বৃহস্পতিবার ২৮ মে ২০২০
Online Edition

প্রথম ইনিংসে ২৮৯ রানে অলআউট বাংলাদেশ

স্পোর্টস রিপোর্টার : ক্রাইস্টচার্চে শেষ টেস্টের প্রথম দিনেই অলআউট হয়েছে বাংলাদেশ। ফলে প্রথম টেস্টেও মতো বড় স্কোর দিয়ে শুরুটা করতে পারেনি টাইগাররা। গতকাল বাংলাদেশ অলআউট হয়েছে ২৮৯ রানে। দিন শেষে আর মাঠে নামেনি স্বাগতিকরা। আজ দ্বিতীয় দিনে ব্যাট করতে নামবে নিউজিল্যান্ড। গতকাল শেষ টেস্টে ব্যাট করতে নেমে টিম সাউদি আর ট্রেন্ট বোল্টের বোলিংয়েই আটকে যায় বাংলাদেশ। সাউদি ৫ টি আর বোল্ট ৪টি করে উইকেট নিয়ে প্রথম দিনেই বাংলাদেশকে আটকে দেয় ২৮৯ রানে। অবশ্য ইনজুরিতে পড়ে বাংলাদেশের কয়েকজন অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানকে ছাড়াই মাঠে নামে বাংলাদেশ।
গতকাল টস হেরে আগে ব্যাট করার সুযোগ পেয়ে প্রথম টেস্টেও মতো বড় স্কোর দিয়ে এই টেস্টও শুরু করতে চেয়েছিলেন অধিনায়ক তামিম ইকবাল। তবে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের অধিনায়ক তামিম ইকবাল নিজেই পারেননি ব্যাটিংয়ে আলো ছড়াতে। দলীয় ৭ রানেই প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে মাত্র ৫ রানে সাজঘরে ফেরেন তিনি। ফলে ব্যাটিংয়ের প্রথমেই বড় ধাক্কা খায় বাংলাদেশ দল। টিম সাউদির বলটি পেছনের দিকে মারতে গিয়ে উইকেরক্ষক বিজে ওয়াটলিংয়ের হাতে ধরা পড়েন বাংলাদেশি ওপেনার। অভিজ্ঞ তামিম ইকবাল না পারলেও ক্যারিয়ারে প্রথমবার টেস্টে ওপেনিং করতে নামা সৌম্য সরকার অপর প্রান্তে থেকে দারুণভাবে ব্যাটিং করেছেন। কিন্তু তাকে উপযুক্ত সঙ্গ দিতে পারেনি মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। ফলে দলীয় ৩৮ রানে পতন হলো দ্বিতীয় উইকেট। ট্রেন্ট বোল্টের শিকার হয়ে মাঠ ছাড়ার আগে রিয়াদ করেন ১৯ রান। তবে সাকিব নেমে সৌম্যের সাথে জুটি করে দলকে এগিয়ে নিয়ার চেস্টা করেন। দুইজনের ব্যাটেই দারুণ কিছু করার আভাস ছিল। প্রথম সেশন শেষ হওয়ার আগেই ৫৪ বলে ৬টি চারে ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি হাঁকান সৌম্য সরকার। আর লাঞ্চ থেকে ফিরে ৬৫ বলে ক্যারিয়ারের ২০তম হাফসেঞ্চুরি পান সাকিবও।  কিন্তু দলের এই সফল জুটি ভাংগেন ট্রেন্ট বোল্টই। তার বলেই মাঠ ছাড়তে হয় সৌম্য সরকারকে। তবে বিদায়ের আগে ১০৪ বলে ৮৬ রানের ইনিংস খেলেন সৌম্য। দলের পক্ষে এটাই ব্যাক্তিগত সর্বোচ্চ স্কোর। তার আউটের মধ্যে দিয়ে সাকিবের সঙ্গে ১২৭ রানের জুটি থামে তার। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় উইকেটে এটা বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। সৌম্য ফিরে গেলে সাব্বির যোগ দেন সাকিবের সঙ্গে। এ দু’জনের ব্যাটের দিকে তাকিয়ে ছিল দল। তবে এদিন হতাশ করে মাত্র সাব্বির মাত্র ৭ রানেই ফিরে যান। এরপর দলে আর মাত্র ২ রান যোগ করতেই প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন সাকিবও। আউট হওয়ার আগে সাকিব ৭৮ বলে ৯টি চারের মারে ৫৯ রান করেন। পরপর দুই ওভাওে সৌম্য ও সাব্বির রহমানকে সাজঘরে পাঠিয়ে বাংলাদেশকে কঠিন ভাবেই চেপে ধরে নিউজিল্যান্ডের বোলাররা। ফলে ওয়েলিংটনের টানা হাফসেঞ্চুরি করা সাব্বির থামেন মাত্র ৭ রানে। এর পর বিদায় নেন সাকিব আল হাসানও। পরের ওভারে সাউদি ফেরান সাকিবকে। ৫৯ রানে আউট হন সাকিব। ১৪ রানের ব্যবধানে ৩ উইকেট হারানোর পর দুই অভিষিক্ত ব্যাটসম্যান নাজমুল হোসেন শান্ত ও নুরুল হাসান সোহান দলের হাল না ধরলে দুশত রান করাই কঠিণ ছিল দলের জন্য। এ জুটি ভাঙে ৫৩ রান করে। নাজমুল ৫৬ বলে ১৮ রানের ধীরস্থির ইনিংস খেলে সাউদির শিকার হন। ব্যাট করতে নেমে প্রথম টেস্টেও মতো এখানেও ব্যর্থ মেহেদী হাসান মিরাজ। তার ১৩ বলে ১০ রানের ইনিংস শেষ হয়  নেইল ওয়াগনারের কাছে বোল্ড হয়ে। আর তাসকিন আহমেদ সাউদির চতুর্থ শিকার হন ৮ রানে। তবে একাই প্রতিরোধ দিয়ে এগিয়ে যেতে থাকেন নুরুল হাসান সোহান। কিন্তু অভিষেক হাফসেঞ্চুরি থেকে মাত্র ৩ রান দূরে থাকা সোহানকে বিদায় দেন ট্রেন্ট বোল্ট। অভিষেক টেস্টে ৪৭ রান করতে সোহান খেলেছেন ৯৮ বল। যেখানে ছিল ৫টি চার।
 শেষ দিকে রুবেল ও রাব্বী মিলে স্কেরটা আরও বাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু দিনের শেষ দিকে ৮৪.৩ ওভারে সাউদির বলে রাব্বী ফিরেন ৬২ বলে ২ রান করে। তবে রুবেল অপরাজিত ছিলেন ১৬ রানে। যদিও শেষ দিকে রুবেল ডান হাতে বোল্টের বলে মারাত্মকভাবে আঘাত পান। ফিজিওর সেবা নিয়ে পরে খেলা শুরু করেন রুবেল। ফলে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৮৪.৩ ওভারে ২৮৯ রান। ডনউজিল্যান্ডের  হয়ে ৫টি উইকেট নিয়েছেন টিম সাউদি। আর ট্রেন্ট বোল্ট নিয়েছেন ৪টি উইকেট। বাকি একটি উইকেট পেয়েছেন নিল ওয়েগনার।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
বাংলাদেশ ১ম ইনিংস : ৮৪.৩ ওভারে ২৮৯ (তামিম ৫, সৌম্য ৮৬, রিয়াদ ১৯, সাকিব ৫৯, সাব্বির ৭, শান্ত ১৮, নুরুল ৪৭, মিরাজ ১০, তাসকিন ৮, কামরুল ২, রুবেল ১৬*- বোল্ট ৪/৮৭, সাউদি ৫/৯৪, ওয়েগনার ১/৪৪)।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ