মঙ্গলবার ০৭ জুলাই ২০২০
Online Edition

ভিসি নিয়োগ নিয়ে দ্বিখণ্ডিত ঢাবি আওয়ামীপন্থী শিক্ষকরা

বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার: নতুন ভিসি অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামানের নিয়োগকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে দুভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থী নীল দলের শিক্ষকেরা। নতুন ভিসি নিয়োগের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ ১৯৭৩ লংঘন করা হয়েছে বলে দাবি জানিয়েছে সিনেটের একাংশ। এ নিয়ে শুরু হয়েছে দুপক্ষের পাল্টা  বাকযুদ্ধ। একদিকে রয়েছে সাবেক ভিসিপন্থীরা আর অন্যদিকে রয়েছে নব্য ভিসিপন্থীরা। কেউ প্রতিবাদ করছেন কথার মাধ্যমে আবার কেউ প্রতিবাদ করছেন পদত্যাগের ডাক দিয়ে।
এদিকে নতুন ভিসি হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন নতুন ভিসি অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান। এসময় অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল, অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গত বুধবার সকালে ভিসির কার্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. এনামউজ্জামানের কাছ থেকে আখতারুজ্জামান দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
জানা গেছে, গত বুধবার ঢাবির নতুন ভিসি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তার বিরোধিতা শুরু করেছেন সাবেক ভিসিপন্থীরা। আর নতুন ভিসিপন্থীরাও এর পাল্টা জবাব দিচ্ছেন। নতুন ভিসিপন্থী শিক্ষক ও বাংলা বিভাগের অধ্যাপক সৌমিত্র শেখর তার ফেসবুক ওয়ালে এই দায়িত্ব হস্তান্তরকে সাবেক ভিসির একনায়কত্বের অবসান হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন।
এদিকে গত মঙ্গলবার ভারপ্রাপ্ত নতুন ভিসি হিসেবে অধ্যাপক আখতারুজ্জামানের নাম ঘোষণার পরপরই ওই দিন রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯টি হলের প্রাধ্যক্ষ ও ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর পদত্যাগপত্র জমা দেন বলে গুঞ্জন উঠে। সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের কাছে তারা এ পদত্যাগপত্র জমা দেন বলে জানা যায়। সাবেক ভিসি তাদের এ পদত্যাগপত্র জমা না নিয়ে কাজ করে যাওয়ার কথা বলেন। এ নিয়ে ক্যাম্পাসে ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। নতুন ভিসি পন্থীরা বলছেন, বর্তমান ভিসিকে সমস্যায় ফেলানোর জন্যই তারা এমন পদক্ষেপ নিয়েছেন। গত বুধবার থেকেই শোনা যাচ্ছিল এ ধরনের গুঞ্জন। গতকাল বৃহস্পতিবারও ক্যাম্পাসে এমন গুঞ্জন বিরাজ করছিল। 
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ ১৯৭৩ লংঘন করে বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন ভিসি নিয়োগ ও শিক্ষামন্ত্রীর মিথ্যাচারের প্রতিবাদে ওই শিক্ষকরা পদত্যাগ করেন বলে শোনা যায়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত ভিসি অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামান জানিয়েছেন, তিনি কোনো পদত্যাগপত্র পাননি। এছাড়া কয়েক ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে- সদ্য বিদায়ী ভিসি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক ও প্রাধ্যক্ষদের বক্তব্যে। ফলে বিষয়টি নিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে।
ঢাবি সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ জুলাই ঢাবি সিন্ডিকেটের সভা হয়। সেখানে বিএনপিপন্থী সমর্থকদের বর্জন, সরকার সমর্থকদের একাংশের আপত্তি এবং শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে সিনেট সভায় ভোট ছাড়াই ভিসি প্যানেল চূড়ান্ত হয়। বিকল্প কোন প্রস্তাব না থাকায় অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক কামাল উদ্দিন, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন ও নীলদলের আহ্বায়ক আবদুল আজিজকে নিয়ে তিন সদস্যেও প্যানেল অনুমোদন পায়।
নিয়ম অনুযায়ী ওই তিনজনের মধ্য থেকে পরবর্তী ভিসি হিসেবে নিয়োগ দেয়ার কথা ছিল রাষ্ট্রপতির। কিন্তু সুপ্রীম কোর্টের আপিল গত ৩ আগস্ট এই প্যানেলের কার্যক্রম স্থগিত করে দেন। এ বিষয়ে ৩ অক্টোবর হাইকোর্টে শুনানির দিন ধার্য হয়। কিন্তু এর আগেই গত ৪ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি বিশ্ববিদ্যালয় আদেশ, ১৯৭৩-এর ১১(২) ধারা অনুযায়ী সাময়িকভাবে ভারপ্রাপ্ত ভিসি হিসেবে অধ্যাপক ড. আখতারুজ্জামানকে নিয়োগ দেন। ভিসি নিয়োগের এই প্রজ্ঞাপনের পর থেকেই ঢাবি আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের মধ্যে বিভক্তি শুরু হয়।
উল্লেখ্য, গত ২৪ আগস্ট ভিসি হিসেবে অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের স্বাভাবিক মেয়াদ শেষ হয়। সিনেটের বিশেষ অধিবেশনে ভিসি প্যানেল নির্বাচনের মাধ্যমে ২০১৩ সালের ২৪ আগস্ট তিনি চার বছরের জন্য নিয়োগ পেয়েছিলেন। এর আগে ২০০৯ সালে রাষ্ট্রপতি তাকে সম্পূর্ণ অস্থায়ী হিসেবে নিয়োগ দিলেও তিনি নির্বাচন ছাড়াই সাড়ে চার বছর দায়িত্ব পালন করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ