সোমবার ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

ছুটি থেকে ফিরেই ফের ছুটিতে প্রধান বিচারপতি

 

স্টাফ রিপোর্টার : প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহা এক মাসের ছুটিতে যাচ্ছেন। কানাডা-জাপান থেকে ফিরে সুপ্রিম কোর্ট খোলার আগেরদিন প্রধান বিচারপতি একমাসের ছুটি নিয়েছেন। ছুটির বিষয়টি রাষ্ট্রপতি মো.আবদুল হামিদ বরাবরে অবহিত করা হয়েছে। অসুস্থাতার কারণ দেখিয়ে ছুটি নেয়া হলেও গতকাল সোমবার দুপুর ২ টা পর্যন্ত তিনি অফিসে করেছেন। আইনমন্ত্রী এডভোকেট আনিসুল হক ছুটির বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।

এদিকে হঠাৎ করে প্রধান বিচারপতির ছুটির আবেদনে নানা প্রশ্ন আইনজীবীদের মধ্যে দেখা গেছে। ছুটির খবর শুনে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করতে তাঁর বাসভবনে গিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্ট বার এসোসিয়েশনের সভাপতি এডভোকেট জয়নুল আবেদীন ও সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকনসহ জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা। আধঘন্টা অপেক্ষার পর সাক্ষাতের অনুমতি না পেয়ে আইনজীবীরা ফিরে আসেন। আজ মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট বার এ বিষয়ে জরুরি সভার ডেকেছে। এর আগে সভাপতির কার্যালয়ে জয়নুল আবেদীন সাংবাদিকদের বলেন, তারা শুনেছেন তিনি (প্রধান বিচারপতি) হঠাৎ করে ছুটির কথা জানিয়েছেন। পাকিস্তান ও বাংলাদেশ কোনো আমলেই আদালত খোলার প্রাক্কালে প্রধান বিচারপতির ছুটিতে যাওয়ার ঘটনা ঘটেনি। কেন তিনি ছুটি নিয়েছেন তা তারা জানেন না। 

প্রধান বিচারপতি আজ মঙ্গলবার থেকেই ছুটিতে যাচ্ছেন। সে হিসেবে আজই ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি চূড়ান্ত করে প্রজ্ঞাপন হওয়ার কথা রয়েছে। এর্টনি জেনারেল মাহবুবে আলম গণমাধ্যমকে বলেছেন, নিয়ম অনুযায়ী আপিল বিভাগের কর্মে প্রবীণ বিচারপতি মোহাম্মদ আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞারই ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হওয়ার কথা। এস কে সিনহার কানাডা-জাপান সফরকালীন সময় বিচারপতি মোহাম্মদ আবদুল ওয়াহ্হাব মিঞা ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণার পূর্ণাঙ্গ রায় গত ১ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়। রায় প্রকাশের পর এ নিয়ে সরকার ও ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ সংক্ষুব্ধ হয়। বিশেষ করে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহার বিভিন্ন পর্যবেক্ষণ নিয়ে ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছিলেন প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, দলীয় নেতা ও আওয়ামীপন্থী আইনজীবীরা। তারা প্রধান বিচারপতির পদত্যাগের দাবিও তোলেন। গত ২২ আগস্ট মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছিল বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের নেতারা।

আওয়ামীপন্থী আইনজীবীদের সংগঠন বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদ প্রধান বিচারপতির পদত্যাগ দাবিতে সুপ্রিম কোর্টে ধারাবাহিক সমাবেশ ও মানববন্ধনের আয়োজন করে। গত ২৪ আগস্ট এক সমাবেশে বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সদস্য সচিব ও আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস আল্টিমেটাম দিয়ে বলেছিলেন, প্রধান বিচারপতির পদটি ধরে রাখার আপনার আর কোনো যোগ্যতা নেই। তাই আগামী অক্টোবরের আগেই আপনি এই পদ থেকে চলে যাবেন। এর মধ্যে প্রধান বিচারপতি দায়িত্ব না ছাড়লে ‘এক দফা এক দাবি’র আন্দোলন শুরুর ঘোষণাও আসে সমাবেশে।

গত ১৪ সেপ্টেম্বর সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় এবং তার কিছু পর্যবেক্ষণের বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নিতে জাতীয় সংসদে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। বিচারিক সিদ্ধান্তের বিষয়ে সংসদে ওই দিন প্রায় পাঁচ ঘণ্টা আলোচনা হয়, যাতে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৮ জন সংসদ সদস্য অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আদালত তার এখতিয়ারের বাইরে গিয়ে সংসদে পাস হওয়া সংবিধানের সংশোধনী বাতিল করেছে।

ছুটির প্রসঙ্গে এটর্নি জেনারেল সাংবাদিকদের বলেছেন, অসুস্থতা’র কারণ দেখিয়ে এক মাসের ছুটিতে গেছেন প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার (এস কে) সিনহা। বিষয়টি তার ‘ব্যক্তিগত’, তিনি ছুটি নিতেই পারেন। এটা নিয়ে তো অবাক হওয়ার কিছু নেই। এটর্নি জেনারেল হিসেবে আমি মনে করি, তার ছুটির বিষয়টি ‘নজিরবিহীন’ কোনো ঘটনা নয়। তার সমস্যা থাকতেই পারে। গতকাল সোমবার বিকেলে এটর্নি জেনারেল নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আরও বলেন, উনি (প্রধান বিচারপতি) ছুটি নিয়েছেন, এটা তার ব্যক্তিগত বিষয়। একজন মানুষের সুবিধা-অসুবিধা থাকতেই পারে। তিনি বিদেশ থেকে আসার পর আমার সঙ্গে দেখা হয়নি। জানি না ছুটির কী কারণ?

এ বিষয়ে আইনসচিব আবু সালেহ শেখ মুহাম্মদ জহিরুল হক দুলাল গণমাধ্যমকে বলেন, প্রধান বিচারপতি অসুস্থতাজনিত কারণে এক মাসের ছুটির আবেদন করেছেন। আবেদনটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হয়ে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য যাবে। 

২৭ আগস্ট থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন ছুটি ছিল। আজ থেকে আদালতের নিয়মিত কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। ঈদুল আযহায় গণভবনের প্রধানমন্ত্রীর দেয়া সংবর্ধনায় প্রধান বিচারপতি ও আপিল বিভাগের বিচারপতিরা অংশ নেন। দুর্গা পূজা উপলক্ষে রাষ্ট্রপতির দেয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেও তিনি বঙ্গভবনে যান। এর আগে গত ৮ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রধান বিচারপতি দেশের বাইরে ছুটিতে ছিলেন। গত ২৩ সেপ্টেম্বর তিনি দেশে ফেরেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ