শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০
Online Edition

ভারতে উগ্র হিন্দুদের হুমকিতে গ্রামছাড়া ২০ মুসলিম পরিবার খাদ্য সংকটে

১৩ অক্টোবর, ওয়েবসাইট : ভারতের বিজেপিশাসিত রাজস্থানে উগ্র হিন্দুদের হুমকিতে গ্রামছাড়া ২০টি মুসলিম পরিবার খাদ্য সংকটে ভুগছেন। রাজস্থানের জয়সলমীর জেলার দান্তাল গ্রাম থেকে উচ্চবর্ণের হিন্দুদের হুমকিতে ওই মুসলিম পরিবারগুলো সম্প্রতি গ্রাম ছেড়ে আশ্রয়শিবিরে থাকতে বাধ্য হয়েছেন বলে অভিযোগ।
জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় অস্থায়ী শিবিরে এসব পরিবার আশ্রয় নিয়ে থাকলেও তাদের খাবারের কোনো ব্যবস্থা না হওয়ায় তারা সমস্যায় পড়েছেন। শিবিরটিতে মৌলিক সুযোগ-সুবিধা না থাকার জন্য শিশু ও নারীরা দুর্ভোগে পড়েছেন।
২০টি মুসলিম পরিবারের প্রায় ২০০ সদস্য ভয়ে এখন নিজ গ্রামে ফিরতে চাচ্ছেন না। তারা জেলা প্রশাসনের কাছে এক আবেদনে অন্যত্র নিরাপদ স্থানে স্থানান্তর করার দাবি জানিয়েছেন।
এক হিন্দু পুরোহিত ও তার দুই সঙ্গী কর্তৃক এক মুসলিম লোকশিল্পীকে হত্যার পর গোলযোগের জেরে ২০টি মুসলিম পরিবার গ্রাম ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।
রমেশ সুথার নামে অভিযুক্ত পুরোহিতকে পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও অন্যরা পলাতক রয়েছে।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর দান্তাল গ্রামে মন্দিরে অনুষ্ঠান করছিলেন লোকশিল্পী আহমেদ খান। নবরাত্রির সময় এই মন্দিরে অনুষ্ঠান করে থাকে লাঙ্গা মাগানিয়ার লোকশিল্পী গোষ্ঠীর শিল্পীরা।
এবার অনুষ্ঠান করেন লোকশিল্পী আহমেদ খান (৪৫)। কিন্তু গ্রামের পুরোহিত রমেশ সুথার আহমেদ খানকে নির্দেশ দেন বিশেষ একটি ‘রাগ’ সঙ্গীত গাওয়ার জন্য।
পুরোহিত রমেশ সুথারের দাবি, ওই রাগটি গাইলে মন্দিরের ‘ভগবান’ তার কাছে নেমে এসে তার শরীরে প্রবেশ করবেন। কিন্তু সেদিন ‘ভগবান’ তার শরীরে প্রবেশ করেননি অভিযোগ করে রমেশ সুথার আহমেদ খানের গানকেই দায়ী করেন।
পরে পুরোহিত রমেশ ও তার দুই ভাই বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক মারধর করে আহমেদ খানকে। তার বাদ্যযন্ত্র ভেঙে ফেলা হয়। ব্যাপক মারধরের ফলে ঘটনাস্থলেই নিহত হন আহমেদ খান।
আত্মীয় স্বজনদের আশ্বাসে এ নিয়ে থানায় অভিযোগ জানানোর পরেই রমেশ সুথার গ্রামের উচ্চবর্ণের হিন্দুদের নিয়ে এসে ওই পরিবারগুলোকে গ্রাম ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। অন্যথায় তাদের হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেয়া হয়। এরপরেই ২০টি মুসলিম পরিবারের প্রায় ২০০ সদস্য নিজেদের প্রাণ বাঁচাতে দান্তাল গ্রামে আশ্রয় নিয়েছেন।
পুলিশ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার আশ্বাস দিলেও ওই মুসলিম পরিবারের মানুষজন ভয় ও আতঙ্কে গ্রামে ফিরতে চাচ্ছেন না। জেলা কালেক্টরের পক্ষ থেকে ওই সব পরিবারের সদস্যদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করতে স্থানীয় নগর পরিষদ কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কিন্তু ওই মুসলিম পরিবারের লোকজন বলছেন তারা নিজেরাই খাবারের ব্যবস্থা করছেন কিন্তু এভাবে বেশীদিন চলবে না। প্রশাসন খাবারের ব্যবস্থা করতে কোনো সাহায্য করছে না বলে তারা বলছেন।
অন্যদিকে, নগর পরিষদ কর্তৃপক্ষ বলছেন তাদের কাছে খাবারের সুবিধা দেয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ফান্ড নেই। তারা প্রত্যেক দিন খাবারের সুবিধা দিতে পারবে না বলেও জানিয়েছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ