রবিবার ১৬ আগস্ট ২০২০
Online Edition

নাইকোর চুক্তি বাতিলের  আপিলের শুনানি মুলতবি

 

স্টাফ রিপোর্টার : পেট্রোবাংলা ও বাপেক্সের সঙ্গে কানাডার কোম্পানি নাইকোর করা দুটি চুক্তি অবৈধ ও বাতিল ঘোষণার হাইকোর্টের রায় স্থগিতের জন্য করা আবেদনের শুনানি তিন সপ্তাহের জন্য মুলতবি করেছেন আপিল বিভাগ। এ সময়ের মধ্যে নাইকোকে হাইকোর্টের রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি সংগ্রহ করতে বলেছেন আদালত।

গতকাল বৃহস্পতিবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মো.আবদুল ওয়াহহাব মিঞার নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে নাইকোর পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী রোকন উদ্দিন মাহমুদ ও মোস্তাফিজুর রহমান খান, পেট্রোবাংলার পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার তানজীব উল আলম। আর সরকার পক্ষে এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। 

গত ২৪ আগস্ট বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি আবু তাহের মো. সাইফুর রহমান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এক রায়ে পেট্রোবাংলা ও বাপেক্সের সঙ্গে নাইকোর রিপোর্সের দুটি চুক্তি অবৈধ ও বাতিল ঘোষণা করে রায় দেন। একই সঙ্গে চুক্তি দুটির আওতায় নাইকো কানাডা ও নাইকো বাংলাদেশের সব সম্পত্তি রাষ্ট্রের অনুকূলে ফেরত দেয়ার রায় দেন।

রায়ে বলা হয়, সুনামগঞ্জের টেংরাটিলায় নাইকোর গ্যাসক্ষেত্রে ২০০৫ সালের বিস্ফোরণের ঘটনায় ক্ষতিপূরণ এবং দুর্নীতির অভিযোগে নিম্ন আদালতে বিচারাধীন দুটি মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নাইকোকে কোনো অর্থ পরিশোধ করা যাবে না। 

বাংলাদেশে গ্যাস উত্তোলন ও সরবরাহের জন্য ২০০৩ ও ২০০৬ সালে নাইকোর সঙ্গে চুক্তি দুটি করে বাপেক্স ও পেট্রেবাংলা। এর মধ্যে একটি ছিল বাপেক্সের সঙ্গে যৌথ অংশীদারিত্বের (জয়েন্ট ভেনচার) চুক্তি। গ্যাস সরবরাহ ও কেনাবেচার জন্য পেট্রোবাংলার সঙ্গে অন্য চুক্তিটি হয়েছিল। নাইকো রিসোর্সেস ২০০৩ সালে বাপেক্সকে সঙ্গে নিয়ে ফেনী ও ছাতকে গ্যাসক্ষেত্র উন্নয়নের দায়িত্ব পায়। ওই দুই গ্যাসক্ষেত্রে নাইকোর ৮০ শতাংশ এবং বাপেক্সের ২০ শতাংশ মালিকানা ছিল। দায়িত্ব পাওয়ার পর ফেনী গ্যাসক্ষেত্র থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ করে আসছিল নাইকো। কিন্তু তাদের অদক্ষতা ও অবহেলার কারণে সুনামগঞ্জের টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে ২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি ও ২৪ জুন দুই দফা বিস্ফোরণ ও অগ্নিকান্ড ঘটে। তাতে বিপুল পরিমাণ গ্যাস পুড়ে যায় এবং পরিবেশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়। ওই বিস্ফোরণের জন্য নাইকোকে দায়ী করে মামলা করে পট্রোবাংলা। ওই মামলায় ৭৪৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ চাওয়া হয়। একইসঙ্গে ফেনী গ্যাসক্ষেত্র থেকে নাইকোর সরবরাহ করা গ্যাসের দাম পরিশোধ করা বন্ধ করে দেয় সরকার। ওই অর্থ পরিশোধের দাবি নিয়ে নাইকো আন্তর্জাতিক সালিসি আদালতে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে মামলা করলে ২০১৪ সালে নাইকোর পক্ষে রায় আসে। রায়ে বলা হয়, নাইকোর পাওনা ২১৬ কোটি টাকা সুদসহ পরিশোধ করতে হবে বাংলাদেশকে।

ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক শামসুল আলম ওই দুই চুক্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গতবছর মে মাসে জনস্বার্থে এক রিট আবেদন করেন। ওই রিটে জারি করা রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে হাইকোর্ট রায় দেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ