শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

সাতক্ষীরায় অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে সংশয়

আবু সাইদ বিশ্বাস, (সাতক্ষীরা): সাতক্ষীরা জেলায় এবার আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা পুরণ নিয়ে নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। আমন আবাদ শুরু হওয়ার প্রারম্ভে অতি বৃষ্টির কারনে এমনটি হয়েছে বলে মনে করেন কৃষি বিভাগ। জেলায় অধিক বৃষ্টির কারনে আমনের বীজতলার ক্ষতি হয়েছে ২৫৫ হেক্টর জমির। কৃষকদের ক্ষতি হয়েছে এক কোটি ৮ লাখ ৪৯ হাজার টাকা। তবে দেরি হলেও আবাদের লক্ষমাত্রা পুরণ হবে বলে আশাবাদি কৃষি বিভাগ।
সাতক্ষীরা জেলায় এবার আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৩ হাজার ৭শত ৬৫ হেক্টর জমিতে। এখন পর্যন্ত আবাদ হয়েছে ৩৬ হাজার ৩ শত ২০ হেক্টর জমিতে। ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লক্ষ ২৬ হাজার ৬৬ মেট্রিক টন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় ৮৩ হাজার ৭ শত ৬৫ হেক্টর জমিতে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১৭ হাজার ৮শত ৮০ হেক্টর, কলারোয়া উপজেলায় ১১ হাজার ৩ শত ৮০ হেক্টর, তালা উপজেলায় ৭ হাজার ৩ শত ১০ হেক্টর, দেবহাটা উপজেলায় ৫ হাজার ২ শত হেক্টর, কালিগঞ্জ উপজেলায় ১৭ হাজার ১৫ হেক্টর, আশাশুনি উপজেলায় ৯ হাজার ২ শত ৩০ হেক্টর ও শ্যামনগর উপজেলায় ১৫ হাজার ৭ শত ৫০ হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ হচ্ছে।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কৃষক আজিজুর রহমান জানান, তার দুই বিঘা নিজস্ব জমির পাশাপাশি আরও তিন বিঘা জমি বর্গা নিয়ে আমনের আবাদ করেছিলেন। প্রথম বীজতলা তৈরি করার পর তা অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে নষ্ট হয়ে যায়। পরবর্তীতে আবারও বীজতলা তৈরি করেছেন। জমিতে ধান রোপণ শুরু করেছেন। বীজতলা তৈরি ও জমির আনুষঙ্গিক খরচ মিলে তিনি সে মোতাবেক ধান উৎপাদন করতে পারবেন না বলে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তিনি আরও বলেন ধান রোপণ শুরু করলেও জমিতে যে পরিমাণ পানি রয়েছে তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি। আর একটু বৃষ্টি হলে সেটিও পানিতে ভেসে যাবে বলে তিনি জানান।
আশাশুনি উপজেলার কৃষক মোকবুল হোসেন জানান, বীজতল তৈরি করে আমন আবাদ করেছিলেন ১০ বিঘা জমিতে। সেটি পানিতে ডুবে নষ্ট হয়ে গেছে নতুন করে আবার বীজতলা তৈরি করে আবাদ শুরু করেছি। বড় কোন বিপর্যয় না হলে কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে পারবেন বলে তিনি জানান।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ কাজী আব্দুল মান্নান জানান, জেলায় এবার আমনের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৩ হাজার ৭শত ৬৫ হেক্টর জমিতে। এখন পর্যন্ত আবাদ হয়েছে ৩৬ হাজার ৩ শত ২০ হেক্টর জমিতে। ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লক্ষ ২৬ হাজার ৬৬ মেট্রিক টন। জেলায় অতিরিক্ত বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে এমনটি হয়েছে বলে তিনি মনে করেন। নির্দিষ্ট সময়ে আবাদ করতে না পারলেও এখন জেলায় পুরোদমে আবাদ হচ্ছে। দেরিতে হলেও লক্ষ্যমাত্রা পুরণ হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। বড় কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে আর ক্ষতি হবে না। তবে তিনি স্বীকার করে বলেন আমন আবাদের প্ররম্ভে বীজতলার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছিল।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ