সোমবার ০১ জুন ২০২০
Online Edition

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশী যুবকের সন্ত্রাস

গত ১১ ডিসেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানহাটনের আন্ডারগ্রাউন্ড বাস টার্মিনালে একটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটাতে গিয়ে আকায়েদ উল্লাহ নামের একজন বাংলাদেশী যুবক পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে। প্রকাশিত বিভিন্ন খবরে জানা গেছে, সন্ত্রাসবাদী এই কর্মকান্ডে অভিযুক্ত আকায়েদসহ চারজন আহত হয়েছে। এদের মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মকভাবে আহত হয়েছে আকায়েদ নিজে। গ্রেফতার হওয়ার পর আকায়েদ নাকি জানিয়েছে, বোমাটি সে একাই তৈরি করেছিল। আর উদ্দেশ্য ছিল সিরিয়ায় চলমান বোমা হামলা ও মুসলিম হত্যাকান্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো। মার্কিন পুলিশ এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদী সংগঠন আইএস-এর সঙ্গে অভিযুক্ত আকায়েদের যোগাযোগ ও যুক্ত থাকার সম্ভাবনা আবিষ্কার করে বলেছে, ম্যানহাটনের ওই বোমা হামলার পেছনে আইএস-এর হাত রয়েছে। অর্থাৎ বাংলাদেশী আকায়েদ আইএস-এর হয়ে বোমার বিস্ফোরণ ঘটাতে গিয়েছিল। কিন্তু সে দক্ষ না হওয়ায় বোমাটি সম্পূর্ণরূপে বিস্ফোরিত হতে পারেনি। আর সে কারণেই কোনো মানুষের মৃত্যু হয়নি। বোমার সম্পূর্ণ বিস্ফোরণ হলে বহু মানুষ হতাহত হতো।
কিন্তু তা সত্ত্বেও ম্যানহাটনের এ ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে প্রবল ভীতি ও আতংকের সৃষ্টি হয়েছে। সেই সাথে সন্ত্রাসবাদী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে নতুন পর্যায়ে মার্কিন জনগণের মধ্যে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছে। এই প্রতিক্রিয়া অত্যন্ত স্বাভাবিক হলেও ঘটনাপ্রবাহে আইএস-এর পাশাপাশি প্রাধান্যে এসেছে মুসলিম বিরোধী কঠোর মনোভাব। আবারও এমন একটি সুচিন্তিত প্রচারণা চালানো হচ্ছে যেন মুসলিম মাত্রই সন্ত্রাসবাদী! এটুকুই সব নয়। মুসলিমদের সঙ্গে অভিবাসী তথা যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বিদেশী নাগরিকদেরও জড়িয়ে ফেলা হয়েছে। বলা হচ্ছে, অভিবাসীরা দেশটির জন্য বিপদজনক এবং সে কারণে তাদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হোক। এ ব্যাপারে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করতে এগিয়ে এসেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচিত হওয়ার পর প্রাথমিক দিনগুলো থেকেই তিনি অভিবাসী বিরোধী অবস্থান নিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান অভিবাসন আইন ও ব্যবস্থার কঠোর সমালোচক হিসেবে পরিচিত ডোনাল্ড ট্রাম্প অনেক উপলক্ষেই বহিষ্কার করাসহ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
কিন্তু এতদিন পর্যন্ত তিনি মার্কিন জনগণের সমর্থন অর্জন করতে পারেননি বলে কোনো ব্যবস্থা নেয়াও তার পক্ষে সম্ভব হয়নি। এমন অবস্থায় বাংলাদেশী যুবক আকায়েদ প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাতে সাফল্যের ‘অস্ত্র’ তুলে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মিস্টার ট্রাম্পও সময় নষ্ট করেননি। ম্যানহাটনে বোমা বিস্ফোরণের খবর পাওয়ার পর মুহূর্তেই তিনি দৃশ্যপটে হাজির হয়েছেন। বলেছেন, তিনি অভিবাসী বিরোধী যে নীতি ও অবস্থান নিয়েছেন তা যে সঠিক ছিল ম্যানহাটনের ঘটনাই তার বড় প্রমাণ। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন, তার অভিবাসী বিরোধী নীতি ও অবস্থানে কোনো পরিবর্তন তো ঘটবেই না বরং ম্যানহাটনের বোমা হামলার পরিপ্রেক্ষিতে অচিরেই তিনি কঠোর আইন তৈরি ও তার প্রয়োগ করবেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই ঘোষণায় যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত অভিবাসী মাত্রের মধ্যেই আতংক ছড়িয়ে পড়েছে।
বলার অপেক্ষা রাখে না, এমন একটি ভীতিকর ও অনিশ্চিত পরিস্থিতি তৈরির পেছনে প্রধান ভূমিকা রেখেছে বোমা বিস্ফোরণ ঘটানোর অভিযোগে অভিযুক্ত বাংলাদেশী যুবক আকায়েদ উল্লাহ। বিষয়টি এখনো তদন্তাধীন রয়েছে বলে চূড়ান্ত কোনো অভিমত প্রকাশ করার পরিবর্তে সাধারণভাবে বলা দরকার, সে যদি সত্যিই বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে থাকে কিংবা কোনো দিক থেকে সে যদি ঘটনার জন্য দায়ী হয়ে থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া উচিত। ইসলাম সন্ত্রাসকে জঘণ্য অপরাধ বলে মনে করে এবং বাংলাদেশ সব রকম সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে।
আমরা আশা করতে চাই, মার্কিন সরকার বিষয়টি অনুধাবন করবে এবং বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঢালাওভাবে অভিবাসী বিরোধী কোনো পদক্ষেপ নেয়া থেকে বিরত থাকবেন। অভিযুক্ত যুবক আকায়েদ সত্যি অপরাধী বলে প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে গৃহীত আইনানুগ ব্যবস্থার ব্যাপারে সমর্থন জানাবে। লক্ষ্য রাখতে হবে, আকায়েদের অপরাধের জন্য যাতে নিরপরাধীরা ভুল সিদ্ধান্তের শিকার না হন। কোনো একজন বা কয়েকজনের ভুল বা অপরাধের জন্য একটি দেশ বা একটি জাতিকে দায়ী করা যায় না।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ