ষোভ, ভাঙচুর, সড়ক অবরোধ কর্মসূচি একটানা অব্যাহতভাবে পালন করতে থাকলে মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ ২১ ডিসেম্বর থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কারখানা গুলো বন্ধের ঘোষণা দেয়। এ ঘোষণা বাস্তবায়নে পুলিশ ব্যাপক তৎপরতা রয়েছে। কারখানাগুলোর গেটে কড়া নিরাপত্তাবলয়সহ অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে র‌্যাব, পুলিশ, গোয়েন্দা বিভাগ ও বিজিবি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।

সকালে বেরন এলাকার ডিজাইনার জিন্স নামে পোশাক কারখানার শ্রমিকরা কাজে যোগ দিতে আসলে কর্তৃপক্ষ তাদের কারখানা অভ্যন্তরে প্রবেশের অনুমতি দেয়। শ্রমিকরা কারখানার উৎপাদনে মনোনিবেশ করে। অন্যান্য বন্ধ কারখানার সামনে কিছু শ্রমিক কাজে যোগদান দিতে আসলে কারখানা কর্তৃপক্ষ ও শিল্প পুলিশ তাদেরকে ফিরিয়ে দেয়। তবে কোথাও কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। এছাড়া আশুলিয়ার জেনারেশন নেক্সট, সিগমা এ্যাপারেলসে কাজ করেছে শ্রমিকরা।

আশুলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মহসিনুল কাদির বলেন, আশুলিয়ার শিল্প কারখানাগুলোতে শ্রমিক অসন্তোষ ক্রমান্বয়ে স্বাভাবিক হয়ে আসছে। অল্প সময়ের ব্যবধানে শ্রমিকরা কাজে যোগদান করবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

এদিকে আশুলিয়ার শ্রমিক সূত্রগুলোও জানায়, সাধারণ শ্রমিকরা কারখানায় কাজ করার পক্ষে। তারা বেতন বৃদ্ধির দাবি বহাল রাখলেও কারখানায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করতে চায়।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ