বৃহস্পতিবার ০৯ জুলাই ২০২০
Online Edition

মিথ্যাচারের জন্য আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি গয়েশ্বরের

গতকাল শনিবার স্বাধীনতা হলে আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সংসদের উদ্যোগে বিচার বিভাগ ও বর্তমান প্রেক্ষাপট শীর্ষক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বাবু গয়েশ্বর চন্দ্র রায় -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : মিথ্যাচারের জন্য আইন মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি বলেছেন, প্রধান বিচারপতি ক্যান্সার আক্রান্ত বলে দেশবাসীকে জানিয়েছিলেন আইনমন্ত্রী। বলেছিলেন, কোন চাপ প্রয়োগ করে প্রধান বিচারপতিকে ছুটিতে পাঠানো হয়নি। তিনি ক্যান্সারসহ নানাবিধ রোগে আক্রান্ত। তার বিশ্রামের প্রয়োজন। এ জন্য তিনি এক মাসের ছুটি চেয়েছেন। কিন্তু বিদেশ যাওয়ার প্রাক্কালে প্রধান বিচারপতি নিজেই সাংবাদিকদের বলেছেন, তিনি সম্পুর্ণ সুস্থ। এমন মিথ্যাচারের অভিযোগে আমরা আইনমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি জানাচ্ছি।
গতকাল শনিবার রাজধানীর সেগুনবাগিচা স্বাধীনতা হল মিলনায়তনে আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সংসদ আয়োজিত ‘বিচার বিভাগ ও বর্তমান প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি জানান।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, দেশের মানুষের সর্বশেষ আশ্রয়স্থল বিচার বিভাগ। দেশের যে কোন সংকটের সমাধানের প্রধান উৎসস্থল বিচার বিভাগ। আজ বিচার বিভাগকে পুরোপুরি কুক্ষিগত করতেই সরকার প্রধান বিচারপতিকে জোর করে দেশত্যাগে বাধ্য করেছে। প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে যত নাটকই করা হোক না কেন দেশের মানুষ সবই বুঝে। প্রধান বিচারপতি দেশের বাইরে যাওয়ার আগে নিজেই আসল কথা বলে দিয়েছেন।
তিনি বলেন, বিচার বিভাগ পুরোপুরি সরকারের নিয়ন্ত্রণে চলে গেলে দেশের চলমান সংকেটর আর উত্তরণ ঘটবে না। তাই দেশ ও দেশের মানুষের স্বার্থেই যে কোন মূল্যে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার রক্ষা করতে হবে। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, ষোড়শ সংশোধনীর রায়ে প্রধান বিচারপতি অনেক কথাই বলেছেন। রায়ে বহুবার জাতির পিতা উল্লেখসহ শেখ মুজিবুর রহমানের নাম লেখা হয়েছে। আওয়ামী লীগ সে ইতিবাচক দিকগুলো বিবেচনায় না নিয়ে সমালোচনাগুলোকে প্রাধান্য দিয়েছেন। এখন সত্য উচ্চারণই প্রধান বিচারপতি ও বিচার বিভাগের জন্য কাল হয়ে দাঁড়াল।
বিএনপির এই স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন, বিচার বিভাগে দেশের মানুষের সর্বশেষ আশ্রয়স্থল। সরকারের হাতে কুক্ষিগত হতে দেয়ার মাধ্যমে বিচার বিভাগকে ধ্বংস করা যাবে না। নির্বাহী ও বিচার বিভাগের বিরোধের মধ্যদিয়ে কোন তৃতীয় পক্ষকেও সুযোগ করতে দেয়া যাবে না। দেশবাসীকে এ ব্যাপারে সচেতন ও সোচ্চার হতে হবে।
আরাফাত রহমান কোকো স্মৃতি সংসদের সহ সভাপতি শফিকুল ইসলাম রাহীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান, সহ তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী, সাবেক এমপি ফাহিমা হোসাইন জুবিলী, কেন্দ্রীয় নেতা রফিক সিকদার, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ফৌজুল কবির ফজলু বক্তব্য দেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ