রবিবার ১৬ আগস্ট ২০২০
Online Edition

নারায়ণগঞ্জে ৭ খুন মামলার শুনানি হবে নির্ধারিত বেঞ্চে

 

স্টাফ রিপোর্টার : নারায়ণগঞ্জে আলোচিত সাত খুন মামলার আসামীদের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) ও আপিলের শুনানির জন্য বেঞ্চ নির্ধারণ করা হয়েছে। গত ১১ মে থেকে বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেন সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়ে আসছিল। সর্বশেষ গত মঙ্গলবার এই বেঞ্চ দণ্ডিত পলাতক আসামীদের পক্ষে আইনজীবী (স্টেট ডিফেন্স) নিয়োগের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে এ মামলার আসামী সৈনিক আবদুল আলিমের আপিল আমলে নেন আদালত।

এর একদিন পর গতকাল বুধবার প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহা নতুন বেঞ্চ নির্ধারণ করে দিলেন। 

হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার (প্রশাসন ও বিচার) মো. সাব্বির ফয়েজ নতুন বেঞ্চ নির্ধারণের তথ্য জানান।

সাব্বির ফয়েজ বলেন, এ বিষয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুনানির জন্য বিচারপতি ভবানী প্রসাদ সিংহ ও বিচারপতি মোস্তাফা জামান ইসলাম সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানি হবে। প্রধান বিচারপতি এই বেঞ্চ নির্ধারণ করেছেন। এখন বিষয়টি শুনানির জন্য বেঞ্চের কার্য তালিকায় আসবে। পরে আদালত শুনানির জন্য তারিখ ধার্য করবেন।

গত ৭ মে বিজি প্রেস থেকে চাঞ্চল্যকর সাত খুনের মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের পেপারবুক সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছে। পরে বিষয়টি প্রধান বিচারপতি ুসরেন্দ্র কমার (এস কে) কাছে উপস্থাপন করা হলে তিনি শুনানির জন্য বেঞ্চ নির্ধারণ করে দেন। এরপর বিষয়টি শুনারি জন্য বর্তমান বেঞ্চের কার্যতালিকায় আসে। এরআগে গত ২৯ জানুয়ারি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পেপারবুক তৈরির নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি। 

এর আগে, ২২ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জের সাত খুন মামলার বিচারিক আদালতের রায় ও নথিপত্র সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় পৌঁছায়। এরমধ্যে গত ৮ ফেব্রুয়ারি মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর নূর হোসেন ও র‌্যাব-১১ এর সাবেক অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল (বরখাস্ত) তারেক সাঈদ মোহাম্মদ ও মেজর (বরখাস্ত) আরিফ হোসেনসহ ১৭ জন মৃতুদণ্ডপ্রাপ্ত ও ৫ জন কারাদণ্ডের আসামীর করা আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি তাদের জরিমানার আদেশ স্থগিত করা হয়।

গত ১৬ জানুয়ারি নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দ এনায়েত হোসেন আলোচিত সাত খুন মামলায় আওয়ামী লীগ নেতা নূর হোসেন ও র‌্যাবের বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তা তারেক সাঈদ মোহাম্মদসহ ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। এ ছাড়া নয়জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সশ্রম কারাদণ্ড দেন। 

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ২৬ জন হলেন-নূর হোসেন, চাকরিচ্যুত লেফটেন্যান্ট কর্নেল তারেক সাঈদ মোহাম্মদ, চাকরিচ্যুত মেজর মো. আরিফ হোসেন, চাকরিচ্যুত লেফটেন্যান্ট কমান্ডার এম এম রানা, মো. মিজানুর রহমান দীপু, মো. মোখলেছুর রহমান, মো. মহিউদ্দিন মুন্সী, ল্যান্স নায়েক হিরা মিয়া, সিপাহি আবু তৈয়ব, সেলিম, সানাউল্লাহ সানা, শাহ জাহান, জামাল উদ্দিন, আসাদুজ্জামান নূর, পুর্ণেন্দু বালা, আরওজি আরিফ হোসেন, সৈনিক আল আমিন, তাজুল ইসলাম, সার্জেন্ট এনামুল কবির, বেলাল হোসেন, শিহাব উদ্দিন, মোর্তুজা জামান চার্চিল, আলী মোহাম্মদ, আবুল বাশার, রহম আলী ও এমদাদুল হক। 

মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ৩৫ আসামীর মধ্যে ১২ জন পলাতক রয়েছেন। গ্রেফতার ২৩ জনের মধ্যে ১৮ জনকে নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে এবং পাঁচজন গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার ১ ও ২-এ রাখা হয়েছে।

২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ-ঢাকা লিংক রোডের খানসাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামের সামনে থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের তৎকালীন কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম, তার সহযোগী সিরাজুল ইসলাম লিটন, মনিরুজ্জামান স্বপন, তাজুল ইসলাম ও গাড়িচালক জাহাঙ্গীর আলম এবং নারায়ণগঞ্জের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী চন্দন কুমার সরকার ও তার গাড়িচালক ইব্রাহিমকে অপহরণ করে র‌্যাব-১১। পরে ৩০ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদী থেকে ছয়জনের এবং ১ মে একজনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি এবং চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল দুটি মামলা করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ