শনিবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে মানুষের দোরগোড়ায় সংবাদপত্র পৌঁছে দিচ্ছেন মানু চন্দ্র মহাজন

প্রচণ্ড খরতাপে এভাবে প্রতিদিনই পাহাড়ি অঞ্চলে সংবাদপত্র পৌঁছে দেন মানু চন্দ্র মহাজন

মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, (ফটিকছড়ি): বর্তমান বিশ্বের খবরা খবর জানার জন্য সংবাদপত্রের গুরুত্ব অপরিসীম। সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে এক কাপ চায়ের সাথে সংবাদ পাঠ করতে না পারলেই যেন জানা হল না কোন কিছু। এই সংবাদপত্র ঝড় বৃষ্টিতে ভিজে রোদের খরা তাপে পুড়ে প্রত্যহ ঘরের কোণে,ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে,গাড়িতে পৌঁছে দেয় হকাররা। এদের  লাইন হকার বলা হয়। ওরা প্রতিদিন পেপার এজেন্ট থেকে সংবাদপত্র সংগ্রহ করে নিজ এলাকায় পাঠকদের নিকট সংবাদপত্র পৌঁছে দেয়। লাইন হকাররা পায়ে হেঁটে এবং সাইকেল করে সংবাদপত্র পৌঁছে দেয়। অঝোর ধারা বৃষ্টি, গা-পোড়া রোদের তাপে তাদের নেই দায়িত্বের অবহেলা। এমনি একজন লাইন হকার মানু চন্দ্র মহাজন। ফটিকছড়ি নাজিরহাট পেপার ষ্টোর থেকে পত্রিকা সংগ্রহ করে সাইকেল যোগে,পাঁয়ে হেঁটে দীর্ঘপথ পাড়ি দিয়ে ফটিকছড়ি ও লক্ষিছড়ি উপজেলার পাহাড়ি অঞ্চলে নিত্যদিনের সমগ্র খবরের বোঝা মাথায় নিয়ে সংবাদ পাঠক পাঠিকাদের সেবা করে যাচ্ছেন তিনি। ঝড় বৃষ্টি খরা রোদ্র তাপ যায় হোক দায়িত্ব পালনে নেই অবহেলা। ৫০/৫৫ বছর বয়সী মানু চন্দ্র মহাজন বিগত ৩০/৩৫ বছর ধরে এ সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।  অত্যান্ত প্ররিশ্রমের মাঝেও দেখা হলে কথা বলে হাসিমুখে। তিনি রসিক মানুষ হিসেবেই পরিচিত। কথার মাঝেই আনন্দে মাতিয়ে তুলেন সকলকে।  মানু চন্দ্রের বাড়ি ফটিকছড়ির খিরাম অঞ্চলে। স্ত্রী,দুই পুত্র, দুই কন্যাসহ ছয় সদস্য বিশিষ্ট সংসার। মাস শেষে চার পাঁচ হাজার টাকা যা পাই তা দিয়ে কোনমতে সংসার চালাতে হয় বলে জানান মানু চন্দ্র মহাজন। তিনি বলেন, মানুষের নিকট পত্রিকা পৌঁছে দিয়ে যা অর্থ পাই তা দিয়ে সংসার চালতে কষ্ট হয়। তবুও এ পেশাকে ভালবেসে আগলে আছি। যতই কষ্ট হোক পাঠকদের দৌড়গোড়ায় সংবাদপত্র পৌছেঁ দিতে পারলেই আনন্দ। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন মত্যু পর্যন্ত এ পেশায় জড়িয়ে থাকতে চাই। ফটিকছড়ি নাজিরহাট পেপার ষ্টোরের স্বত্তাধিকারী মোহাম্মদ আবুল কাসেম তালুকদার বলেন,রোদ,বৃষ্টিতে মানুষের দ্বারে সময়মত পত্রিকা পৌছেঁ দেওয়া খুব কষ্টের কাজ। তাই এ পেশায় বেশিদিন কেউ থাকেনা। কিন্তু মানু চন্দ্র মহাজনই দীর্ঘদিন যাবৎ এ পেশায় টিকে আছেন। পত্রিকা মালিকরা যদি মানু চন্দ্র মহাজনের মত হকারদের পুরস্কৃত করত তাহলে মানু চন্দ্র মহাজনের পেশার মূল্যায়ন হতো এবং এ পেশায় জড়িত হকাররা উৎসাহী হতো।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ