বৃহস্পতিবার ০২ জুলাই ২০২০
Online Edition

বাংলাদেশ ব্যাংকে আগুন লাগার ঘটনা চক্রান্ত -আমীর খসরু

 

স্টাফ রিপোর্টার : বাংলাদেশ ব্যাংকে আগুন লাগার ঘটনায় চক্রান্ত আছে দাবি করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশ ব্যাংকে আগুন লাগার ব্যাপারে একটা প্রশ্ন উঠেছে, কিন্তু এর উত্তর জানা নেই। তিনি বলেন, বিপুল পুরিমাণ রিজার্ভ চুরির দুই মাস পরে তা ফিলিপাইনের পত্রিকার মাধ্যমে জেনেছে মানুষ। এখনও পর্যন্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি। হঠাৎ করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আগুন; এ নিয়ে অনেকের সন্দেহ, এ সময় আগুন লাগার কারণ কী?

গতকাল শুক্রবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের কনফারেন্স লাউঞ্জে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে  এসব প্রশ্ন তুলে কথা বলেন। জাতীয়তাবাদী কৃষক দল  স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে। 

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাংলাদেশ ব্যাংক ভবনে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের ১২টি ইউনিট রাত ১০টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনে ব্যাংকের কিছু কাগজপত্র পুড়ে গেছে বলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকে আগুন লাগার বিষয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন। রিজার্ভ চুরির বিষয়ে গঠিত তদন্ত  প্রতিবেদন কেন প্রকাশ করা হচ্ছে না, তা লিখতে পারছে না দেশীয় গণমাধ্যম।

 তিনি উল্লেখ করেন, ফিলিপাইন বলেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ভেতরের লোকজনই রিজার্ভ চুরির সঙ্গে জড়িত। ব্যাংকের ভেতর থেকেই এ কাজ হয়েছে। একই কথা বলেছে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকও। আর এ কারণেই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হচ্ছে না। কারণ কার গোমর ফাঁস হয়ে যায়।

প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন ভারত সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর নিয়েও জনমনে নানা প্রশ্ন। তিস্তা চুক্তি আলোচনার বাইরে চলে গেছে। যে বিষয়ে আলোচনা হচ্ছে তা বাংলাদেশের জনগণের চাহিদা নয়। জনগণের চাহিদা হলো তিস্তাসহ ৫৪টি অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা। কিন্তু তা হচ্ছে না। 

কার চাহিদার জন্য প্রধানমন্ত্রী ভারত যাচ্ছেন প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ভারতের সংবাদ মাধ্যম থেকে এসব বিস্তারিত জানতে হচ্ছে। দেশের সাংবাদিকদের আলোচনার বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি।

বিএনপির এই স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, গণমাধ্যমে যে চুক্তির কথা বলা হচ্ছে তা যদি হয় তাহলে সেটি হবে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে। প্রত্যেক দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর নিজস্ব চিন্তা, দর্শন, গোপনীয়তা, কৌশল, অহংকার থাকে। এটা বিনিময়ের কিছু নেই। 

হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে এই বিএনপি নেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী এই চুক্তিতে সই করতে পারেন, কিন্তু জনগণ তা গ্রহণ করবে না। তাই এ ধরনের চুক্তি থেকে বিরত থাকতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই।

ক্ষমতাসীনরা ইতিহাস বিকৃত করছে মন্তব্য করে আমীর খসরু বলেন, ক্ষমতাসীনদের ইতিহাস বিকৃতির কারণেই রাজনীতিবিদরা আজকে ইতিহাসবিদ হয়ে  গেছেন। যার ফলে  দেশে গণতন্ত্র, ভোটাধিকার, মানবিক, মূল্যবোধ, ন্যায়বিচার  কোনটিই বিদ্যমান  নেই।

আমীর খসরু আরও বলেন, শেখ মুজিবর রহমান জাতির সঙ্গে বেঈমানি করে বাকশাল গঠনের মধ্যে দিয়ে দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস এবং মানুষের বাক-স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছিলেন। আর শহীদ জিয়া ব্যক্তিখাতসহ সকল ক্ষেত্রে উন্নয়নের মধ্য দিয়ে  দেশে অর্থনৈতিকভাবে উন্নয়ন করেছেন।

এ সময় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বিভিন্ন অবদান তুলে ধরে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু বলেন, জিয়া যে আদর্শ নিয়ে রাজনীতি করেছেন, তার দর্শন থেকেও বিএনপি অনেক সরে গেছে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী কারও কথা গ্রাহ্য করেন না, কিন্তু ভারত যা চায় তা তিনি মেনে চলেন। প্রতিরক্ষা চুক্তি তারা তাদের মত করে করতে চাচ্ছে। জনগণ চায় প্রতিরক্ষা বাহিনী নিজেদের মত করে বিকশিত হোক। এর গোপনীয়তা অন্যদেশকে জানানো হবে না। কিন্তু যে চুক্তি হতে যাচ্ছে তাতে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা হুমকির মুখে পড়বে। এ চুক্তি হবে কৃতদাসের প্রতিরক্ষা চুক্তি। এ চুক্তি জনগণ মেনে নেবে না। 

সভাপতির বক্তব্যে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ২০১৮-১৯ সাল আলোচনার বিষয় নয়, আমাদেরকে মনে রাখতে হবে এ সালের মধ্যেই বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হবেন বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী। আর আগামী দিনে বাংলাদেশের  নেতৃত্ব দিবেন বিএনপির  চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া। শেখ হাসিনাকে যতই উন্নয়নের নায়িকা, মহানায়ক বলা হয় না কেন তার ছবি টানিয়ে আর যে ভোট পাওয়া যাবে না- এ সত্যটি এখন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাও বুঝে গেছেন।

আলোচনা সভায় বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী, স্বাধীনতা ফোরাম সভাপতি আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ প্রমুখ বক্তব্য দেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ