মঙ্গলবার ০৭ জুলাই ২০২০
Online Edition

রোহিঙ্গা হত্যার প্রতিবাদে সারাদিন উত্তাল ছিল প্রেসক্লাবের সামনের রাস্তা

 

স্টাফ রিপোর্টার : মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতন ও গণহত্যার জন্য দেশটির স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চিকে দায়ী করে আন্তর্জাতিক আদালতে তার বিচার চেয়েছে বাংলাদেশের বিভিন্ন সংগঠন। গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশ করে বিভিন্ন সংগঠন। 

বিক্ষোভে নাগরিক পরিষদ ও ভূমিহীন আন্দোলনের নেতারা বলেন, চলমান সংকটে চীন-ভারতসহ সকল প্রতিবেশী দেশকে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে হবে। এ ছাড়াও গণহত্যার জন্য মিয়ানমারের সামরিক জান্তা ও সুচির আন্তর্জাতিক আদালতে বিচার করতে হবে।

বক্তারা আরও দাবি করেন, জাতিসংঘের এখনই আরাকান (রাখাইন) রাজ্যকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে এবং রোহিঙ্গাদের শরণার্থীর মর্যাদা দিতে হবে। এ ছাড়াও আন্তর্জাতিক দান-অনুদান বরাদ্দ সুষ্ঠুভাবে কাজে লাগিয়ে শরণার্থী রোহিঙ্গাদের মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত এবং কফি আনান কমিশনের রিপোর্ট বাস্তবায়ন করতে হবে।

 প্রেসক্লাবে এক বিক্ষোভ সমাবেশে বাংলাদেশ গারো সমঅধিকার সংস্থার (গেরাব) নেতারা বলেন, রোহিঙ্গাদের গণহত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতন এখনই বন্ধ করতে হবে। তাদের নিরাপত্তা ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।

 প্রেসসক্লাবে জাতীয়তাবাদী চালক সংগ্রাম দলের এক সমাবেশে জাতীয়তাবাদী দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলেনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন বলেন, মিয়ানমার সেনাবাহিনী কর্তৃক রোহিঙ্গা মুসলমানদের গণহত্যা, ধর্ষণ এবং তাদের ঘর-বাড়ি জ্বালিয়ে দেয়ার ঘটনার পর জাতিসংঘসহ সারা বিশ্বের বিবেকবান মানুষ তার প্রতিবাদ করলেও মিয়ানমার সরকার তাতে কর্ণপাত করছে না। মিয়ানমারের চলমান সহিংসতা মধ্যযুগীয় বর্বরতা হার মানিয়েছে। এর দায়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় পরামর্শদাতা অং সান স ুচির শাস্তি হওয়া উচিৎ।

এদিকে গতকাল বিকালেও সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলনসহ কয়েকটি সংগঠন সূ চির বিচার এবং রোহিঙ্গা হত্যা বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করে। এতে অংশ নিয়ে বিশিষ্ট কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, সু চি দেশকে কেবল মাত্র বৌদ্ধ রাষ্ট্র বানানোর জন্য অন্য জাতিগুলোকে হত্যায় মেতে ওঠেছে। তারা বৌদ্ধ ব্যাতিত অন্য ধর্মের লোকদেরকে বিতাড়িত করতে চায়। 

তিনি মিয়ানমারের হত্যাযজ্ঞকে মানবতা বিরোধী অপরাধ আখ্যা দিয়ে বলেন, এর বিচার আন্তর্জাতিক আদালতে করতে হবে। এছাড়া তিনি রোহিঙ্গাদের অতি অল্প সময়ের মধ্যে দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান। সেইসঙ্গে তাদের নাগরিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ারও আহ্বান জানান।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ