মঙ্গলবার ০২ জুন ২০২০
Online Edition

রাবির হল থেকে ছাত্রী অপহরণ

রাবি রিপোর্টার : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের সামনে থেকে অপহৃত হয়েছেন বাংলা বিভাগের ৪র্থ বর্ষের চূড়ান্ত পর্বের পরীক্ষার্থী। গতকাল শুক্রবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজিলাতুন্নেসা মুজিব হলের সামনে থেকে তিনি অপহৃত হন। রাবি ভিসি বলেন, তাকে কিডন্যাপ করা হয়নি। এদিকে ওই ছাত্রীকে দ্রুত উদ্ধারের দাবিতে ভিসির বাসভবন ঘেরাও করেছে শিক্ষার্থীরা।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল ৯টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের তাপসী রাবেয়া হল থেকে পরীক্ষা দিতে বের হয় ওই শিক্ষার্থী। তবে হলের ফটকে আসতেই দেখা মিলে সাবেক স্বামী সোহেলের সাথে। সেখানে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে সোহেলসহ ৭-৮ জন লোক পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মাইক্রোবাসে শোভাকে তুলে নেয়।
তবে সোহেলের পরিবার থেকে যৌতুকের চাপ দেয়ায় ৯ মাসের মাথায় এ বছরের সেপ্টেম্বরে তাদের ডিভোর্স হয়। যে কারণে ডিভোর্স ঠেকাতে অপহরণ করা হয়েছে দাবি মেয়ের পরিবারের।
ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান বলেন, রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার, গোয়েন্দা বাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সকল স্তরে আমরা জানিয়েছি। তাকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
এদিকে অপহরণের ঘটনার পরও পরীক্ষা বন্ধ করেনি বাংলা বিভাগ। এ নিয়ে বিভাগের সামনে পরীক্ষা পেছানোর দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ করেছে শোভার সহপাঠীরা। পরীক্ষা বন্ধ না করার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
ওই শিক্ষার্থীকে দ্রুত উদ্ধারের দাবিতে বিকেল থেকে ভিসির বাসভবন ঘেরাও করে বিক্ষোভ করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। দাবি না মানা পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবারও হুমকি দিচ্ছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যাপারে প্রশ্ন তুলে বলেন, একটা অপরিচিত মাইক্রোবাস ক্যাম্পাসে ঢুকে একটা মেয়েকে অপহরণ করে নিয়ে যায় কিভাবে? বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দুর্বলতার কারণেই এমনটি হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মতিহার থানার অসি মেহেদি হাসান বলেন, এখনো কোন খোঁজ পাওয়া যাইনি। উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
এ ব্যাপারে ওই শিক্ষার্থীর বাবা জানান, মেয়েকে ফিরিয়ে দেয়ার ব্যাপারে বিশ্ববদ্যিালয় ভিসি খুব দ্রুত উদ্ধারের আশ্বাস দিয়েছেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি প্রফেসর এম আব্দুস সোবহান বলেন, এটা তাদের পারিবারিক বিষয়। তবে আইনশৃংখলা বাহিনী দ্রুত উদ্ধারের চেষ্টা করছে।
উল্লেখ্য, অপহৃত মেয়ের বাড়ি নওগাঁ জেলার মহাদেবপুর থানায়। পিতা আমজাদ হোসেন। গত বছরের ডিসেম্বরে একই জেলার পত্নীতলা থানার নজীপুর গ্রামের নজরুল উকিলের ছেলে সোহেল রানার সাথে পারিবারিক সূত্রে বিবাহ হয় তার। সোহেল রানা নজীপুরের একটি আদালতে আইন ব্যবসার প্রাকটিস করছেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ