শুক্রবার ১০ জুলাই ২০২০
Online Edition

সাফা ডিগ্রি কলেজে ১ মাস ধরে তালা ঝুলছে পুকুর ঘাটে চলছে ফরম ফিলাপের কাজ

মঠবাড়িয়া সাফা কলেজে শিক্ষার্থীরা তালা ঝুলিয়ে দেয়ায় পুকুরঘাটে চলছে ফরম ফিলাপের কাজ

মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) সংবাদদাতা: পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার সাফা ডিগ্রি কলেজ কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতা ও গাফিলতির কারণে ডিগ্রি প্রথম বর্ষের ১০২ শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রণজিৎ কুমার মিস্ত্রী ও ভর্তি কমিটির আহবায়ক প্রভাষক বাদশা মিয়া তালুকদারের অবহেলার কারণে গত ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত সময়ে অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন না করায় তারা প্রথম বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারেনি এবং ডিগ্রির শিক্ষার্থী হিসেবে বৈধতাও পায়নি। শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে এক বছর ঝরে পড়ায় তাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা দায়িত্বে অবহেলার কারণে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও ভর্তি কমিটির আহ্বায়কের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গত ১৮ ডিসেম্বর ২০১৬ থেকে কলেজে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে। কলেজ ভবন তালাবদ্ধ থাকায় এক মাসেরও বেশি সময় ধরে ১০২ জন ডিগ্রির শিক্ষার্থীসহ কলেজের প্রায় ১ হাজার ২শ’ শিক্ষার্থীর ক্লাস বন্ধ রয়েছে।
 রোববার সকালে পৌর শহর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে কলেজ ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখা যায়, কলেজের মূল ফটকে দাবি আদায়ের ব্যানারসহ তালা ঝুলয়ে দিয়েছে শিক্ষার্থীরা। ক্লাসরুমসহ প্রশাসনিক ভবনে তালা থাকায় পুকুরঘাটে ডিগ্রি পরীক্ষার্থীদের ফরম পূরণের কাজ চলছে।
সহকারী অধ্যাপক বিনয় কৃষ্ণ বল ও প্রভাষক ইউসুফ আলী জানান, প্রশাসনিক ভবনে তালাবদ্ধ থাকায় গত কয়েক দিন ধরে আমরা পুকুরঘাটে প্রায় আড়াইশ ডিগ্রির শিক্ষার্থীর ফরম পূরণের কাজ চালাচ্ছি।
কলেজের ডিগ্রি প্রথম বর্ষের ছাত্র মিঠুন শিকদার বলেন, আমরা ২৫শ থেকে ৩ হাজার টাকা দিয়ে ডিগ্রিতে ভর্তির পর নিয়মিত ক্লাস করেছি ও কলেজে পরীক্ষা দিয়েছি। কিন্তু গত নবেম্বর মাসে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ফরম পূরণের জন্য কলেজে গিয়ে জানতে পারি কলেজ কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণে আমাদের রেজিস্ট্রেশন হয়নি। এখন আমরা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছি। আমাদের রেজিস্ট্রেশন করার জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
 অপর শিক্ষার্থী জিনিয়া আক্তার জানান, এক বছর আমাদের জীবন থেকে ঝরে পড়লেও চলতি জানুয়ারি মাসের ১৬ তারিখের মধ্যে ভর্তি না হলে ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষেও ভর্তি হতে পারবে না।
কলেজ ছাত্র সংগ্রাম কমিটির আহবায়ক রেজাউল ইসলাম শানু জানান, গত ২০১৫-১৬ শির্ক্ষাবর্ষে ভর্তি হতে না পারলে এর মধ্যে অনেক শিক্ষার্থীর নিয়মিত ছাত্রত্ব হারাবে। যার জন্য আমরা তালাবদ্ধসহ লাগাতার আন্দোলনের ডাক দিয়েছি।
কলেজ কর্তৃপক্ষ ও শিক্ষার্থীদের সূত্রে জানা গেছে, সাফা ডিগ্রি কলেজে ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে ১০২ জন শিক্ষার্থী ডিগ্রি প্রথম বর্ষে ভর্তি হয়। ভর্তির সময় শিক্ষার্থীরা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রণজিৎ চন্দ্র মিস্ত্রী ও ভর্তি কমিটির আহ্বায়ক প্রভাষক বাদশা মিয়ার কাছে রেজিস্ট্রেশন ও অন্যান্য খরচের জন্য ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা গ্রহণ করেন। কিন্তু কলেজ কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের ভর্তির পর নির্ধারিত সময় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুকূলে রেজিস্ট্রেশনের জন্য নির্ধারিত ৪৮৫ টাকা জমা দেননি। ফলে ওই শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন হয়নি।
কলেজের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রণজিৎ চন্দ্র মিস্ত্রীর কাছে জানতে চাইলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে ৪ সদস্যবিশিষ্ট ভর্তি কমিটি যথাসময়ে শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন করেনি এবং তাকে অবহিত করেনি বলে জানান।
সাফা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ হারুন অর রশিদ তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও ভর্তি কমিটির আহবায়কের অবহেলার কারণে শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন হয়নি স্বীকার করে বলেন, আমি পুনরায় কলেজের অধ্যক্ষের দায়িত্ব নেবার পর তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও ভর্তি কমিটিকে শোকজ করি কিন্তু তারা গ্রহণ করেনি। তিনি অভিযোগ করেন, ভর্তি কমিটির আহবায়ক বাদশা মিয়া তালুকদার স্থানীয় সাংসদ ও ওই সময়ের কলেজ গভর্নিংবডির সভাপতি ডা. রুস্তম আলী ফরাজীর ঘনিষ্ঠ হওয়ায় তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারিনি।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ