বৃহস্পতিবার ০৯ জুলাই ২০২০
Online Edition

শ্রমিক সমাবেশের অনুমতি পায়নি বিএনপি

স্টাফ রিপোর্টার : পহেলা মে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার অনুমতি না পেয়ে রাজধানীতে র‌্যালি করার ঘোষণা দিয়েছে বিএনপির শ্রমিক সংগঠন জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল। গতকাল রোববার বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সাংবাদিক সম্মেলনে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলান খান নাসিম একথা বলেন। তিনি বলেন, মে দিবস উপলক্ষে শ্রমিক দলের পক্ষ থেকে বারবার যোগাযোগ করে সমাবেশের অনুমতি পাওয়া যায়নি। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিএনপিকে রাজধানীতে শ্রমিক সমাবেশের অনমুতি দেয়া সম্ভব হবেনা। তিনি বলেন, সমাবেশের অনুমতি না থাকায় শ্রমিক দল ঢাকায় র‌্যালি বের করবে। আজ সোমবার সকাল ১০টায় নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে এ র‌্যালি বের হবে বলে তিনি জানান। তিনি বলেন, র‌্যালিটি জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের অনুষ্ঠানে গিয়ে মিলিত হবে । 

সাংবাদিক সম্মেলনে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসেন বক্তব্য রাখেন। এছাড়া শ্রমিক দল নেতা মতিয়ার রহমান ফরাজী, আবুল কালাম আজাদ, মেহেদি আলী খান, মোস্তাফিজুল করিম মজুমদার, ফজলুল হক মোল্লা, রফিকুল ইসলাম, মঞ্জুরুল ইসলাম, আসাদুজ্জমান বাবুল, খোরশেদ আলম, মিজানুর রহমান চৌধুরী, জুলফিকার মতিন, শাহ আলম রাজা, মাহবুব আলম বাদল, আবুল হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল ১ মে শ্রমিক দিবসে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছিল। ওই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপি চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উপস্থিত থাকার কথা ছিল। সমাবেশ করতে ঢাকা মহানগর পুলিশের অনুমতি না দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, সরকার শ্রমিক দলকে সমাবেশের অনুমতি না দিয়ে মূলত শ্রমিকদেরই উপহাস করেছে। তিনি বলেন, সরকার দিবসটিকে চরমভাবে অপমানিত করেছে। তিনি বলেন, শ্রমিকরা আজ নিরাপদ নয়। হাজারীবাগের ৭০ হাজার ট্যানারি শ্রমিক আজ বেকার। গার্মেন্ট কর্মীরা নূন্যতম ১৫ হাজার চাকা বেতনের দাবিতে আন্দোলন করছে। এখনো জাতীয় নূন্যতম মজুরি কমিশন ঘোষণা করা হয়নি। পুনর্বাসন ছাড়া হকারদের উচ্ছেদ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এসব দাবিতে যেন শ্রমিকরা যাতে স্বোচ্চার হতে না পারে সেজন্য সমাবেশের অনুমতি দেয়া হয়নি। 

রিজভী বলেন, এপ্রিল মাসের ২ তারিখ শ্রমিক দল সমাবেশ করার জন্য আবেদন করেছিল পুলিশের কাছে। এটা তারা নানা টালবাহানা করে প্রলম্বিত করে গত ২-৩ দিন আগে বলল, ১ তারিখ দিতে পারব না, ২-৩ তারিখের জন্য আবেদন করুন। এরপর শ্রমিক দল আবার ২-৩ তারিখের জন্য আবেদন করলে পুলিশ এখন বলছে ৫ তারিখের কথা। এটা কী ঠাট্টা তামাশার বিষয়? যাদের ঘাম ও রক্তের মধ্য দিয়ে সভ্যতার চাকা ঘুরছে সেই শহীদদের অপমান করল আওয়ামী লীগ সরকার। আমি বিএনপির পক্ষ থেকে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

শ্রমিক দলের সভাপতি আনোয়ার হোসাইন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই দিনটিতে প্রধানমন্ত্রী নিজেই অনুষ্ঠান করবেন। আমাদেরকে এরকম একটি মহিমান্বিত দিবসে অনুমতি দিল না, আমরা দুঃখিত হয়েছি। এর মাধ্যমে আমাদের প্রতি ও সারা বিশ্বের শ্রমজীবী মানুষের প্রতি অবজ্ঞা করা হলো।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ