শুক্রবার ০৩ জুলাই ২০২০
Online Edition

নেত্রকোনা- ময়মনসিংহ মহাসড়কে ৩৫ কিলোমিটার খানাখন্দ

দিলওয়ার খান, নেত্রকোনা : সংস্কারের অভাবে বেহালদশা বিরাজ করছে নেত্রকোনা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের। ৩৭ কিলোমিটার সড়কের প্রায় ৩৫ কিলোমিটারেই খানাখন্দর। কোন উপলক্ষ সামনে এলেই জোড়াতালি দিয়ে চালানো হচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কটিকে। ৪০ মিনিটের সড়ক পাড়ি দিতে সময় লাগে দেড় থেকে দুই ঘন্টা। দুর্ভোগের মধ্যদিয়ে বিভাগীয় শহর ময়মনসিংহ, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চলাচল করতে হয় মানুষকে।
নেত্রকোনা- ময়মনসিংহ-ঢাকা এই মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে গিয়ে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য ছোট বড় খানাখন্দ এবং গর্ত। এতে সীমাহীন ভোগান্তিতে পড়েছে যাত্রী ও যানবাহন চালকরা। গত ঈদে সড়ক জনপদ বিভাগ (সওজ) মহাসড়কের গর্তগুলোতে ইটের সুড়কি ও পিচ ঢেলে চলাচল উপযোগী করে। এতে করে সাময়িকভাবে কাজ চলে। ক’দিন যেতে না যেতেই- যেই সেই দশা। গাড়ির চাকার ঘষায় উঠে যায় ইট সুরকি। স্থানীদের অভিযোগ, মাঝে মাঝে গাড়ি নিয়ে এসে সড়কে উপর পিচ ঢালা হয়। ভারি বৃষ্টি হলেই ওই পিচ উঠে যায়। ওই মহাসড়কের শ্যামগঞ্জ বাজারে ইটের সলিং করা হয়েছে। ভাঙ্গাচূড়া সড়কে থেমে থেমে চলে গাড়ি। নেত্রকোনা থেকে ময়মনসিংহ ৪০ মিনিটের সড়ক পাড়ি দিতে সময় লাগে দেড় থেকে দুই ঘন্টা। নেত্রকোনা থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত সড়কের বিভিন্ন স্থানে খানাখন্দ ও গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে বাস, সিএনজিসহ বিভিন্ন যানবাহনে চলাচল করতে হচ্ছে জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও পাশের জেলা সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা, তাহিরপুর, মধ্যনগরের মানুষকে।
 ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) সূত্রে জানা গেছে, ময়মনসিংহ-নেত্রকোনা মহাসড়কটির দূরত্ব ৩৭ কিলোমিটার। এরমধ্যে ময়মনসিংহ জেলায় পড়েছে প্রায় ২১ কিলোমিটার অংশ। বাকি অংশ নেত্রকোনা জেলার অন্তর্ভুক্ত। ওই সড়কের বেশির ভাগই খান্দাখন্দরে ভরা।
 সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, মহাসড়কের কাশিগঞ্জ বাজার থেকে শ্যামগঞ্জ রেলগেট পর্যন্ত আনুমানিক ১০ কিলোমিটার নেত্রকোনার শ্যামগঞ্জ থেকে জেলা সদরের আন্তজেলা বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত সড়কে ষোল কিলো মিটারের প্রায় অর্ধেক অংশ সড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে গেছে। মহাসড়কের কাশিগঞ্জ বাজার, বেলতলী মোড়, খিচা বাজার, ডেংগার মোড়, কুমুদগঞ্জ, শ্যামগঞ্জ বাজার, হিরনপুর, বাঘরা, চল্লিশা, সাকুয়া বাজার, রাজেন্দ্রপুর, পারলাসহ বিভিন্ন স্থানে ছোট বড় গর্ত। সম্প্রতি সওজের নিজস্ব উদ্যোগে মহাসড়কটিতে কিছু সংস্কার কাজ করা হয়। কথা হয় সমাজ সেবক, বাসযাত্রী, চালকসহ অনেকের সাথে। সকলের অভিযোগ স্থায়ী ভাবে মেরামত না করায় যাত্রী সাধারণকে চরম দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হয়। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট বিভাগের কোন রকম মাথা ব্যাথা নেই।
নেত্রকোনা সদর উপজেলার নুরপুর গ্রামেরসমাজ কর্মী চন্দন দেবনাথ বলেন, চলতি অর্থ বছরে এ সড়কের কোন উন্নয়ন কাজ হয়নি। মাঝে মধ্যে ভিআইপি লোকজন এ এলাকায় আসলে তড়িগড়ি করে মেরামত কাজ চলে। খানাখন্দ, গর্ত ইট সুড়কি দিয়ে ভরাট করা হয়। সম্প্রতি জেলার হাওর এলাকায় বন্যা হওয়ায় বেশ কয়েকজন মন্ত্রী, সচিব, উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সরকার দলীয় নেতারা সড়ক পথে এসেছিলেন। তখন সড়কটি মেরামত করা হয়েছিল। পরে গত ঈদেও আবার চলে মেরামত কাজ। যা কিছুদিন যেতে না যেতেই আগের অবস্থায় চলে এসেছে। ওই সড়কে চলাচলরত গেইটলক বাসের চালক মন্টু মিয়া বলেন, মহাসড়কের নেত্রকোনা থেকে ময়সনসিংহ অংশের বেশ কিছু জায়গা খুব খারাপ। অনেক সময় গাড়ির পার্টস নষ্ট হয়ে যায়, গাড়ির স্টার্ট বন্ধ হয়ে যায়। গাড়ি চালাতে আমাদের খুব কষ্ট হয়। গন্তব্যে পৌঁছতে সময়ও লাগে বেশি। এ নিয়ে যাত্রীদের সাথে আমাদের লোকদের প্রায় ঝগড়া হয়। সদর উপজেলার চল্লিশার যুবনেতা শাহজাহান মিয়া বলেন, এ সড়কে কোন স্থানে যেতে ইচ্ছে করে না। গাড়ির ঝাঁকুনীতে মনে হয় কোমড়ে হার ভেঙ্গে যাবার মত অবস্থা। কয়দিন আগে গৌরীপুর গেয়েছিলাম, খুব কষ্ট হয়েছিল। নেহায়েত প্রয়োজন ছাড়া এ পথে কেউ যাতায়াত করতে চায়না। কুষ্টিয়া ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়য়ে অধ্যয়নরত সদর উপজেলার বাঘরুয়া গ্রামের মো. কামরুল ইসলাম বলেন, এই সড়ক দিয়ে সুস্থ মানুষ গেলেও অসুস্থ হয়ে পড়ে। সড়কটি মেরামত করা একান্ত প্রয়োজন। এমন দশার সড়ক মনে হয় দেশের খুব কম এলাকায়ই আছে।
নেত্রকোনার আটপাড়ার দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা ময়মনসিংহ শহরের বসবাসরত এনজিও কর্মী মোশারফ হোসেন খসরু বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার অনেক উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের কোন উন্নয়ন হয়না বিষয়টি ভাবতেই কেমন অবাক লাগে। অবহেলিত এই জনপদের বিষয়টি কারো মাথায় নেই বলে মনে হয়।
নেত্রকোনা সড়ক ও জনপদ বিভাগের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী দিদারুল আলম তরফদার জনদুর্ভোগের কথা স্বীকার করে বলেন, গত বর্ষায় ভারী বর্ষণে সড়কটির বিভিন্ন অংশে খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। সড়কের অবস্থা ভাল নয়, খুবই খারাপ। আমাদের আঞ্চলিক অফিস থেকে টেন্ডার হয়েছে। টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর দু’এক মাসের মধ্যে সড়ক মেরামতের কাজ শুরু হবে।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ