সোমবার ১৩ জুলাই ২০২০
Online Edition

থ্রি-জিন প্রযুক্তি ব্যবহার করে রোগ প্রতিরোধী আলুর জাত উদ্ভাবন

গাজীপুর সংবাদদাতা : থ্রি-জিন প্রযুক্তি ব্যবহার করে নাবিধ্বসা রোগ প্রতিরোধী আলু জাত উদ্ভাবনের লক্ষ্যে ‘ফিড দি ফিউচার বায়োটেকনোলজী পটেটো পার্টনারশীপ’ প্রকল্পের উদ্ভোধনী অনুষ্ঠান বুধবার সকালে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সচিব দায়িত্বে) মোহাম্মদ নজমুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন কৃষি মন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, থ্রি-জিন জিএম আলু কৃষকদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এতে কোন ঔষধ স্প্রে করতে হয় না। তাতে পরিবেশ ও কৃষকের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বহুলাংশে কমে যাবে। থ্রি-জিন জিএম আলু সম্পূর্ণ শঙ্কামুক্ত।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. ভাগ্য রানী বণিক এবং বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. আবুল কালাম আযাদ।
বক্তব্য রাখেন এফটিএফ প্রোগ্রাম লিড ইউএসএআইডি অফিসের ডেভিড ওয়েস্টারলিংক। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আমেরিকার মেশিগান স্টেট ইউনিভার্সিটির প্রকল্প পরিচালক ড. ডেভিড ডুছেস।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিএআরআই এর পরিচালক (কন্দাল ফসল গবেষণা কেন্দ্র) ড. তপন কুমার পাল। এছাড়া বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীবৃন্দ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ, কৃষক প্রতিনিধি এবং এনজিও প্রতিনিধিসহ প্রায় ৩৫০ জন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধের উপর মোট ৫ জন বক্তব্য রাখেন। বক্তরা সকলে এ দেশে আলুর গুরুত্ব, বর্তমান চাষাবাদ অবস্থা, বীজের তথ্য, হিমাগারে আলু সংরক্ষণ, বাজারজাতকরণ প্রক্রিয়াজাতকরণ, রোগ-বালাইসহ সকল বিষয় সঠিকভাবে তুলে ধরেন। আলু চাষে নানাবিধ সমস্যার মধ্যে আলুর নাবিধ্বসা রোগটি সবচেয়ে মারাত্মক। এ রোগটি আলু মাঠে দেখা দেয়ার সাথে সাথে ব্যবস্থা না নিলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মাঠের সকল ফসল নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এ দেশের আলু চাষিরা এ রোগটি নিয়ে সব সময় চিন্তায় থাকেন। তাই, আলু গাছ ২৫-৩০ দিন বয়সের হলে পরেই দামী ছত্রাকনাশক ছিটাতে আরম্ভ করেন। আলু চাষিরা ৭-৮ বার আলু জমিতে স্প্রে করে থাকে। শুধু নাবিধ্বসা রোগ দমনের ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে মোট উৎপাদন খরচের প্রায় ২৫-২৮ শতাংশ খরচ হয়। বাংলাদেশের আলু চাষিরা এ রোগটি দমন করতে প্রায় ১০০ কোটি টাকার ছত্রাকনাশক স্প্রে করে থাকে। এ রোগটি দমনের বিষয়ে আলু চাষিরা সব সময় উদ্বিগ্ন থাকেন। ১০০ কোটি টাকার ঔষধ ছিটানোর ফলে বায়ু, পরিবেশ, মাটি, পানি ইত্যাদি মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। কৃষকের জীবন মারাত্মক হুমকির সম্মুখীন।
এতগুলো সমস্যা মোকাবেলায় বক্তারা জিএম আলু ব্যবহারের উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। অনেকে এটি জিএম আলু বলতে নারাজ। কারণ থ্রি-জিন আলুর তিনটি জিন আনা হয়েছে আলু পরিবারের বন্য গাছ থেকে। শুধু জিনগুলো ব্যাক্টেরিয়ার মাধ্যমে আনা হয়েছে বিধায় জিএম আলু বলা হয়। আলু পরিবারেরই গাছ থেকে জিনগুলো আনা হয়েছে বিধায়, জিএম হিসাবে মানুষের মনে যে সংশয়, তা থেকে শঙ্কামুক্ত থাকতে পারেন। বক্তারা জিএম আলুর ব্যবহারের উপকারিতা, মূল্যায়ন ও নিরাপদ বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।

অনলাইন আপডেট

আর্কাইভ