শুক্রবার ০৩ জুলাই ২০২০
Online Edition

কালিহাতীর পৌলী নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন

টাঙ্গাইল সংবাদদাতা : টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার পৌলী নদীতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে প্রভাবশালী একটি মহল। ফলে হুমকির মুখে পড়েছে বঙ্গবন্ধু সেতু-ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের উপর ৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সড়ক ও রেল সেতু ও পানি উন্নয়নের বেড়িবাঁধ। ফলে সেতুর উভয় পাশের মাটি সরে যাচ্ছে। যে কোনো সময় সেতুটি ধসে পড়বে বলে আশঙ্কা এলাকাবাসীর। এছাড়া বেশ কয়েকটি গ্রামের আবাদি জমি, ঘর-বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে চরম ঝুঁকিতে। স্থানীয় প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থা না থাকায় এই বালু উত্তোলন আরও বেপরোয়া রূপ নিয়েছে বলেও অভিযোগ তাদের। সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলার পৌলী নদীর ওপর ৩২ কোটি টাকা ব্যয়ে নবনির্মিত সড়ক ও রেল সেতু আর ব্রিজ থেকে ৫০ গজ দুরেই বসেছে ড্রেজার ও বালু পরিবহনের মেলা। সেখানে বাংলা ড্রেজার দিয়ে মাটির উত্তোলন ও পরিবহন করে চলছে প্রভাবশালীরা। স্থানীয়দের অভিযোগ, মহেলা গ্রামের পিয়ার আলীর ছেলে তোফাজ্জল হোসেন, একই গ্রামের খন্দকার মতিয়ারের ছেলে রানা ও পৌলী গ্রামের বছির উদ্দিনের ছেলে নবা’র নেতৃত্বে চামুরিয়া গ্রামের নুরু ভেন্ডারের ছেলে মমিনুল, হাবেল ও ফরমান এ বালু উত্তোলন ও পরিবহন করে চলছে। প্রশাসনকে ম্যানেজ আর তাদের প্রভাবেই দীর্ঘদিন যাবৎ চলছে এই অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও পরিবহনের মহোৎসব। ক্ষমতাসীন দলের এসব প্রভাবশালীদের ভয়ে অবৈধ বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ করছে না কেউ। দিনরাত বিরামহীন বালুভর্তি ট্রাক চলাচলের কারণে পৌলী ও মহেলা গ্রামের একমাত্র রাস্তাটি ভেঙে এখন প্রায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে উঠেছে। এছাড়াও বাংলা ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণে সম্প্রতি দুই বার তিতাস গ্যাসের মূল পাইপলাইন ভেসে উঠে টাঙ্গাইল, গাজীপুরসহ আশপাশের জেলাগুলোতে গ্যাস সংযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় জেলাগুলোর সাধারণ জনগণকে। ওই সময় নদীতে নৌচলাচল ও ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। পাইপ লাইন মেরামত হওয়ার পর কোনো অদৃশ্য প্রভাবে আবার ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে এই বালু উত্তোলন শুরু করেছে প্রভাবশালীরা। সেতুর পাশাপাশি জাতীয় এই গ্যাসপাইপ লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। স্থানীয়রা জানান, এলাকাবাসীর অভিযোগে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মাঝে মধ্যে লোক দেখানোর জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা হলেও নদী থেকে বালু উত্তোলন স্থায়ীভাবে বন্ধ হয় না। অভিযান শেষেই আবার শুরু হয় এই বালু উত্তোলনের মহোৎসব। এ কারণে অভিযোগ বা প্রতিবাদ করেও কোনো লাভ হয় না। বরং প্রতিবাদ করতে গিয়ে বালু ব্যবসায়ীদের হাতে নাজেহাল হতে হয় বলেও অভিযোগ তাদের। তোফাজ্জলের বালু ঘাটের ম্যানেজার উজ্জল বলেন, বালু উত্তোলনে তাদেরকে প্রশাসন কোনো অনুমতি দেয়নি এটা সত্য। তবে উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই তারা এই ব্যবসা পরিচালনা করছেন। এ ব্যবসা থেকে তারা রাজনৈতিক নেতাদের টাকা দিয়ে থাকেন বলেও দাবি তাঁর। এ প্রসঙ্গে স্থানীয় বালু ব্যবসায়ী নবা’র মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এখানে আমি একা বালু বিক্রি করি না। আর যেখান থেকে বালু সরবরাহ ও পরিবহন করছি তা আমার পৈতৃক সম্পত্তি। তদপরি প্রতিনিয়ত আমরা পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে ব্যবসা করে আসছি। কালিহাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু নাসার উদ্দিন জানান, এর আগেও অভিযান চালিয়ে ঘাটগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়েছিলো। আবার তারা চালাচ্ছে আমার জানা ছিল না। দ্রুত অভিযান পরিচালনা করা হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ