বৃহস্পতিবার ০৯ জুলাই ২০২০
Online Edition

রহমত মাগফিরাত নাজাতের মাস রমযান

 

স্টাফ রিপোর্টার : আজ রোববার ২৯ রমযান। আজ বা কালকের মধ্যেই আমাদের কাছ থেকে বিদায় নেবে রহমত মাগফেরাত ও নাজাতের মাস রমযান। চাঁদ দেখে   রোজা রাখা এবং চাঁদ দেখে   রোজা ভঙ্গ করার কথা হাদীসে উল্লেখ আছে। তাই রমযানের চাঁদ দেখে   রোজা শুরু করা হয় আর শাওয়ালের চাঁদ দেখে ঈদ করা হয়ে থাকে। কিন্তু মেঘের কারণে চাঁদ দেখা না গেলে রমযান মাস ত্রিশ দিনে পূর্ণ করার জন্য রাসূল (সাঃ) নির্দেশ দিয়েছেন।

বুখারী ও মুসলিম শরীফে হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) ও হযরত ইবনে উমর (রাঃ) বর্ণিত হাদীসে স্পষ্ট ভাষায় বলা হয়েছে : “ তোমরা   রোজা রাখবে না যতক্ষণ চাঁদ দেখতে পাবে না এবং   রোজা ভাংবে না যতক্ষণ চাঁদ দেখতে পাবে না। (২৯ তারিখ) আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকলে সেই মাসের (ত্রিশ) দিন পূর্ণ করে লও।” তাবেয়ী তাউস বলেছেন : আমি মদীনায় হযরত ইবনে ওমর ও হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তখন তাঁদের নিকট এক ব্যক্তি রমযান মাসের চাঁদ দেখার সাক্ষ্য দেয়। তাঁরা দুই জনই তা গ্রহণ করলেন এবং বললেন, “রাসূলে করীম (সাঃ) রমযান মাসে চাঁদ দেখার ব্যাপারে একজনের সাক্ষ্য গ্রহণের অনুমতি দিয়েছেন কিন্তু   রোজা খোলার ব্যাপারে দুইজনের সাক্ষ্য ছাড়া   রোজা খোলার অনুমতি দিতেন না” (দারে কুতনী, তিবরানী ফিল আউসাত)। চাঁদ দেখা গেলে দীর্ঘ এক মাসের তাকওয়া অর্জনের ট্রেনিং কোর্স রমযান মাসের   রোজা পালনের সামগ্রিক ইবাদতেরও শেষ হবে। উদ্দেশ্য থাকবে বাকি ১১ মাস যেন এই ট্রেনিং-এর আলোকে নিজেদেরকে পরিচালিত করতে পারি। যে তাকওয়ার গুণাবলী আমরা   রোজা থেকে অর্জন করেছি বাকি জীবন যেন সে আলোকে পরিচালিত করতে পারি সে চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।

ইমাম বুখারী ও মুসলিম স্বীয় গ্রন্থে হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেছেন : “নবী করীম (সাঃ) ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার দিন ঈদের ময়দানে চলে যেতেন। সর্বপ্রথম তিনি নামায পড়াতেন। নামায পড়ানো শেষ করে লোকদের দিকে ফিরে খুতবা দেয়ার উদ্দেশ্যে দাঁড়াতেন। তখন লোকেরা যথারীতি নিজেদের কাতারে বসে থাকতো। এ সময় নবী করীম (সাঃ) লোকদেরকে ওয়াজ নসীহত করতেন, শরীয়তের আদেশ নিষেধ শোনাতেন। তখন যদি কোন সৈন্য বাহিনীকে কোথাও পাঠাবার ইচ্ছা করতেন তাহলে তা পাঠাতেন এবং কোন বিশেষ বিষয়ে নির্দেশ জারি করার উদ্দেশ্য থাকলে তাও করতেন। অতঃপর তিনি ঈদগাহ হতে প্রত্যাবর্তন করতেন।” ইবনে মাযাতে আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রাঃ) হতে বর্ণিত, “রাসূলে করীম (সাঃ) ঈদের নামাযের ময়দানে পায়ে হেঁটে যেতেন এবং পায়ে হেঁটে ফিরে আসতেন।” ঈদুল ফিতরের দিনে সকাল বেলা নামাযের জন্য বের হবার পূর্বে কিছু খাওয়া সুন্নত। হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) বলেছেন : “রাসূলে মাকবুল (সাঃ) ঈদুল ফিতরের দিন ঈদগাহের উদ্দেশ্যে বের হবার পূর্বে আহার করতেন।” ঈদুল ফিতরের সকাল বেলা কিছু খাওয়ার তাৎপর্য সুস্পষ্ট। দীর্ঘ ১ মাস   রোজা পালন করা হয়েছে। এ সময়ে সকাল বেলাসহ সারাদিনে কিছুই পানাহার করা হয়নি। আজ এ ঈদের দিনে সকাল বেলা যে দিন   রোজা রাখতেছে না   রোজা রাখা হারামÑ কিছুই না খেলে এদিনও   রোজার মতই মনে হবে। অথচ মন মানসিকতা ও মনস্তত্বের দিক দিয়ে ইহা মোটেই বাঞ্চনীয় নয়। সহীহ আল বুখারীতে হযরত জাবের (রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে তিনি বলেছেন, “নবী করীম (সাঃ) ঈদের দিনে ময়দানে যাতায়াতের পথ পরিবর্তন করতেন।” অর্থাৎ যে পথে ঈদগাহে যেতেন সে পথে ফিরে আসতেন না। ফিরে আসতেন অন্য পথ দিয়ে।

ঈদের দিনে উচ্চস্বরে তাকবীর বলা রাসূল (সাঃ) এর আমল হতে প্রমাণিত। তাররানীতে হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলে করীম (সাঃ) ইরশাদ করেছেন, “ তোমরা তোমাদের ঈদ সমূহকে তাকবীর বলার সাহায্যে সুন্দর আনন্দমুখর ও জাঁকজমকপূর্ণ করে তোল।” ইমাম যুহরী বলেছেন : “নবী করীম (সাঃ) ঈদুল ফিতরের দিনে ঘর হতে বের হয়ে নামাযের স্থানে পৌঁছা পর্যন্ত তাকবীর বলতে থাকতেন।”

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ